স্বাস্থ্যকথা

দাঁত ও মাড়ি

(Page 2 of 5)   « Prev  1  
2
  3  4  5  Next »
দাঁত আমাদের শরীরের একটি অপরিহার্য অংশ। তাই দাঁত থাকাটা খুবই জরুরি। দাঁত শুধু থাকলেই হবে না, থাকতে হবে সুস্হতা। কিন্তু কোনো কোনো সময় দাঁত অসুস্হ হয়ে পড়লে তখন দাঁতটি ফেলে দেয়া ছাড়া আর কোনো পথ আমাদের থাকে না। সুতরাং দাঁত ফেলে দেয়াটা দাঁতের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি মাত্র। বিভিন্ন কারণে দাঁত ফেলা যায়। সাধারণত দাঁত ভেঙে গেলে অথবা দাঁতে ক্ষয় অর্থাৎ টুথ ডিকে হলে দাঁত ফেলে দিতে হয়। আমাদের মুখে ৩২টির বেশিও দাঁত থাকতে পারে।
সমস্যাঃ আমার বয়স ২১ বছর। সমস্যা হলো, ওপরের পাটির দাঁতগুলোর একটি, লাইন ছেড়ে ভেতরের দিকে বেঁকে গেছে। বছর দুয়েক আগে আমি এক ডেন্টিস্টের কাছে যাই। তিনি আমার দাঁত দেখে বলেছিলেন, ভেতরের দাঁতের তুলনায় ওপরের ফাঁকা অনেক ছোট। সে জন্য দাঁতটি ওপরে উঠিয়ে আনা সম্ভব নয়। তিনি আমাকে বলেছেন ওপরের ফাঁকা জায়গায় ফিলিং করতে বা ভেতরের দাঁতটি উঠিয়ে ক্যাপ লাগাতে। আমি তখন দাঁতে ফিলিং করাই। এখন আমি দাঁতের ফিলিং রাখতে চাইছি না। আমি অন্য কোনোভাবে দাঁত ঠিক করতে চাই। আমার দাঁত কি অন্য কোনোভাবে ঠিক করা যাবে? সেটা কীভাবে? আর যদি দাঁত উঠিয়ে ক্যাপ লাগাই, তবে কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে? ক্যাপ লাগালে এটা কি দাঁতের মতো লাগবে এবং ক্যাপের স্থায়িত্বের কি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে? পরামর্শ দিলে উপকৃত হব।
আক্কেল দাঁত নামটির সাথে ছেলে বুড়ো কমবেশী সবাই পরিচিত। এই আক্কেল দাঁত আমাদের মুখে উপর-নিচ, ডানে-বামে মিলিয়ে মোট চারটি থাকে। আমাদের মুখে ২৮-২৫ বছর বয়সের মাঝে এই দাঁত আসে। আবার অনেক সময় অনেকের মুখে কোন আক্কেল দাঁত নাও আসতে পারে। তবে এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আক্কেল দাঁত থাকেই চোয়ালের একেবারে শেষ প্রান্তে। এই দাঁতটি উদ্‌গমের সময় অনেকেই বুঝতে পারেন না যে, তার মুখে আক্কেল দাঁত আসছে/এসেছে। আবার অনেকে এই দাঁত আসার আগেই বুঝতে পারেন কিছু কিছু সমস্যা হচ্ছে
সমস্যাঃ আমার বয়স ২৪ বছর। ওজন ৬০ কেজি। আমার দাঁতের মাঢ়িগুলো একটু ফোলা ফোলা হয়ে আছে। মনে হয়, যেন মাঢ়ি আলগা হয়ে যাচ্ছে। কোনো শক্ত খাবার খেতে গেলে মনে হয়, এই বুঝি দাঁত ভেঙে গেল। আমার মাঢ়ির বেশ কয়েকটি দাঁতে ডেন্টাল ক্যারিজ রয়েছে। দুই বেলা নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করার পরও মুখে দুর্গন্ধ হয়, যা ভীষণ বিব্রতকর। এ ছাড়া দাঁতের হলদেটে ভাবও রয়েছে।
০ প্রতিদিন অন্তত নিয়মিতভাবে দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন। ০• বছরে অন্তত দুইবার স্কেলিং করুন। ০• আপনার ব্যবহার করা ব্রাশটি মাসে অন্তত একবার হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার করুন।
