স্বাস্থ্যকথা

পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্র

(Page 1 of 3)   
« Prev
  
1
  2  3  Next »
চিকিৎসা বিজ্ঞানের আদি থেকেই এ রোগটি চিকিৎসকদের কাছে পরিচিত। এ রোগে রোগীর পায়ুপথ মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে আসে। বিশেষত পায়খানা করার সময় বাইরে ঝুলে পড়ে। এরপর রোগী হাত দিয়ে এটিকে ভিতরে ঢুকিয়ে দেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার রোগীরা এটিকে ভিন্ন ভিন্ন নামে যেমন সিলেটে বসে আলিশ, হবিগঞ্জ এলাকায় বলে কম্বল বের হয়েছে এবং বরিশালের লোকেরা বলে আইলতা বের হয়েছে।
প্রাচীনকাল থেকে চিকিৎসকরা মলদ্বারের চুলকানিকে একটি বিশেষ রোগ হিসাবে গণ্য করে আসছেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রাচীন পুস্তকেও এ সম্পর্কে বিবরণ রয়েছে। মলদ্বারে স্নায়ুতন্ত্রের প্রাচুর্যের কারণে সম্ভবত এই বিভিন্ন ধরনের উত্তেজকের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতির যুগেও রহস্যময় এই রোগটির কারণ অনুসন্ধান ও চিকিৎসার কোনো সংক্ষিপ্ত ও সহজ-সরল সমাধান আমরা দিতে পারিনি। অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর চিকিৎসা করা সম্ভব, তবে তা নির্ভর করে রোগীর সঠিক ইতিহাস ভেঙ্গে যায়। এর ফলে নখের আঁচড়ে সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
পায়ুপথে বিভিন্ন রোগের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক রোগ হচ্ছে ক্যান্সার। এখানে ক্যান্সার হলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয় যেমন­ মল ত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, খুব সকালে পায়খানার বেগ হওয়া, মল ত্যাগের পর আরো মল রয়ে গেছে এরূপ অনুভূতি হওয়া, পায়খানার সাথে রক্ত ও মিউকাস বা আম যাওয়া, কিছুদিন পাতলা পায়খানা এবং এরপর কিছুদিন কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, মলদ্বারে বিভিন্ন রোগ হলেও এর অল্পবিস্তর পার্থক্যসহ উপসর্গগুলো প্রায় একরকম। শারীরিক পরীক্ষা না করে শুধু রোগীর কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। তাই যন্ত্র দিয়ে মলদ্বারের ভেতর পর্যবেক্ষণ করা যেমন, প্রকটস্কপি, সিগময়ডস্কপি, কোলনস্কপি, বেরিয়াম এনেমা পরীক্ষা ইত্যাদি অত্যন্ত জরুরি। পরীক্ষার মাধ্যমে এসব রোগ আগেভাগে ধরতে পারলে চিকিৎসা সহজ ও কার্যকর হয়।
কলোস্টমি রোগীরা সাধারণ কলোস্টমি ব্যাগ পেটের ওয়ালের সাথে লাগিয়ে রাখেন যার মধ্যে মাঝে মধ্যে পায়খানা ও গ্যাস জমা হয়। এ পদ্ধতির অসুবিধা হলো দিনে তিন-চারবার এটি পরিষ্কার করতে হয়। আমাদের খাদ্যনালীর মল জমা থাকে এবং প্রাকৃতিক নিয়মে খাদ্যনালী সয়ংক্রিয়ভাবে এগুলো বের করে দেয়। ইরিগেশন পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর নির্ভর করা হয় না। বিশেষ ধরনের একটি ব্যাগের ভেতর দুই লিটার সিদ্ধ পানি ভরে একটি পাইপের সাহায্যে কলোস্টমির মুখ দিয়ে খাদ্যনালীর ভেতরে ঢুকাতে হয়। এতে পায়খানা নরম হয় এবং খাদ্যনালীর বিশেষ ধরনের Peristaltic Movement-এর মাধ্যমে ভেতরের পায়খানা বেরিয়ে আসে। এই কাজটি টয়লেটের ভেতর করতে হবে। পাইপের একটি অংশ ‘ড্রেইনেজ পাইপ’ হিসেবে কাজ করে। যার মাধ্যমে পায়খানা পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে এবং টয়লেটে চলে যাবে।
পরিপাকতন্ত্রের শেষ অঞ্চলকে আমরা বলি বৃহদন্ত্র। রেকটাম (পায়ুপথ) ও মলদ্বার। সার্জারির যে শাখাটি এই অঙ্গগুলোর সমস্যা সমাধানে নিবেদিত তাকে বলে কলোরেকটাল সার্জারি। পায়ুপথের বিভিন্ন রোগের ভেতর ক্যান্সার হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক রোগ। এই ক্যান্সারের বিভিন্ন উপসর্গের মধ্যে রয়েছে মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন, খুব সকালে পায়খানার বেগ হওয়া, মলত্যাগের পরও মল রয়ে গেছে এরূপ অনুভূতি হওয়া, পায়খানার সাথে রক্ত ও মিউকাস (আম, শ্লেষ্মা, ল্যালপা) যাওয়া, পেটে ব্যথা, মলদ্বারে ব্যথা হওয়া ইত্যাদি।
