স্বাস্থ্যকথা

(Page 3 of 5)   « Prev  1  2  
3
  4  5  Next »
হার্ভাডের সাম্প্রতিক এক গবেষণা তথ্যে জানা যায় ‘ব্রকলী’ বাঁধাকপি ইত্যাদি ক্রুসিফেরী গোত্রভুক্ত সবজি মুত্রাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। বিজ্ঞানীরা পঞ্চাশ হাজারের মতোন পুরুষের খাদ্যাভাস পরীক্ষা করে দেখেছেন সপ্তাহে পাঁচ অথবা অধিক বার উল্লেখিত ক্রুসফেরী গোত্রভুক্ত সবজি গ্রহণ করেছেন এমন সংখ্যক লোকের মধ্যে মুত্রাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কম। বিজ্ঞানীদের মতে মুত্রাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্রকলী এবং বাঁধাকপি সব চেয়ে সুনির্বাচিত খাদ্য।
ক্যান্সার, বস্নাড ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগ নিয়মিত ফলমূল, শাক-সবজি ও তরিতরকারী গ্রহণের মাধ্যমে বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। অন্যদিকে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত চতুষ্পদ জন্তুর মাংস, ভাজা-পোড়া দ্রব্য, পুরাতন বা বাসি খাদ্য ভক্ষণ, নেশা জাতীয় পানীয় পান বা ধূমপান উল্লেখিত রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞের গবেষণায় জানা যায়, শুরুতে ক্যান্সার রোগ সৃষ্টির জন্য যে সকল রাসায়নিক পদার্থের প্রয়োজন হয়, বিশেষ বিশেষ খাদ্যসমূহ সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। যেমনঃ
হেপাটাইটিস-বি এক ধরনের ভাইরাস যা মুলত লিভারকে আক্রমণ করে। এর সংক্রমণের ফলে পৃথিবীর অন্যতম ঘাতক ব্যাধি লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার মতে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি বাহক এবং এদের ২০ শতাংশ লিভার ক্যান্সার ও সিরোসিসের কারণে মারা যেতে পারে। বাস্তবে হেপাটাইটিস-বি এইডসের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি সংক্রামক এবং প্রতিবছর এইডসের কারণে পৃথিবীতে যত লোক মৃত্যুবরণ করে তার চেয়ে বেশি মৃত্যুবরণ করে হেপাটাইটিস-বি’র কারণে।
খাদ্যনালীর ক্যান্সারের অবস্হানভেদে বিভিন্ন ক্যান্সারের নামকরণ হয়েছে। খাদ্যনালীর নিচের অংশ (সিকাম, কোলন, রেকটাম) ও পায়ুপথের ক্যান্সারকে কলোরেকটাল ক্যাসার হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশে এই ক্যাসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক, তবে কোনো পরিসংখ্যান নেই।
হেদায়েত সাহেবের বয়স চল্লিশের মতো। ভালো চাকরি করেন। হঠাৎ করে বেশ কিছু দিন যাবৎ তার শক্ত পায়খানা হচ্ছে, পায়খানায় দীর্ঘ সময় বসে থাকার পরও মনে হচ্ছে পায়খানা ঠিক ক্লিয়ার হচ্ছে না, তাকে খুবই বিষণ্ন মনে হচ্ছে, দিন দিন কেমন যেন শুকিয়ে যাচ্ছেন। পায়খানার সাথে রক্ত যায় কি না তাকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, খেয়াল করিনি, স্যার। তারপর তাকে পরীক্ষা করলাম, প্রোক্টোস্কোপি ও সিগময়ডোস্কোপি টেস্ট করলাম, তারপর দেখতে পেলাম তার কোলনে অর্থাৎ অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার।
