স্বাস্থ্যকথা

পুরুষের স্বাস্থ্য

(Page 3 of 5)   « Prev  1  2  
3
  4  5  Next »
আমি প্রায়শই লেখার মধ্যে দু’একটা উদাহরণ দেই। বিষয়টি সহজভাবে বুঝানোর জন্য অনেকেই নানাভাবে উদাহরণ দেন। ইতিপূর্বে আমি তরুণদের বিয়ে ভীতি নিয়ে লিখেছি। ভেবেছিলাম ইত্তেফাকের স্বাস্থ্য পাতায় নারী-পুরুষের প্রাইভেট লাইফের নানা ভুল ধারণা ও অজ্ঞতা নিয়ে লেখার পর তরুণ-যুবকদের নানা সমস্যা কেটে যাবে। কিন্তু আসলে বছরের পর বছর ধরে যে অপচিকিৎসায় দেশের বৃহত্তর তরুণ সমাজ নিজেদের ভয়ানক ক্ষতি ডেকে আনছে তা রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। আমি বহুবার বলেছি তরুণদের শারীরিক অক্ষমতা ভীতি সম্পূর্ণ মানসিক। শতকরা ৯৫ থেকে ৯৮ ভাগ তরুণ-পুরুষের কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা নেই।
ইতিপূর্বে একাধিকবার পুরুষের পাত্রী নির্বাচন এবং শারীরিক সমস্যা নিয়ে লিখেছি। এখনও আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রে ধারণা করা হয়ে থাকে পুরুষের আবার বিয়ের বয়স কিসের। পুরুষ মাত্রেই যে কোন বয়সের একটি মেয়েকে ঘরে তুলতে পারে কিন্তু বিষয়টির সামাজিক প্রেক্ষাটের চেয়ে শারীরিক বিশ্লেষণ বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিত।
পুরুষের স্বাস্থ্য সমস্যা মূত্রনালীতে সংক্রমণ হলে ও জ্বালা করলে তাকে মূত্রনালীর প্রদাহ বা ইউরেথ্রাইটিস বলে। মূত্রনালী হচ্ছে একটি নল যা মূত্রথলি থেকে প্রস্রাব বহন করে। পুরুষের মূত্রনালী থাকে পুরুষাঙ্গের মধ্যে। এটা বীর্য ও শুক্রাণুকেও পুরুষাঙ্গের বাইরে বের করে দেয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে মূত্রনালী শুধু মূত্রথলি থেকে প্রস্রাব বহন করে বের করে দেয়।
কখন বিয়ে করা উচিত নয় বিয়ে ভীতির শতকরা ৯৯ ভাগই মানসিক। সামান্য কাউন্সিলিং এবং দু’একটি মামুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পুরুষের বিয়ে ভীতি দূর করা যায়। কিন্তু আমাদের আজকের বিষয় বিয়ে ভীতি নয়। যাদের একেবারেই বিয়ে করা উচিত নয় তার সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়া।
প্রোস্টেট গস্ন্যান্ড পুরুষেরই একান্ত। বয়স হলে অনেক সময় এই গস্ন্যান্ড বেড়ে যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বৃদ্ধি নিরীহ। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি হতে পারে অস্বাভাবিক, রূপ নিতে পারে ক্যান্সারে। একে আগাম নির্ণয়ের জন্য প্রচলিত রয়েছে রক্তের একটি পরীক্ষাঃ প্রোস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন বা পি•এস•এ। রোগ নির্ণয় কৌশল হিসেবে এর প্রসিদ্ধি ছিলো। কিন্তু ইদানীং গবেষকরা বলছেন প্রোস্টেটের ক্যান্সার সোসাইটির পরামর্শঃ পঞ্চাশ উর্ধ্ব প্রতিটি পুরুষের বছরে একবার প্রোস্টেট ক্যান্সারের স্কিনিং করানো উচিত।
বিভিন্ন কারণে মূত্রথলিতে পাথর হতে পারে। কিডনি থেকে মূত্রথলি পর্যন্ত যেকোনো স্থানে জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ হলে পাথর হতে পারে। দেখা গেছে অনেক কারণের সমন্বয়ে পাথর সৃষ্টি হয়। তবে মূল কথা হলো, শরীরের বিভিন্ন অসুখে এবং খাবারের উপাদানের তারতম্যে রক্তের গঠনের মাঝে পরিবর্তন আসে। এর ফলে প্রস্রাবের নিষ্কাশিত বা বেরিয়ে যাওয়া পদার্থেরও তারতম্য হয়।
যদি আপনি ৫০ বছরের কম বয়সী পুরুষ হন তাহলে আপনার প্রস্রাবে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। এ ক্ষেত্রে সাধারণত এক কোর্স অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। কখনো কখনো মূত্রথলি, প্রোস্টেট কিংবা কিডনি দেখার জন্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়, বিশেষ করে তিন মাসের মধ্যে যদি দু’বার বা তার বেশি বার ইনফেকশন হয়, অথবা যদি কিডনি সংক্রমিক হয়।
হারনিয়া অতি কমন একটি রোগ। জন্ম থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত যে কারো এই রোগ হতে পারে। আসলে হারনিয়া একটি সার্জিক্যাল রোগ অর্থাৎ অপারেশন ছাড়া এ রোগ ভালো হবার নয়। সাধারণভাবে হারনিয়া হলো পেটের মধ্যস্থ খাদ্যনালী বা অন্য যেকোনো অঙ্গ পেটের দুর্বল স্থান দিয়ে বাহিরে চলে আসাকে বুঝায়।
প্রোস্টেট গ্রন্থির সমস্যা এড়াতে পুরুষরা সতর্ক হোন। কিছু খাবার কমিয়ে এবং কিছু খাবার বাড়িয়ে আপনি আপনার প্রোস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধির সমস্যা কমাতে পারেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে এ পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
প্রতি বছর কয়েক লাখ পুরুষ প্রস্রাবের ইনফেকশনে ভোগেন। যদিও পুরুষের প্রস্রাবের ইনফেকশনের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত অল্প বয়স্ক ছেলেরা মহিলাদের তুলনায় পিছিয়ে আছে, তবু উপসর্গ দেখা দেয়ামাত্র চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করাতে হবে। মূত্রতন্ত্রের (কিডনি, কিডনি নালী, মূত্রথলি ও মূত্রনালী) ইনফেকশন খুব বিপজ্জনক হতে পারে­ এমনকি জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।
(Page 3 of 5)   « Prev  1  2  
3
  4  5  Next »

Categories