স্বাস্থ্যকথা

পুরুষের স্বাস্থ্য

(Page 1 of 5)   
« Prev
  
1
  2  3  4  5  Next »

মানসিক চাপ থেকে শারীরিক সমস্যা

মানসিক চাপ থেকে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। তম্মধ্যে মানসিক ও শারীরিক সমস্যা অন্যতম। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ বা মহিলা অথবা কোন দম্পতিই এ বিষয়টিকে তেমন কোন গুরুত্ব দেননা। এটা পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। এরিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলা হয় বিশেষজ্ঞগণ ৫৮ জন সক্ষম মহিলার ওপর জরীপ চালান যাদের মানসিক চাপ ছিল তীব্র। গবেষণায় উল্লেখ করা হয় এসব মহিলাদের মানসিক চাপের কারণে শারীরিক ফিটনেস কম প্রতীয়মান হয়। একই তথ্য পাওয়া যায় পুরুষদের ক্ষেত্রেও। গবেষকগণ দেখেছেন যেসব পুরুষ ও মহিলার মানসিক চাপ ছিলোনা, মেজাজ ছিলো প্রফুল্ল তাদের শারীরিক ফিটনেস ও দাম্পত্য সম্পর্ক ছিলো অধিকতর কাঙ্খিত। তাই গবেষকগণ মনে করেন পুরুষ ও মহিলাদের শারীরিক ফিটনেস-এর জন্য অবশ্যই স্ট্রেচ ম্যানেজমেন্ট বা মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া উচিত। স্বামী বা স্ত্রী যে কোন একজনের মানসিক চাপ বা অধিক স্ট্রেচ থাকলে অন্যের ওপর এর প্রভাব পড়ে। তাই সুন্দর সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে অবশ্যই াঁমী-স্ত্রী উভয়ের মানসিক চাপ সমভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে হবে।