অসচেতন ও অন্যমনস্ক হয়ে আমরা অনেকেই আমাদের দাঁতের অনেক ক্ষতি করে থাকি। এমন অনেকগুলো অভ্যাস আছে যা প্রত্যক্ষভাবে দাঁতের ক্ষতি না করলেও দাঁতের রোগ সৃষ্টিতে সাহায্য করে থাকে। এমনই একটি বদঅভ্যাস হচ্ছে ব্রুক্সিং, যাকে আমরা গাইন্ডিং বা ক্লিচিংও বলে থাকি। অসচেতন অবস্হায় উপরের ও নিচের দাঁত দিয়ে পরস্পরকে ঘর্ষণ করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে ব্রুক্সিং। সাধারণ অর্থে যাকে বলা হয় দাঁত কিড়মিড় বা দাঁত খিঁচানি। আমরা অনেকেই এক বা একাধিকবার এই ব্রুক্সিং করে থাকি। অন্যমনস্ক কোনো কারণে চিন্তিত কিংবা মেজাজ খারাপ থাকলে এটি আমরা বেশি করে থাকি। ঘুমন্ত অবস্হায় আমরা অনেকে ব্রুক্সিং বা দাঁত কিড়মিড় করে থাকি। এটিকে নাইট গ্রাইল্ডিং বলা হয়। ব্রুক্সিং আমাদের দাঁতের জন্য কতটা ক্ষতিকর আসুন তা ধাপে ধাপে জেনে নেয়া যাক।
ঝকঝকে সাদা দাঁত সবাই চায়। লালচে কিংবা হলদেটে দাঁত কেউ চায় না। সেজন্য খাবারে সামান্য পরিবর্তন আনা চাই। লাল মদ এবং পনিরকে সাদা দাঁতের শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। তারা বলেন যে, পনির একটি আঠালো জিনিস। এটি দাঁতে লেগে থাকে এবং লাল রং এর ওপর লালচে রঙের একটি সিল মেরে দেয়। আরো কয়েকটি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে।
সুন্দর দাঁত মানেই সুন্দর হাসি। সুন্দর হাসির জয়জয়কার সারা বিশ্বজুড়ে। সুন্দর দাঁত স্রষ্টার এক অমুল্য দান। সবার ক্ষেত্রে সুন্দর দাঁতের অধিকারী বা অধিকারিণী হওয়া হয়ে ওঠে না। তাই বলে কি দাঁত অসুন্দরই থেকে যাবে? না, স্রষ্টা নিজের সৃষ্টির অসৌন্দর্যের সমাধান মানুষের কাছেই দিয়ে দিয়েছেন। দাঁতের সৌন্দর্য রক্ষায় ডেন্টাল সার্জনদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ইস্হেটিক ডেন্টিস্ট্রি বা কসমেটিক ডেন্টিস্ট।
দাঁত ও মাড়ি থেকে জীবাণুরাশি (জীবানু-প্রলেপ) দূরীভূত রাখাই দাঁত ও মাড়ির সুস্থতার প্রধান চাবিকাঠি। এজন্য নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে। সুষ্ঠু ও সম্পূর্ণভাবে দাঁত পরিষ্কারের জন্য ব্রাশ, খিলাল, ফোসিং, কুলি করা ও মাড়ি মর্দন করা প্রয়োজন। তাছাড়া প্রতি ছয় মাস অন্তর একবার এবং মুখে ব্যথা, ঘা, বা রক্তক্ষরণ হলেই দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক স্কেলিং করতে উপদেশ দেবেন। দাঁতে পাথর জমলে বা মাড়িতে পকেট হলে অবশ্যই স্কেলিং দরকার।
হাসিতে যেন তার মুক্তো ঝরে। তার মুখের হাসি যেন পুর্ণিমার চাঁদ-হাসি নিয়ে এমনই কত যে উপমা আমরা দিয়ে থাকি তার কোনো হিসাব নেই। ছোটবেলার ফোকলা দাঁতের হাসি মায়ের মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। কিন্তু পরিণত বয়সে যখন নিজেকে সেই ফোকলা দাঁতের অনুভুতি নিয়ে হাসতে হয় তখন আর কষ্টের সীমা থাকে না।
(Page 2 of 5)   « Prev  1  
2
  3  4  5  Next »

Categories