স্বাস্থ্যকথা

(Page 2 of 5)   « Prev  1  
2
  3  4  5  Next »
টিউমার/ক্যান্সারের কারণঃ হ বংশগত/ জেনেটিকঃ বাবা, মা, খালা কারো ক্যান্সার/ টিউমার থাকলে তাদের সন্তানদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি; যেমন-ব্রেষ্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার।
বিশ্বজুড়ে অক্টোবর মাসটি ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস’ হিসেবে পালিত হয়। আমাদের বাংলাদেশেও বিভিন্ন সংস্থার আয়োজিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন পোস্টার, লেখালেখি ও টিভি অনুষ্ঠানে নানাভাবে এর প্রতি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ক্যান্সার চিকিৎসা ও প্রতিরোধ বিষয়ে কাজ করছে, এমন সংস্থাগুলোর অনুষ্ঠানে একটি গোলাপি রিবনের ছবি ও প্রতিকৃতি দেখা যায়। এটি স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসের প্রতীক। ১৯৮৫ সালে প্রথম স্তন ক্যান্সার সচেতনতা কানাডায় সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে মাসব্যাপী এ কার্যক্রমটি ছড়িয়ে পড়ে। এর মূল ও মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল-তরুণ, বৃদ্ধ, চিকিৎসক, সেবিকা, শিক্ষক, ছাত্র, কর্মজীবীসহ সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টি।
ব্রেস্ট বা ও মেয়েদের মাতৃত্ব ও সৌন্দর্যের প্রতীক শৈশব থেকে নারীত্ব এই সময়ের মধ্যে পূর্ণতা লাভ করে। নারীর এই স্তন ক্যান্সার মরণব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে যে কোন সময় এবং সচেতন না হলে কেড়ে নিতে পারে আপনার মহামূল্যবান প্রাণ।
বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ কোটি লোক দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত। আগামী ২০১০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪০ কোটিতে উন্নীত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বাংলাদেশেও প্রায় ১ কোটি লোক ক্রনিক হেপাটাইটিস বি রোগে ভুগছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অনেকে সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর, লিভার ক্যানসারের মতো মারাত্মক লিভার রোগে আক্রান্ত হবে, যা তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ক্রনিক হেপাটাইটিস বি রোগীদের মধ্যে কারা এসব মারাত্মক পরিণতির শিকার হবে তার ভবিষ্যদ্বাণী করা খুবই কষ্টকর।
প্রায় ৩০ শতাংশ নারী আক্রান্ত হচ্ছে জরায়ুমুখের ক্যান্সারে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও দেশে মোট ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর মধ্যে ২২ থেকে ২৯ শতাংশই জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, জরায়ুমুখের আবরণীর কোষগুলোতে বিভিন্ন পরিবর্তন ধীরে ধীরে ক্যান্সারে রূপ নিতে অনেক সময় ১০-১৫ বছর পর্যন্তও সময় লাগে। তাই প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগটি চিহ্নিত করার জন্য নিয়মিত জরায়ুমুখ পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্বে পাকস্হলীর ক্যান্সারে মৃত্যুর হার অধিক। সৌভাগ্যের বিষয় হলো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে গ্যাষ্ট্রিক ক্যান্সারে মৃত্যুর হার কমতে শুরু করেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতি বছর ৬ লাখ ২৮ হাজার লোক গ্যাষ্ট্রিক ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে। বিশ্বে গ্যাষ্ট্রিক ক্যান্সারের হার জাপানিদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি। কোরিয়া, রাশিয়া, উত্তর আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকায় এই রোগ দেখা যায়। তবে এটি এমন একটি মারাত্মক ব্যাধি যা বিশ্বের সব মানুষের মাঝে দেখা যায়। কোনো কোনো জাতির মধ্যে এই রোগ অধিক, কোনো কোনো জাতির মধ্যে এই রোগের হার খুবই কম।
যেহেতু সিগারেট-এর তামাক পাতায় এমন সমস্ত বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে সেইহেতু যারা ধূমপান করেন তারা অধূমপায়ীদের তুলনায় নাকের ঘ্রাণ ও জিহবার স্বাদ কম অনুভব করেন। যতই তারা ধূমপানে আসক্ত হতে থাকেন ততই ধূমপায়ীদের ঘ্রাণ ও স্বাদ গ্রহণের স্বাভাবিক শক্তি হারাতে থাকেন এবং তিতে, নোন্‌তা ও মিষ্টি খাবারের স্বাদ কম অনুভব করেন। ফলশ্রুতিতে ধূমপায়ীরা অধিক লবণ খেতে শুরু করেন এবং উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন-এর শিকার হন।
‘আপনি কি নম্বর ১২’ ‘আমি কি নম্বর ১২’-এই অভিযান ইতিমধ্যে ৫৫টি দেশে সাড়া জাগিয়েছে। উঁচুদরের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে সিডনি থেকে সার্বিয়া, বেইজিং থেকে বুয়েনস এইরেস। বিশ্ব হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্সের সভাপতি চার্লস গোর বলেছেন, “যেখানে ক্রনিক হেপাটাইটিসে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ১৫ লাখ মানুষ, একে তো অবহেলা করা চলে না। ‘আমি কি নম্বর ১২’ অভিযানের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে ১৯ মে আমরা হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’-কে বিশ্বজনীন স্বাস্থ্য পরিচর্যা এজেন্ডার মধ্যে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।” হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ রোগে প্রতিবছর ১•৫ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
১৯ মে সারা বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হলো বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বে প্রতি ১২ জনে একজনের রয়েছে হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’। অথচ অধিকাংশই লোকই জানে না যে তাদের এ রোগ রয়েছে। এই পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে সবাইকে জানতে হবে হেপাটাইটিস সম্পর্কে, সচেতন হতে হবে এ রোগের বিষয়ে। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্যকুশল-এর এই বিশেষ আয়োজন।
মানুষের শরীর অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোষ দিয়ে তৈরি। এসব কোষ তাদের সঠিক কার্যক্রম দ্বারা আমাদের জীবন নামক যন্ত্রটাকে বাঁচিয়ে রাখে। কোষযন্ত্রের এই স্বাভাবিক কার্যক্রমের কারণেই শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক কাজ সম্পাদন করে। কিন্তু একাধিক কারণে হঠাৎ কোনো কোনো কোষে দেখা যায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন। যার ফলে কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে সংখ্যায়ও দ্রুত বাড়তে থাকে। এই বৃদ্ধি স্বাভাবিক বৃদ্ধি নয়।
(Page 2 of 5)   « Prev  1  
2
  3  4  5  Next »

Categories