হেদায়েত সাহেবের বয়স চল্লিশের মতো, ভালো চাকরি করেন। হঠাৎ করে কিছু দিন ধরে তার শক্ত পায়খানা হচ্ছে, পায়খানায় দীর্ঘ সময় বসে থাকার পরও মনে হচ্ছে পায়খানা ঠিক ক্লিয়ার হচ্ছে না। তাকে খুবই বিষণ্ন মনে হচ্ছে, দিন দিন কেমন যেন শুকিয়ে যাচ্ছেন, পায়খানার সাথে রক্ত যায় কি না তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন­ খেয়াল করিনি, স্যার। তার পর তাকে পরীক্ষা করলাম, প্রোক্টোস্কোপি ও সিগময়ডোস্কোপি টেস্ট করলাম, দেখতে পেলাম তার কোলনে অর্থাৎ অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার।
সানজানার বয়স ত্রিশ। চাকরি করেন। ফাস্টফুডের প্রতি খুব টান। হঠাৎ করে বেশ কিছু দিন যাবৎ তার শক্ত পায়খানা হচ্ছে, পায়খানায় দীর্ঘসময় বসে থাকার পরও মনে হচ্ছে পায়খানা ঠিক ক্লিয়ার হচ্ছে না, তাকে খুবই বিষণ্ন মনে হচ্ছে। দিন দিন কেমন যেন শুকিয়ে যাচ্ছে, পায়খানার সাথে রক্ত যায় কি না তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, খেয়াল করিনি, স্যার। তার পর তাকে পরীক্ষা করে দেখা গেল, প্রোক্টোস্কোপি ও সিগময়ডোস্কোপি পরীক্ষায় ধরা পড়ল তার কোলনে অর্থাৎ অন্তনালীতে ক্যান্সার।
হেদায়েত সাহেবের বয়স চল্লিশের মতো। ভালো চাকরি করেন। হঠাৎ করে বেশ কিছু দিন ধরে তার শক্ত পায়খানা হচ্ছে। পায়খানায় দীর্ঘ সময় বসে থাকার পরও মনে হচ্ছে পায়খানা ঠিক ক্লিয়ার হচ্ছে না। তাকে খুবই বিষণ্ন মনে হচ্ছে। দিন দিন কেমন যেন শুকিয়ে যাচ্ছে। পায়খানার সাথে রক্ত যায় কি না তাকে জিজ্ঞেস করলে বললেন, খেয়াল করিনি স্যার। তারপর তাকে পরীক্ষা করলাম, প্রোক্টোস্কোপি ও সিগময়ডোস্কোপি টেস্ট করলাম। তারপর দেখতে পেলাম তার কোলনে অর্থাৎ অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার।
পাইলস রোগটি হাজার বছর ধরে পরিচিত। খুব কম লোকই আছেন যারা এ রোগের নাম জানেন না। পাইলস হচ্ছে মলদ্বারের ভেতরে ফুলে ওঠা শিরাযুক্ত মাংসপিণ্ড বা ‘ভাসকুলার কুশন’। সব মানুষেরই এই ‘কুশন’ আছে, যা মল ত্যাগের সময় মলদ্বারের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন এটি কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে তখনই আমরা বলি পাইলস বা হিমোরয়েড। পাইলস শব্দটির প্রচলন ১৩৭০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। এর উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ ’Pila’ থেকে, যার অর্থ 'Balls' বা পিণ্ড। পাইলসের আরেকটি পুরনো নাম হচ্ছে হিমোরয়েড, যার উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'Haema' বা রক্ত এবং 'rhoos' বা প্রবাহিত। এই শব্দটির উৎপত্তি ৪৬০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে। হিপোক্রেটস প্রথম এ নামটি ব্যবহার করেন। নাম দেখেই এ রোগের প্রধান উপসর্গগুলো অনুমান করা যায়।
পিত্তপাথর অতি বড় অসুখ। এই অসুখটি প্রায় প্রতিটি দেশের মানুষের মাঝে দেখা যায়। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, অষ্ট্রেলিয়াসহ সর্বত্র এর বিস্তার লক্ষণীয়। সর্বাধিক দেখা যায় সুইডেনে যেখানে শতকরা হার ৩৮ ভাগ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়াতে শতকরা ১৫ থেকে ২৫ ভাগ পাওয়া যায়। সর্বনিম্ন হার দেখা যায় আয়ারল্যান্ডে মাত্র শতকরা ৫ ভাগ। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের এই রোগের হার দ্বিগুণ। যথাক্রমে শতকরা ৪৯ ভাগ থেকে ৭৩ ভাগ পর্যন্ত। আফ্রিকাতে এর হার খুবই কম যার শতকরা হার ১ ভাগেরও কম।
(Page 1 of 3)   
« Prev
  
1
  2  3  Next »


Categories