স্বাস্থ্যকথা

ত্বক

(Page 1 of 3)   
« Prev
  
1
  2  3  Next »
কসমেটিকঃ ডার্মাটোলজি-২ আজকাল নানা চটকদার বিজ্ঞাপন, প্রচারনা দেখে বেশীরভাগ নারী-পুরুষ, তরুণী-ছাত্রীরা নানা ভাবে বিভ্রা- হচ্ছেন। অনেকে প্রশ্ন করেন ডাক্তার সাহেব ত্বক কি ফর্সা করা যায়। তাদের যুক্তি হচ্ছে টেলিভিশনে একাধিক লেজার সেন্টার ও এসথেটিক সেন্টার থেকে বলা হয় ত্বক ফর্সা করার যাদু আছে তাদের কাছে। আসলে এ ব্যাপারে আমার কাছে কোন সদুত্তর একেবারেই নেই। সম্প্রতি আমি এবং আমার বস দেশের সনামধন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম ইউ কবীর চৌধুরী গিয়েছিলাম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডার্মাটোলজি কনফারেন্স ‘আমেরিকান একাডেমী অব ডার্মাটোলজি মিটিং-এ’। পাঁচ দিনব্যাপী এই বিশাল কনফারেন্সে সারা বিশ্ব হতে ৫০ সহস্রাধিক বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য পেশার লোকজন অংশ নেন। এই কংগ্রেসে বিশ্বের বড় বড় লেজার কোম্পানীগুলোও অংশ নেয়। ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব ইচ্ছা ছিলো লেজার বা অন্যকোন টেকনোলজির মাধ্যমে ত্বক ফর্সা করা যায় কিনা তার খোজ নেয়া। সত্যিকথা বলতে ডার্মাটোলজিস্টদের সবচেয়ে বড় এই সম্মেলনে কোথাও একটি পেপারও পড়া হয়নি ত্বক ফর্সা করা নিয়ে। অধ্যাপক এম ইউ কবীর চৌধুরী স্যার এবং আমি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামীর সবচেয়ে বড় লেজার এন্ড কসমেটিক সেন্টারটিও ভিজিট করি। কোথাও ত্বক ফর্সা করার ব্যবস্থা নেই।
শীত আসলেই ত্বকে নানা সমস্যা দেখাদেয়। বিশেষ করে শিশুদের ত্বকে চুলকানি, খোসপাঁচড়া, একজিমাসহ নানা ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। আর বড়দের সমস্যার মধ্যে হাত পা ফেটে যাওয়া, মুখ ও ঠোঁটের শুষ্কতা বেড়ে যায়। আজ আমরা শীতে ত্বকের শুষ্কতা নিয়ে আলোচনা করব।
কিছু কিছু চর্ম রোগ আছে যা গরম এলেই দেখা দেয় আবার শীত এলে আপনা আপনিই কমে যায়। সে রকম দু’একটি রোগ নিয়ে আজ সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা যাক। যারা ঘামাচিতে ভোগেন তারা লক্ষ করে থাকবেন গরম চলে গেলে গামাচি চলে যায়। যারা দাউদে ভোগেন তারা দেখবেন গরম কাল এলেই তা বাড়তে থাকে এবং প্রচন্ড চুলকায়। যাদের শরীরে ছুঁলি হয় তারা লক্ষ করলে দেখবেন শীত এলে ছুঁলি আর দেখা যায় না। কিন্তু গরমকাল আসতে না আসতেই তা আবার ফুটে উঠতে থাকে। প্রথমত দাউদের কথায় আসা যাক, গরম এলে শরীরের ঘাম হয় এবং শরীর ভেজা থাকে। ফলে শরীরে ছত্রাক বা ফাংগাস জন্মায়।
বাংলায় আমরা যাকে ঘামাচি বলি তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Miliaria. এটি একটি ঘর্মগ্রন্থির রোগ। ঘর্মগ্রন্থির নালী অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও গরমে বন্ধ হয়ে এ রোগের সৃষ্টি করে। এ রোগটি গ্রীষ্মকালে দেখা যায় এবং শীতকাল এলে আপনা আপনিই ভালো হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালে দেহ থেকে প্রচুর পরিমাণ ঘাম নিঃসরণ হতে থাকে। ফলে তখন এত বেশি পরিমাণ নিঃসরণ কেবল ঘর্মগ্রন্থির ছিদ্রপথে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। ফলে ওই নিঃসরণ ঘর্মগ্রন্থিকে ছিদ্র করে ত্বকের নিচে এসে জমা হতে থাকে এবং সে স্থান ফুলে ওঠে। সেই সাথে থাকে প্রচণ্ড চুলকানি ও সামান্য জ্বালাপোড়া ভাব ও ছোট ছোট উদ্ভেদ­ এটাই মূলত ঘামাচি।