ক্যাসারের কোনো উত্তর জানা নেই, সেটি প্রায় সবাই জানেন। কিন্তু ফুসফুসের ক্যাসার প্রতিরোধযোগ্য। এটা বলার উদ্দেশ্য হলো-এই রোগের কারণ জানা গেছে। সেটি হলো ধুমপান। ফুসফুসের ক্যাসার সত্যিই একটি বিপর্যয়কর এবং ঘাতক বক্ষব্যাধি। উন্নত দেশগুলোতে ক্যাসারের কারণে যে মৃত্যু ঘটে, তার মধ্যে ফুসফুসের ক্যাসার উল্লেখযোগ্য স্হান দখল করে আছে। প্রতি বছরই এর সংখ্যা বাড়ছে। শহরের বিষাক্ত ধোঁয়া ক্যাসার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নতির পরও এ কথা সত্য যে গ্যারান্টি দিয়ে কোনো রোগেরই চিকিৎসা করা যায় না। অথচ আমাদের দেশে অনেকেই গ্যারান্টি দিয়ে ক্যান্সার সারানোর কথা বলে থাকে। শৌচাগার, স্টেশনের আনাচে-কানাচে, লাইট পোস্ট ও গাছের গায়ে গ্যারান্টি দিয়ে ক্যান্সার সারানোর প্রতিশ্রুতি সংবলিত মিনি সাইনবোর্ড অনেকেরই চোখে পড়ার কথা। এ ছাড়া রাস্তাঘাটে এসবের ওপর প্রচুর লিফলেটও বিলি করা হয়।
রেকটাম বা মলাশয় ক্যান্সার হলে প্রচলিত অপারেশন হচ্ছে রেকটাম বা মলাশয় ও মলদ্বার কেটে ফেলে পেটে Colostomy বা কৃত্রিম মলদ্বার বানিয়ে সেখানে ব্যাগ লাগিয়ে দেয়া, যার মধ্যে সব সময় মল জমা হবে এবং রোগী মাঝে মধ্যে এটি পরিষ্কার করে নেবেন। তার স্বাভাবিক মলদ্বার থাকবে না এবং সারা জীবন ওই পথে আর পায়খানা হবে না। কিন্তু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফলে এখন স্বাভাবিক মলদ্বার রেখেই ক্যান্সারটি অপসারণ করা যায়। রোগী স্বাভাবিক পথেই পায়খানা করতে পারবেন। এ প্রযুক্তির ফলে ৭০-৮০% রেকটাম ক্যান্সার রোগী উপকৃত হবেন।
রেকটাম বা মলাশয় ক্যান্সার হলে প্রচলিত অপারেশন হচ্ছে রেকটাম বা মলাশয় ও মলদ্বার কেটে ফেলে পেটে Colostomy বা কৃত্রিম মলদ্বার বানিয়ে সেখানে ব্যাগ লাগিয়ে দেয়া, যার মধ্যে সব সময় মল জমা হবে এবং রোগী মাঝে মধ্যে এটি পরিষ্কার করে নেবেন। তার স্বাভাবিক মলদ্বার থাকবে না এবং সারা জীবন ওই পথে আর পায়খানা হবে না। কিন্তু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফলে এখন স্বাভাবিক মলদ্বার রেখেই ক্যান্সারটি অপসারণ করা যায়। রোগী স্বাভাবিক পথেই পায়খানা করতে পারবেন। এ প্রযুক্তির ফলে ৭০-৮০% রেকটাম ক্যান্সার রোগী উপকৃত হবেন।
চিকিৎসার আগে রোগের পর্যায় নির্ণয় জরুরি ছেলেটির বয়স মাত্র নয় বছর। গত মাসে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি হয়েছে প্রচণ্ড পেটব্যথা নিয়ে। দুই দিন হলো পায়খানা হচ্ছে না। একদিন প্রস্রাব আটকে যায় সকাল থেকে। কিছু খেলেই পেটব্যথা করে তাই কিছু খেতে পারছে না। পেট ফুলে গেছে। গায়ে জ্বর, সঙ্গে সারা শরীর ব্যথা। তার মায়ের কাছ থেকে জানা গেল, গত বছর ডিসেম্বরে এ রকম ব্যথা হওয়ায় ছেলেটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ব্যথা ছিল শুধু তলপেটের ডান দিকে। তখন পেটের সেই স্থানে চাকা অনুভূত হয়েছিল। আলট্রাসনোগ্রাফিতে চাকাটি অ্যাপেনডিক্সজনিত বলায় তখন চিকিৎসকেরা অপারেশন করেননি। শুধু ওষুধে ভালো হয়ে যাওয়ায় ছয় সপ্তাহ পর যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পয়সা না থাকায় ছয় সপ্তাহ পর চিকিৎসকের কাছে আনা যায়নি।
(Page 3 of 5)   « Prev  1  2  
3
  4  5  Next »

Categories