স্বাস্থ্যকথা

চক্ষু

(Page 1 of 3)   
« Prev
  
1
  2  3  Next »
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। ভবিষ্যত এই প্রজন্মের সুস্থতার উপর দেশ ও দশের এগিয়ে যাওয়া অনেকাংশে নির্ভরশীল। শারীরিক ও মানষিক সুস্থতার পাশাপাশি চোখের সুস্থতাও সমান গুরুত্ব বহন করে। গুরুত্বঃ দৃষ্টিহীন শিশুকে অন্যের উপর নির্ভর করে সারাজীবন কাটাতে হয়। এতে দেশ দুই জন মানুষের পূণর্াঙ্গ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়াও পর নির্ভরশীলতার কারণে শিশু মানষিকভাবেও বির্পযস্ত হয়ে পড়ে।
পরীক্ষা আসার সময় হলে ছেলের মাথাব্যথা বাড়ে। দূরের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে। ক্রিস্টিনা ছেলের জন্য টিউটর রেখেছেন। ছেলেকে কোচিং সেন্টারেও দিয়েছেন। পরীক্ষার ঠিক আগে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। ডাক্তার পরিচিত, চোখের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। প্রতিবারই চেতনাকে গ্লাস বদল করতে হয়। চেতনা চতুর্থ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে চশমা নিয়েছিল। ওই সময় ছেলের লেন্সের পাওয়ার ছিল -০.৫০ ডিএস। সে এখন ক্লাস সেভেনে পড়ছে। ইতিমধ্যে চোখের চশমার পাওয়ার বেড়ে তা দাঁড়িয়ে -৭.০ ডিএসে। চশমার পাওয়ারের এ ধরনের ক্রমাগত বাড়তিভাব দেখে ক্রিস্টিনা খুব টেনশনে রয়েছেন। স্বামীকে তাঁর দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেনও। স্বামী ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। সময় নেই ছেলেকে নিয়ে চিকিত্সকের পরামর্শের জন্য চেম্বারে যাওয়ার। ক্রিস্টিনা সমস্যার কথা বললেই বলেন, ‘চিকিত্সকের কাছে যাও। চোখের পাওয়ার পরীক্ষা করিয়ে নাও।’

কম আলোয় পড়া ক্ষতিকর

কম আলো ও বেশি আলোয় দেখার জন্য চোখের স্নায়ুকোষ আছে। এদের নাম রড কোষ ও কোন কোষ। একেবারে আলোহীন অবস্থায় কিছু দেখা যায় না। কম আলোয় বা আধো অন্ধকারে রেটিনার রড কোষগুলি আমাদের দেখার কাজে সাহায্য করে। তবে সাধারণ দেখা আর পড়ার দেখার মধ্যে পার্থক্য আছে। পড়ার সময় অক্ষরের চেহারাগুলি স্পষ্ট হওয়া দরকার। কোনো জিনিসকে ভালো ভাবে দেখার জন্যও এটা প্রয়োজন। যা দেখছি বা পড়ছি তার সীমারেখা খুব পরিষ্ড়্গার হওয়া নির্ভর করে আলোর উপর। আর আলো কম হলে চোখ ‘একোমোডেশান’ নামে চোখের এক বিশেষ ক্ষমতাকে কাজে লাগায়। কম আলোয় পড়লে রেটিনার রড কোষ কাজ করলেই হবে না, প্রয়োজন হবে বেশি একোমোডেশানের। বেশি দিন একটানা একোমোডেশানের উপর বেশি চাপ পড়লে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। তাই কম আলোয় বেশি দিন পড়া উচিত নয়।