**************************
ডাঃ মোড়ল নজরুল ইসলাম চর্ম, এলার্জি ও যৌনসমস্যা বিশেষজ্ঞ দৈনিক ইত্তেফাক, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০।
আজকাল তরুণ থেকে বয়স্ক লোক পর্যন্ত কারণে-অকারণে উত্তেজক ওষুধ সেবন করেন। এমনকি উত্তেজক ওষুধ সেবনকারীদের একটি বড় অংশ অবিবাহিত তরুণ, ছাত্র, যুবক। ওষুধের দোকানে চাইলেই এসব মারাত্মক ক্ষতিকর ওষুধ পাওয়া যায়। কোন প্রকার ব্যবস্থাপত্র লাগে না। ফলে হাজার হাজার পুরুষ অযথা এসব ওষুধের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হচ্ছেন। কেবলমাত্র যাদের শারীরিক সমস্যা আছে তারাই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ ধরনের ওষুধ সেবন করতে পারেন। উত্তেজক ওষুধের সহজপ্রাপ্যতার কারণে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধের মারাত্মক অপব্যবহার হচ্ছে। ফলে তরুণদের স্বাভাবিক শারীরিক ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। এসব কারণে একেবারে নবাগতদের দাম্পত্য জীবনও হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। তরুণদের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে বিবাহ-ভীতি। তাই কোন অবস্থাতেই তরুণদের কোন ধরণের উত্তেজক ওষুধ সেবন বাঞ্ছনীয় হতে পারে না।
প্রায়শই রোগীরা প্রশ্ন করেন ডাক্তার সাহেব ওষুধ ছাড়া কিভাবে শরীরের ক্ষমতা বাড়ানো যায়। ওষুধ সেবন করে শরীরের ক্ষমতা বাড়ালেতো ওষুধের ওপর নির্ভরতা তৈরী হয়। তখন ওষুধ ছাড়া শরীর আর চলতে চায়না। এটা একাবারে যথার্থ সত্য। আজকাল অনেক তরুণ বা নববিবাহিত পুরুষেরা শরীরের ক্ষমতা বাড়াতে ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে অতিমাত্রায়। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হচ্ছে। বাড়ছে দামপত্য কলহ। তাই কোন ধরনের সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া শারীরিক শক্তি বাড়ানোর ওষুধ সেবন বাঞ্চনীয় নয়। তবে বয়স ৫০-এর কোঠা পার হলে নানা ধরনের ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, ক্যালশিয়াম ইত্যাদি সেবনে বাধা নেই।
লিঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহ হলে চিকিৎসা পরিভাষায় তাকে বলে ব্যালানাইটিস। গ্রিক শব্দ ব্যালানস থেকে এটা এসেছে। ব্যালানস শব্দের অর্থ লিঙ্গ মুন্ডু বা লিঙ্গের মাথা। লিঙ্গাগ্রের চামড়া আক্রান্ত হলে তাকে বলে ব্যালানোপসথাইটিস। লিঙ্গমুন্ডুর চারপাশে এক ধরনের ময়লা জমা ও নিঃসরণের কারণে জায়গাটা বাতাসের সংস্পর্শ কম পায় এবং সেখানে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হয়; এ কারণে লিঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহ হয় ও লিঙ্গমুন্ডু ফুলে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যাদের খতনা করা হয়নি, তারাই এ সমস্যায় বেশি ভোগেন।
অণ্ডথলি ফুলে যাওয়া হলো অণ্ডথলি অস্বাভাবিক বড় হওয়া। আর অণ্ডথলি হলো এমন একটা থলি যার মধ্যে অণ্ডকোষ থাকে। যেকোনো বয়সী পুরুষের অণ্ডথলি ফুলে যেতে পারে। এর সাথে ব্যথা থাকতে পারে, আবার না-ও থাকতে পারে। এটা অণ্ডথলির এক পাশে অথবা দু’পাশেই হতে পারে। অণ্ডকোষ এবং পুরুষাঙ্গ জড়িত থাকতে পারে, অথবা না-ও থাকতে পারে।
প্রোস্টেট পুং জননতন্ত্রের একটি অংশ। এটি একটি বহিঃক্ষরণ প্রকৃতির গ্রন্থি যা মূত্রথলির বহির্গমন অংশের নিচে অবস্থিত। প্রোস্টেট গ্রন্থির নিঃসরিত তরল পদার্থ বীর্যস্খলনের সময় বীর্যের সাথে মিশ্রিত হয় এবং শুক্রাণুকে উজ্জীবিত করে। বয়োপ্রাপ্তির সাথে সাথে প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি ঘটে। টেস্টোস্টেরন নামক হরমোনই হচ্ছে প্রোস্টেটের প্রবৃদ্ধি ও উদ্দীপনার চাবিকাঠি। স্বাভাবিকভাবে প্রোস্টেটের আকার খোসাসহ একটি বড় আকারের বাদামের সমান। কিন্তু পঞ্চাশোর্ধ্ব অনেক পুরুষের বেলায় প্রোস্টেটের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বড় হয় এবং বেশ কিছু উপসার্গ দেখা দেয়। তবে এই প্রবৃদ্ধি কোষ বিভাজনের একটি ব্যতিক্রর্মী পরিবর্তন যা টিউমার বিভাজন থেকে আলাদা এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ক্যান্সার কোষের উপস্থিতি থাকে না। এই অবস্থাকেই প্রোস্টেট গ্রন্থির নির্দোষ প্রবৃদ্ধি বা ইংরেজিতে সংক্ষেপে বিইপি বলা হয়।
সিফিলিসের প্রাথমিক স্তর শরীরে জীবাণু প্রবেশের সাধারণত ১০ থেকে ৪০ দিন পর সরাসরি সংক্রমিত স্থানে ব্যথাহীন গোটা ওঠে। যৌনাঙ্গ ছাড়া এ গোটা মলদ্বার, ঠোঁট কিংবা স্তনের বোঁটায় হতে পারে। কাছাকাছি গ্রন্থিগুলো ফুলে উঠতে পারে। ৪-১০ সপ্তাহের মধ্যে গোটা চলে যায়। প্রথম স্তরে রোগ সারানো সহজ হয়।
সিফিলিস একটি জটিল যৌন সংক্রামক রোগ। নামটি এসেছে ফ্রাক্যাসটেরো নামক একজন চিকিৎসক, জ্যোতির্বিদ ও কবির (১৪৮৩-১৫৫৩) লেখা একটি কবিতা থেকে। কবিতার নায়কের নাম সিফিলাস। সে ছিল একজন মেষ পালক। ঈশ্বর ও ধর্ম নিন্দা করার জন্য তাকে একটি নতুন রোগ দিয়ে শাস্তি দেয়া হয়।
লিঙ্গমুণ্ডুতে প্রদাহ হলে চিকিৎসা পরিভাষায় তাকে বলে ব্যালানাইটিস। গ্রিক শব্দ ব্যালানস থেকে এটা এসেছে। ব্যালানস শব্দের অর্থ লিঙ্গমুণ্ডু বা লিঙ্গের মাথা। লিঙ্গাগ্রের চামড়া আক্রান্ত হলে তাকে বলে ব্যালানোপসথাইটিস।
টেসটিস বা অণ্ডকোষ পুরুষ হরমোন ও শুক্রাণু তৈরির জন্য দায়ী। পুরুষ ভ্রূণের বৃদ্ধির সময় পেটের মধ্যে এই অণ্ডকোষ বড় হতে থাকে এবং গর্ভাবস্থা প্রক্রিয়ার মধ্যে অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে নেমে আসে। সাধারণ গর্ভাবস্থার সাত থেকে নয় মাসের সময় অণ্ডকোষদ্বয় অণ্ডথলিতে নেমে আসে।
(Page 1 of 5)   
« Prev
  
1
  2  3  4  5  Next »

Categories