স্বাস্থ্যকথা

নারীর স্বাস্থ্য

(Page 2 of 4)   « Prev  1  
2
  3  4  Next »
বন্ধত্বের কারণগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্ত্রী, ৩৫ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী এবং ১০-২০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ত্রুটির জন্য গর্ভধারণ হয় না। বাকি ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে অনুর্বরতার কোনো সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। সন্তান লাভের আশায় কোনো দম্পতি কোনো ধরনের জন্মনিরোধক উপায় অবলম্বন না করে এক বছর পরও যখন স্ত্রীর গর্ভধারণ হয় না তখন তাকে বলা হয় বন্ধ্যত্ব বা ইনফার্টিলিটি।
আজকাল প্রয়োজন ছাড়াও এ অপারেশন হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও রোগিনী এবং রোগিনীর আত্মীয়-স্বজনরাও সহজবোধ করে। তাহলে কি সিজারিয়ানের মাধ্যমে ডেলিভারি পদ্ধতিটাই উত্তম? তাকি হতে পারে? প্রকৃতির নিয়মের চেয়ে কি মানষের তৈরি নিয়ম বেশি ভালো হতে পারে? কখন-ই না।
গর্ভাবস্হায় নারীর দেহে কিছু গুরুতর ফিজিওলজিক্যাল পরিবর্তন সাধিত হয়। এই সময় পিটুইটারি, থাইরয়েড ও অ্যাডরিনাল গ্রন্হির কর্মকান্ড বৃদ্ধি পায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন ও ষ্টেরয়েড হরমোন তৈরি হয়ে থাকে। এরই প্রভাবে যেসব রোগ বা উপসর্গ তৈরি হয়
‘সিজারিয়ান’ শব্দটার সঙ্গে এখন মোটামুটি সবাই পরিচিত। ‘স্বাভাবিক প্রসব’ সৃষ্টিকর্তার নিয়মে হয়; আর সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে প্রসব আল্লাহর মানুষকে দেয়া বুদ্ধি দিয়ে সৃষ্টি নিয়মে হয়।
অনেক মহিলারই কোনো না কোনো সময়ে স্তনের ব্যথা অনুভূত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ম্যাস্টালজিয়া বলে। হরমোন বা হরমোন নির্ভরশীল পরিবর্তন এ সমস্যার কারণ। স্তনে ব্যথার সাথে সাথে চাকা বা গুটি অনুভূত হয়। অনেকে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন। আসলে এটা খুব মারাত্মক কিছু নয়। তবে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হতে পারে।
গর্ভাবস্হা কোনো অসুখ নয়। তাই এই অবস্হার কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন নেই। তবে গর্ভাবস্হায় যে ওষুধটির প্রয়োজন, তাহলো খাওয়া-দাওয়া। মনে রাখবেন গর্ভাবস্হায় প্রতি বেলায় বিরানি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা জানি, আমাদের খাদ্যগুলোকে মোটামুটিভাবে নিম্নের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-১। শর্করা ২। তৈল জাতীয় পদার্থ ৩। আমিষ ৪। ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ।
প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। তবে ব্যায়াম শুধু পুরুষের জন্য নয়, মহিলাদেরও ব্যায়াম করা উচিত। শুধুমাত্র গর্ভবতী মহিলা ছাড়া অন্যসব বয়সের মহিলাদের ব্যায়াম করা ভালো। প্রতিদিন ব্যায়াম করাই উচিত। তবে যারা প্রতিদিন ব্যায়াম করতে চাননা তাদের অন্ততঃ সপ্তাহে ৫দিন ব্যায়াম করা উচিত। তাছাড়া অনেক ধরণের ব্যায়াম আছে যেসব ব্যায়াম ঘরে বসেই করা যায়।
সিস্ট হলো ছোট পানি ভরা থলি, আর একাধিক সিস্টকে একসঙ্গে বলা হয় পলিসিস্ট। আর ওভারি যে ফিমেল রিপ্রোডাক্টিভ অরগ্যানগুলোর মধ্যে অন্যতম তা নিশ্চয়ই সবার জানা। ছোট ছোট সিস্ট (১০-১২টি) পুঁতির মালার মতো দেখতে ওভারি বা ডিম্বাশয়কে ঘিরে থাকে। এই সিস্টের জন্য ওভারির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
অনিয়ন্ত্রিত বা ঘন ঘন সন্তান জন্মদান মা এবং শিশু উভয়ের জন্য ঝুঁকিপুর্ণ। এমনিতেই গর্ভধারণ কোনো কোনো মহিলার জন্য মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। গর্ভধারণ মায়ের স্বাস্হ্যহানি ঘটাতে পারে, এমনকি মায়ের জীবনের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। উন্নত দেশগুলোর চেয়ে আমাদের দেশে গর্ভজনিত কারণে মাতৃমৃত্যুর সম্ভাবনা ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি। সন্তান যত বেশি হয় এ সম্ভাবনাও তত বেশি বাড়াতে থাকে। ঘন ঘন সন্তান জন্মদানের ফলে মায়ের মারাত্মক রক্তস্বল্পতা, গর্ভপাত, গর্ভকালীন রক্তপাত, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। মায়ের স্বাস্হ্য ও পুষ্টির সঙ্গে নবজাতকের স্বাস্হ্য সম্পর্কিত। ঘন ঘন সন্তান জন্মদানের ফলে মায়ের স্বাস্হ্যহানি ঘটে। এ কারণে গর্ভস্হ শিশু যথাযথভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় না এবং স্বাভাবিকের চেয়ে (২.৫ কেজি) কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
দুরন্ত কৈশোর পেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ নারী হয়ে উঠতে শরীর ও মনে, দেহের ভেতরে-বাইরে নানা রকম পরিবর্তন হয়। ভেতরে এ পরিবর্তনের অন্যতম হলো রজঃস্রাব বা মাসিক। এটা সাধারণত ১২ থেকে ১৪ বছরের মেয়ের শুরু হয় যদিও পারিবারিক, সামাজিক, ভৌগোলিক, স্বাস্থ্য ও ভিন্ন পরিবেশে এর কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। আবার ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সে পূর্ণাঙ্গ নারীর জীবনে আসে বিরাট পরিবর্তন, সেটাও শরীরের ভেতরে ও বাইরে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রজঃনিবৃত্তি বা মেনোপজ। এটা হয় মেয়েলি হরমোনগুলোর নিঃসরণ কমে যাওয়ার জন্য।
(Page 2 of 4)   « Prev  1  
2
  3  4  Next »

Categories