স্বাস্থ্যকথা

খাদ্য ও পুষ্টি

(Page 4 of 6)   « Prev  2  3  
4
  5  6  Next »
বাল্য ও কৈশোর এ দুটো সময়ই শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। জন্মের পর থেকেই ছোট শিশুটির যে দ্রুত বর্ধন প্রক্রিয়া আমরা দেখি তা ১৮-১৯ বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। সুতরাং এ সময়টাতে শিশুর দেহে পুষ্টির চাহিদা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে বেশি থাকে। এ সময়টাতে মানসিক বিকাশ পূর্ণভাবে বিকশিত হয় না যার ফলে সে এ বয়সটাতে নিজেকে নিয়ে খুব একটা সচেতন থাকে না এবং সে তার শরীরের নূন্যতম পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে ব্যার্থ হয়। যার ফলে শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়, নানারকম সংক্রামক রোগের শিকার হয় এবং অনেক সময় তাকে সমস্ত জীবনই রুগ্ন ও দুর্বল দেহের বোঝা বয়ে বেড়াতে হতে পারে।
তরমুজ শুধু তৃষ্ণা মেটায় তাই নয় তরমুজে স্বাস্থ্যপ্রদ মূল্যবান উপাদান রয়েছে। তরমুজে লাইকোপিন নামীয় উপাদান প্রোস্টেট এবং সার্ভিকাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া তরমুজে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে যা চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তরমুজে ভিটামিন ‘সি’ ও যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান এবং তা রোগ সংক্রমণে বাধা দেয় এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ************************** দৈনিক ইত্তেফাক, ৭ জুন ২০০৮
সারাদিন কাজ আর কাজ, উদয়া‘ খাটুনি, হাতে সময় নেই, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অগ্রাধিকার পায় না। কোনও কোন দিন অনেক বেলা ভরপেট খাওয়া হয় না, চটজলদি হালকা নাস্তা হয়। তবে নাস্তাটি স্বাভাবিক হলেই হলো। দু’বেলা আহারের মধ্যে যদি ক্ষুধা লাগে, তাহলে শরীরে পুষ্টি চাই, বোঝা গেলো। তাই ক্ষুধা মেটাতে কিছু একটা মুখে দিতে হয়। উল্টোপাল্টা নাস্তা খেলে কিন্তু সমস্যা। নাস্তায় যদি বেশি চর্বি ও শর্করা থাকে তাহলে রক্তে পরবর্তীতে কোলেস্টেরোল বাড়ে, ওজন বাড়ে শরীরে, পরবর্তীতে হতে পারে নানা জটিলতা যেমন হৃদরোগ, উঁচুমান কোলেস্টেরোল এবং ডায়েবেটিস।
ধমনীর প্রধান শত্রু কোলেস্টেরল। কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ হিসাবে ‘স্ট্যাটিন’ (যেমন-সিমভাস্ট্যাটিন, প্রাভাস্টাটিনঃ) খুবই উল্লেখযোগ্য। বরার্ট উড জনসন মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা থেকে জানা যায় যে, এই ‘স্ট্যাটিন’-এর সাথে তন্তু জাতীয় খাবার উপকারী। এতে করে কোলেস্টেরল হ্রাস করা সহজ।
ডির্ক টোবার্ট নামে ইউনিভার্সিটি হসপিটাল জার্মানির একজন গবেষক প্রমাণ করেছেন যে, পলিফেনল সমৃদ্ধ কালো চকোলেট রক্তচাপ কমায়। টোবার্ট ৫৬ থেকে ৭৩ বছর বয়স্ক ৪৪ জন রোগী বাছাই করেন তাদের রক্তচাপ বেশি ছিল। এছাড়া তাদের অন্য কোন রোগ ছিল না।
মূলতঃ শর্করা জাতীয় খাবারের জন্যই খাদ্য হিসেবে আলু ও ভাত আমাদের কাছে সমাদৃত। ছোলাহ সহ ১০০ গ্রাম আলুতে থাকে ৮০ ক্যালরী। শর্করা ১৯ গ্রাম, পানির পরিমাণ ৭৫ গ্রাম, আমিষ ২ গ্রাম, চর্বি ১০ মি• গ্রাম• ফাইবার ২•২ গ্রাম। আলুতে ভিটামিন সি বেশী-২০ মি• গ্রাম/ ১০০ গ্রাম, থায়ামিন, রিবফ্লেভিন, নায়াসিন, বি-৬, যথাক্রমে-০•০৮, ০৩, ১•১ ও ২৫ মি• গ্রাম। ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস যথাক্রমে ১২, ১•৮, ২৩, ৫৭ মি• গ্রাম। পটাশিয়াম বেশী ৪২১ মি• গ্রাম, সোডিয়াম ৬ মি• গ্রাম। আলুর চোচায় খাদ্যের প্রয়োজনীয় আঁশের প্রায় অর্ধেক থাকে। ৫০% এর বেশী খাদ্য উপাদান মূল আলুতে থাকে। অধিকাংশ আলুর খাবারই গরম পরিবেশিত হয়, যা অধিকতর স্বাস্থ্যসম্মত।
ভেতো বাঙালি বলে আমাদেরকে যতই উল্লেখ করা হোক এখানে সেখানে, পৃথিবীর নানা দেশের অসংখ্য লোক কিন্তু ভাত খায়। তবে পরিমাণে কম খায়। আর ভাত এতো ভালো শ্বেতসার আর এতো সহজপাচ্য যে এর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু বিশ্বজুড়ে চালের দাম যে বেড়েই চলেছে এমন অবস্থায় কেবল ভাতের উপর নির্ভর করে বসে থাকা কি ভালো? সবাই এখন বিকল্প শ্বেতসার খুঁজছেন, যোগও করছেন খাবারে। আমাদেরও বসে থাকা কেন?

