স্বাস্থ্যকথা

নাক, কান, গলা

(Page 1 of 3)   
« Prev
  
1
  2  3  Next »
শিশুর ত্বকের যত্নের ব্যাপারে মায়ের ভূমিকাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। মায়েরা যদি কিছু কিছু বিষয়ে সচেতন হন তবে অনেক চর্মরোগই প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর নিুলিখিত কয়েকটি বিষয় শিশুর বিভিন্ন চর্মরোগ প্রতিরোধে নিঃসন্দেহে সহায়ক। একটি শিশুর পরিধেয় কাপড়-চোপড় অবশ্যই খসখসে, অমসৃণ হওয়া উচিত নয়, হতে হবে নরম ও মসৃণ। কাপড়টি সুতির হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ ত্বকের জন্য সুতির কাপড়ই সবচেয়ে নিরাপদ। কাপড়টি বেশি আঁটসাঁট হওয়া উচিত নয়। কারণ আলো-বাতাস প্রবেশ করতে না পারলে ঘাম আটকে থাকে এবং বিভিন্ন চর্মরোগ সৃষ্টি হয়। তাই পোশাক-পরিচ্ছদ যতটা সম্ভব ঢিলাঢালা হওয়াই ভালো। আর পোশাক-পরিচ্ছদ সব সময় শীত-গ্রীষ্মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
নাকের সমস্যা
সমস্যাঃ আমার বয়স ২৮ বছর। আমি একজন হোটেল কর্মচারী। তিন বছর আগে হোটেলের এক গেস্ট রাগ করে গালে চড় দিলে আমার বাঁ কানের পর্দা ফেটে যায়, কান দিয়ে রক্ত পড়ে ও কানে বন্ধ ভাব হয়। আমি কয়েকবার ইএনটি চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ খেয়েছি। এখন আমার কানে বন্ধ ভাব অর্ধেক কমে গেছে। কিন্তু কানে কম শোনা কিছুটা রয়ে গেছে। আর মাঝেমধ্যে কানে ঝিঁ ঝিঁ শব্দ হয়। আরও চিকিৎসা করালে আমি কি পুরোপুরি ভালো হতে পারব?
গত বছরই ১৬ এপ্রিল প্রথম বাংলাদেশে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালিত হয়। সারা বিশ্বে ২০০২ সাল থেকে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেফনেস অ্যান্ড কমিউনিকেশনের মতে, সারা বিশ্বে সব বয়সের ৭৫ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কণ্ঠস্বরজনিত সমস্যায় ভুগছে। আমরা কণ্ঠস্বর সম্পর্কে সচেতন নই। ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে অনেক পরে আমরা চিকিৎসকের কাছে যাই। পারস্পরিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো কণ্ঠ বা কথা বলা। বিশ্ব কণ্ঠ দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে, কণ্ঠ ও কণ্ঠনালির সমস্যা এবং সেই সঙ্গে কীভাবে কণ্ঠকে সুস্থ রাখা যায় তা জনগণকে জানানো।
রাত তখন ১২টার কম হবে না। হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে উঠলো আপনার শিশু। একটি হাতে কান চেপে ধরে কেঁদে কেঁদে বললো, কানব্যথা। আপনি কী করবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। কানে টর্চলাইটের আলো ফেললেন। এতে কানের মধ্যে আপনি যা দেখলেন তা থেকে ব্যথা হওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনো ধারণা পেলেন না। কিংবা কানের মধ্যে খয়েরী বা কালচে রঙের কিছু দেখতে পেলেন। ভাবলেন ময়লা জমেছে। তাই ব্যথা কমানোর জন্য কানে তেল দিলেন, কিন্তু ব্যথা কমলো না। অগত্যা ব্যথা কমানোর ওষুধ প্যারাসিটামল দিয়ে শিশুকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলেন। একসময় কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেল শিশু। সকালে যখন ঘুম খেকে উঠল তখন আর ব্যথা নেই।
ডায়াবেটিসের সমস্যা কানের সমস্যা
জন্মগত বধিরতা অথবা হঠাৎ সম্পূর্ণ বধির হওয়া রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট এখন বাংলাদেশেই হচ্ছে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকারী পর্যায়ে দেশে প্রথম সফল কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি করা হয় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে। সম্পূর্ণ শ্রবণ শক্তি হারিয়ে ফেলা সেই রোগী এখন কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট করার পর স্বাভাবিকভাবে শুনতে পাচ্ছেন, এমনকি টেলিফোনেও কথা বলতে পারছেন। এরপর ২০০৭ সালে ২য় বারের মত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে শ্রবণশক্তিহীন ৪জন রোগীর কানে সফলভাবে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট করা হয়। উল্লেখ্য কক্লিয়া হচ্ছে অন্তকর্ণের একটি অংশ যা কানে শোনার কাজটি করে থাকে এবং কক্লিয়া সম্পূর্ণ অকার্যকর হওয়ার ফলেই পূর্ণ বধিরতার সৃষ্টি হয়।
সর্দি হলেই যাদের নাক বন্ধ হয়ে যায় তারা সাধারণত নাকের ড্রপ ব্যবহার করেন। এই ড্রপগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কাজ করে। নাকে দুই-তিন ফোঁটা ড্রপ দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে বন্ধ নাক খুলে যায়। স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নেয়া যায়। কিন্তু এই ড্রপগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা মোটেই সুখকর নয়। নাকের ড্রপ একটানা তিন-চার দিন ব্যবহার করলে নাসারন্ধের আবরণী কলাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাইনুসাইটিসের জটিলতা বাড়ে।
কণ্ঠস্বর মানুষের এক অমুল্য সম্পদ। সুন্দর কণ্ঠস্বর সবারই কাম্য। বিশেষ করে যারা কণ্ঠস্বর-নির্ভর পেশা যেমন-শিক্ষকতা, রাজনীতি, অভিনয়, আবৃত্তি, সংবাদ পরিবেশন, সঙ্গীত ইত্যাদিতে জড়িত তাদের কাছে সুন্দর কণ্ঠস্বর কতটা প্রয়োজন তা বলাই বাহুল্য। কণ্ঠস্বর বিকৃতি কিংবা কণ্ঠস্বর নষ্ট হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। মুলত স্বরধ্বনি শ্বাসযন্ত্রের যে অংশ থেকে তৈরি হয় সেখানকার বিভিন্ন অসুখের সুচনাতেই স্বরভঙ্গ ঘটে কিংবা কণ্ঠস্বর ভেঙে যায়। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে, এসব সমস্যার অধি কাংশই সেরে ওঠে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, সময়োচিত উপদেশ তথা যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে।
টনসিলের সমস্যার কারণে গলা ব্যথায় ভুগে থাকে অনেক শিশু। সব ধরনের টনসিলাইটিসই একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির গলা ও নাকের তরল নিস্বরণ সুস্হ ব্যক্তির গলা ও নাকের অভ্যন্তরে ঢুকলে সুস্হ ব্যক্তিও আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে আক্রান্তের গ্লাস, থালা, বাসন পৃথক রাখা উচিত।
(Page 1 of 3)   
« Prev
  
1
  2  3  Next »