**************************
দৈনিক ইত্তেফাক, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০।
বস্তু থেকে সমান্তরাল আলোক রশ্মি চোখের কর্ণিয়া বা কালো রাজার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বেঁকে যায় এবং চোখের লেন্সের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় দ্বিতীয় বার বেঁকে চোখের রেটিনায় বস্তুর প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে বিধায় আমরা ওই বস্তুটি দেখতে পাই। আলোক রশ্মির এই পথ যদি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে যে কোন গঠনগত পরিবর্তন বা কোন রোগ যদি না থাকে সে ক্ষেত্রে চশমা দিয়ে সে দৃষ্টির উন্নয়ন সম্ভব। তখন সেটাকে রিফ্রাকটিভ ইয়ব বা পাওয়ার জনিত দৃষ্টি স্বল্পতা বলা হয়। এটি সাধারণত চার ধরনের হয় মায়োপিয়া (ক্ষীণদৃষ্টি), হাইপারোপিয়া (দূরদৃষ্টি), প্রেসবায়োপিয়া বা চালশে এবং অ্যাসটিগমেটিজম।
চোখ সুস্থ রাখতে হলে দরকার অতি প্রয়োজনীয় উপাদান ভিটামিন ‘এ’। নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় ‘এ’ ভিটামিনযুক্ত খাবার অবশ্যই থাকা উচিত। সঠিক পরিমাণে এই ভিটামিনযুক্ত খাবার না খেলে রাতকানা রোগ এবং চোখের অন্যান্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ভিটামিন ‘এ’-এর প্রধান উৎস প্রাণীজ প্রোটিন যেমন যকৃত, ডিমের কুসুম, দুধ, মাখন, পনিরও মাছ। ছোট মাচ বা মলা, ডেলা, পুঁটিমাছ খেলে চোখ ভার থাকে, রাতকানা রোগ হয় না এ কথা ছোট বেলায় সকলেই শুনে থাকে। সস্তা এবং সহজলভ্য রঙিন ফলমূল শাকসবজি থেকেও প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়।
বাতরোগ হল হাঁড় এবং মাংসপেশী সম্পর্কিত। এর সাথে আবার চোখের সম্পর্ক কোথায়? ভাবতেই অবাক লাগছে তাই না? শরীরের এমন অনেক রোগ আছে যাতে চোখের সমস্যাও একটা প্রধান ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
এই রোগ কি? আমাদের চোখের সামনের অংশে যে গোলাকার কালো অংশ দেখা যায়, তাকে কালো রাজা বা কর্নিয়া বলা হয়। কোন কারণে কর্নিয়ার প্রদাহ এবং পরবর্তীতে ঘা তৈরি হওয়াকে কর্নিয়াল আলসার বা কালো রাজার প্রদাহ বলা হয়।
হালিমা খাতুন (ছদ্মনাম) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পঞ্চাশের ওপর বয়স। এ বয়সেই তাঁর চোখে ছানি পড়েছে। ফলে ঠিকমতো কাজকর্ম করতে পারেন না। তিনি জেনেছেন ছানি রোগের ভালো চিকিৎসা হচ্ছে আজকাল। আগের মতো আর অপারেশনের পর দুই দিন সটান শুইয়ে রাখা হয় না। এরপর মাস দেড়েক পর মোটা কাচের চশমা ব্যবহার করতেও হয় না। আগে হাজার পাওয়ারের ওপরে, ওই চশমা হারিয়ে গেলে নতুন চশমা না নেওয়া অবধি অচল থাকতে হতো। আজকাল আর এসব নেই। চোখে অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম লেন্স সংযোজন করা হয়। ফলে রোগী অস্ত্রোপচার সম্পন্নের দিন থেকেই দেখতে শুরু করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক দিনের মতো চোখ ঢেকে রাখা হয়, পরের দিন থেকেই দৃষ্টি লাভ! কৃত্রিম লেন্স সংযোজনের দরুন পুরোপুরি দৃষ্টিপ্রাপ্তি সম্ভব। অর্থাৎ তরুণ বয়সের দৃষ্টিশক্তির মতোই দৃষ্টিশক্তি পাওয়া যায়। হালিমা খাতুন এসব জেনেই এসেছেন ছানির অপারেশন করাতে।
সরকারি সেবা বাড়ানো প্রয়োজন ‘আমি কোনো পাপ করি নাই, আল্লাহ আমার কপালে লিখছে, তাই দুই ছেলেই অন্ধ হইয়া জ্ন নিছে।’ এভাবেই নিজের মনকে শান্ত রাখেন জুবাইদা নাসরিন। পাবনার ভেলুপাড়া গ্রামের নাসরিন জানান, তাঁর দুই ছেলেরই জ্ন হয়েছে জ্নগত ছানি নিয়ে। বড় ছেলের বয়স ১২ ও ছোট ছেলের তিন। বড় ছেলের চোখের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে দৌড়াদৌড়ি করে লাভ হয়নি। শুধু নাসরিন নন, আরও হাজার হাজার মা সন্তানের অন্ধত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
আমাদের চোখ কোনো জিনিসের ছবি তুলে স্মায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠিয়ে দেয়। মস্তিষ্ক তখন বলে দেয় এটা কিসের বা কার ছবি বা এটির রং, আকৃতি কেমন। যদি এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে বুঝতে হবে, চোখে সমস্যা আছে। অলস চোখ বা এমব্লায়োওপিয়া চোখের একটি মারাত্মক রোগ, যা প্রধানত শিশুর চোখের ছবি গ্রহণের ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। ফলে শিশুটি ওই চোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পায় না। যদি নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে শিশুটির দৃষ্টিশক্তি আর কখনোই ফিরে আসে না।
(Page 1 of 3)   
« Prev
  
1
  2  3  Next »

Categories