স্বাস্থ্যকথা

নখ ও চুল

(Page 2 of 4)   « Prev  1  
2
  3  4  Next »
সুন্দর একমাথা চুল সবারই কাম্য। কিন্তু নানা কারণে বর্তমানে অনেকেরই চুল ঝরে যাচ্ছে। অনেক সময় রোগী এসে জিজ্ঞেস করেন কী কারণে চুল পড়ে। আসলে এক কথায় এর জবাব হয় না। আবার একেকজনের একেক কারণে চুল ঝরে। সাধারণত হরমোনের তারতম্য, রক্তস্বল্পতা, যেকোনো অসুখের পর ও প্রসবের পরে। মানসিক চাপ ও অন্যান্য ওষুধের কারণে চুল পড়তে পারে।
ত্বকের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত চুলের যত্ম নেয়া জরুরি। দৈনিক কিছু চুল স্বাভাবিকভাবে পড়ে যায় এবং একইভাবে কিছু চুল গজায়। কিন্তু চুল পড়া ও চুল গজানোর হারের সমতা যখন থাকে না তখনই চুল পাতলা হতে শুরু করে। দিনে ১০০টা চুল পড়লে তা স্বাভাবিক। অনেক রকম ইনফেকশন, বিভিন্ন রোগ, ওষুধের ব্যবহার এবং খাদ্যের ভিন্নতার কারণে সাধারণত চুল পড়ে। তবে ৯৫ ভাগ চুল পড়ার কারণ জিনগত বা বংশগত। এ অবস্হাকে বলা হয় অ্যানড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া এবং অ্যানড্রোজেন অর্থাৎ পুরুষ হরমোন এ সমস্যার জন্য দায়ী।
ছেলেদের চুল পড়া খুব স্বাভাবিক এবং বেশি বয়সে টাক পড়া কোনো ব্যাপার না। তবু যেন টাক পুরুষের আতঙ্কের কারণ। জুলিয়াস সিজার কিংবা নেপোলিয়ান সবাইকে এ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তারা চুল লম্বা রেখে তারপর টেনে সামনে আঁচড়াতেন টাক ঢাকার জন্য।
বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ বর্তমানে চুল পড়ার সমস্যায় আক্রান্ত। টিনএজার থেকে মধ্যবয়সী অনেকেরই চুল ঝরে যাচ্ছে। ছেলেদের মাথার সামনের দিকের চুল ফাঁকা হয়ে টাক দেখা দিচ্ছে। মেয়েদের বেণী চিকন হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু বর্তমানে অনেকেরই চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে, তাই নানা রকম বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে মিডিয়াগুলোতে। এসব পণ্য বিজ্ঞানসম্মত নয় এবং কেউ উপকৃত হয়েছেন বলে জানা যায়নি। ঠিক একই অভিযোগ রয়েছে রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের প্রচারের ব্যাপারে। চুল পড়তে থাকলে এর কারণ নির্ণয় ও প্রতিকার করা প্রয়োজন।
চুল কেরাটিন নামের এক রকম প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। চুলে ৯৭ ভাগ প্রোটিন ও ৩ ভাগ পানি রয়েছে। চুলের যেটুকু আমরা দেখি সেটি মৃত কোষ। কারণ এতে অনুভূতিশীল কোনো কোষ নেই। একজন সুস্থ মানুষের মাথায় গড়ে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ চুল থাকে। প্রতিদিন ১০০টি পর্যন্ত চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক। এর থেকে বেশি চুল পড়লে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। গ্রীষ্মকালে চুল দ্রুত বড় হয় কিন্তু শীতকালে কম বড় হয়। একটি চুলের গড় আয়ু দুই-আট বছর। সুতরাং চুল কিছু না কিছু প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবেই ঝরে যায়।
মাথার চুল পড়ে যাওয়া এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। দিন দিন মাথার চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে অর্থাৎ ঝরে যাচ্ছে বা টাক পড়ে যাচ্ছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। চুল ঝরে যাওয়া বা টাক পড়া দু’ভাবে হয়ে থাকেঃ এক. পুরো মাথার চুল পড়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে মাথার তালু বা চামড়া অতি সহজেই দেখা যায়। দুই. মাথার কিছু কিছু অংশে গোল গোল আকারে চুল পড়ে যাওয়া।
চুল কেন পড়ে? এ প্রশ্ন আজ আমাদের প্রায় সবার। এই চুলপড়া রোধে সারা বিশ্বে বছরে প্রায় ১ বিলিয়নেরও বেশি ডলার খরচ হয়। নানা উপায়ে আমরা চুলপড়া রোধ করতে চাই। অনেক রকমের ইনফেকশন, বিভিন্ন রোগ, ওষুধের ব্যবহার এবং খাদ্যের ভিন্নতর কারণে সাধারণত চুল পড়ে যায়। কিন্তু গবেষকরা গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে, ৯৫ ভাগ চুল পড়ার কারণ জিনগত।
দিন দিন মাথার চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে। ঝরে যাচ্ছে চুল, টাক পড়ে যাচ্ছে এমন লোকের সংখ্যা অনেক। অনেক সময় শুধু সামনের দিকের চুল পড়ে । আবার অনেক সময় পুরো মাথার চুলই হালকা হয়ে যায়। প্রতিদিন যদি ১০০টি চুল পড়ে তখন মাথা ফাঁকা হতে শুরু করে। চুল ঝরে পড়ার নানা কারণ রয়েছে। প্রচলিত ধারণা আছে, চুল টেনে বাঁধলে চুল দ্রুত লম্বা হয়। এটি ভুল ধারণা। এতে চুল ঝরে পড়ে দ্রুত।
চুল নিয়ে আজকাল অনেকেরই ভাবনার অন্ত নেই। বলা স্বাস্থ্যোজ্জ্বল সুন্দর চুল সবারই কাম্য। আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত সমান ভারী চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল যায়। এ ছাড়া চকচকে কালো চুল ও মাথার ত্বক পরিষ্কার থাকতে হবে।
চুলের যত্নে কন্ডিশনারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কন্ডিশনার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন­
(Page 2 of 4)   « Prev  1  
2
  3  4  Next »

Categories