আজকাল ত্বকের যত্নের ব্যাপারে নারী-পুরুষ উভয়েই সচেতন হয়ে উঠেছেন। নানারকম ক্রিম, তেল, সাবান, ফেসওয়াশ, পাউডার ইত্যাদির বিজ্ঞাপন রেডিও, টিভি ও পত্রপত্রিকায় সবসময়ই প্রচারিত হচ্ছে। রঙ ফর্সা করা, কালো দাগ ও ব্রণ দূর করা কোনোকিছুই যেন আজকাল আর অসম্ভব নয়। অথচ ত্বকের সৌন্দর্য বা যত্নের ব্যাপারে আমাদের ধারণা অনেকাংশেই ভুল। স্বাস্থ্য সচেতন হলে ত্বক এমনিতেই সুন্দর থাকার কথা। আপনি যে সুস্থ আছেন সেটা আপনার চমৎকার ত্বক দেখেই বোঝা সম্ভব। সুন্দর ত্বক সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। সুষম খাদ্য গ্রহণ, প্রচুর পানি ও নিয়মিত ব্যায়াম, অধূমপায়ী হওয়া এসব সুন্দর ত্বকের পূর্বশর্ত।
ত্বকের গঠন অত্যন্ত জটিল। এ জটিলতম ত্বকে একাধিক কারণেও বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দেয়, এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্রণের সমস্যা। ব্রণ মূলত টিনএজারদের সমস্যা। এ বয়সে যখন মুখের সৌন্দর্যের প্রতি সবাই আকর্ষণ বোধ করে ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ঠিক সে বয়সেই মুখে এই বিশ্রী গোটাগুলো দেখা দেয়, যা তাদের অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ একটু সচেতন থাকলেই এ সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব।
মুখের লোম কিংবা তিল বা আঁচিল। চোখের পাতায় জমা চর্বি, ব্রনের ও মেছতার দাগ ইত্যাদি নিয়ে বিব্রত? এইসব সমস্যা নিয়ে বিব্রত হওয়ার কোনো কারণ নেই। লেজার ও ডার্মো সার্জারির মাধ্যমে খুব সহজেই এই সমস্যা সমাধান করা যায়। নিম্নে আলোকপাত করা হল।
শ্বেতী নিয়ে ভাবনা এখন আর ততটা নেই। একটা সময় অবশ্য ছিল যখন মানুষ শ্বেতী বা ধবল সমস্যাটাকে অন্য ১০টা রোগের মতো মনে করত। একে অভিশাপ মনে করত। একবার শুরু হলে বুঝি আর শেষ নেই। তাই এর নাম শুনলেই আঁৎকে উঠত। এমনকি শ্বেতী রোগীর সাথে ওঠা-বসা, চলাফেরা, বৈবাহিক বন্ধন থেকে বিরত থাকত। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিরলস সাধনায় অনেকটা নিরাময়যোগ্য ওষুধের আবিষ্কার হয়েছে।
গরমকালে বেশি ঘাম হয় এবং শরীর ভেজা থাকে। ঘাম এবং ভেজা শরীরে ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ছত্রাকজনিত চর্মরোগ যেমন দাউদ, ছুলি ও ক্যানডিডিয়াসিস বেশি পরিলক্ষিত হয় যা মূলত ত্বকের বাইরের অংশকে আক্রমণ করে যা স্যাঁতস্যাঁতে, নোংরা, ঘর্মাক্ত দেহে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
তকের যত্ন নিয়ে তরুণী-মহিলা-গৃহবধুদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। সবাই চান সুন্দর মসৃণ কোমল ত্বক। ঠিক যেন কিশোরীর মত। ত্বকের ধরন বুঝে সামান্য যত্ন এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া গেলে ত্বক বিবর্ণ হওয়া, ত্বকে বাদামী স্পট পড়া, ত্বক কালো বর্ণ ধারণকরা, ত্বক রুক্ষ হওয়া ইত্যাদি কিছু সাধারণ সমস্যা থেকে রক্ষা করা যায়। প্রয়োজন হয়না অত্যন্ত ব্যয়বহুল লেজার ও অন্যান্য কসমেটিক চিকিৎসা।
(Page 1 of 3)   
« Prev
  
1
  2  3  Next »

Categories