নিয়মিত ফাস্টফুড গ্রহণ যে স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর নয়, এ ব্যাপারে অনেক লেখাজোখা হয়েছে। এক নামকরা জার্নাল এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় একটি গবেষণা ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে-যাতে দেখা গেছে, খুব বেশি ফাস্টফুড খেয়ে এবং শরীরচর্চা না করে থাকলে যকৃতের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। ১৮ জন ক্ষীণদেহ লোককে (১২ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী) চার সপ্তাহ ফাস্টফুড খাওয়ানো হলো, অন্যদিকে তুলনামূলক দলের লোকদের দেওয়া হলো স্বাভাবিক খাবার। যেসব লোক ফাস্টফুড খেল তারা শরীরচর্চাও করল খুব কম, দিনে পাঁচ হাজার পদক্ষেপের বেশি তারা হাঁটেনি এবং তারা অন্তত দুই বেলা ফাস্টফুড পেটভরে খেল বাইরের রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন।

নানা ধরনের রোগ থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হচ্ছে নিয়মিত ফলমূল খাওয়া।

কেন ফল খাওয়া প্রয়োজন
ফলে উপাদানের মধ্যে মন্দ কোলেস্টেরল থাকে না, যা থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাংস বা প্রাণিজ আমিষে মন্দ কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটাই বেশি থাকে। যাঁদের বংশে হার্টের রোগ আছে বা যাঁরা মেদস্থূলতায় ভুগছেন, তাঁদের খাবারের তালিকায় ফল থাকাটা জরুরি। লেবুজাতীয় ফল ছাড়াও হলুদ কমলা ও লাল রঙের ফল বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত।


আমরা খাবার খাই শক্তির (ক্যালরি) জন্য। আলু ও ভাতের ক্যালরি মূলত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা থেকে। এই শর্করা মূলত কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট। খাদ্যনালিতে ধীরে হজম হয়, রক্তে প্রবেশ করে আস্তে আস্তে, রক্তের গ্লুকোজ তাই দ্রুত বাড়ায় না।

(Page 4 of 6)   « Prev  2  3  
4
  5  6  Next »

Categories