স্বাস্থ্যকথা

প্রসূতির স্বাস্থ্য

(Page 2 of 3)   « Prev  1  
2
  3  Next »
অনেক মহিলারই কোনো না কোনো সময়ে স্তনের ব্যথা অনুভূত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ম্যাস্টালজিয়া বলে। হরমোন বা হরমোন-নির্ভরশীল পরিবর্তন এ সমস্যার কারণ। স্তনে ব্যথার সাথে সাথে চাকা বা গুটি অনুভূত হয়। অনেকে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন। আসলে এটা খুব মারাত্মক কিছু নয়। তবে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হতে পারে। হরমোন-নির্ভরশীল পরিবর্তন সাধারণত ৫৫ বছর বয়সের নিচে এবং যেসব মহিলার মাসিক এখনো চলছে তাদের হয়। কোনো কোনো মহিলার মাসিকের আগে ব্যথা ও গুটির সমস্যা বাড়ে। মাসিকের পর কমে যায়। রক্তে নানা হরমোন লেভেল স্তনের টিস্যুকে প্রভাবিত করে। কোনো কোনো সময় ব্যথা খুব তীব্র এবং সব সময় থাকে, এই ব্যথা হাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেকে ভাবেন ক্যান্সার হয়েছে। আসলে এটা ক্যান্সার নয়।
আটটি কোম্পানির দুধ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার পর আমাদের অনেক মায়ের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। প্রচারের জোরে এমন একটা অবস্থা হয়েছিল, আমাদের আধুনিক মায়েরা নিজের শিশুর জন্য নিজের বুকের দুধের চেয়ে বাজারে নিষিদ্ধ হওয়া দুধগুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকতেন। এর আগে এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হলেও বা ডাক্তাররা এর বিপক্ষে সব সময় বললেও আমাদের জনগণ বুঝতে চায় না। বেবিফুডের ভয়াবহ ক্ষতি ও প্রতিক্রিয়ার ব্যাপার রফতানিকারক দেশগুলো ভালো করেই জানে। তার পরও নিজেদের রাষ্ট্রে কম ব্যবহার করে এগুলো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে রফতানি করে থাকে। বিজ্ঞাপনের ব্যাপার তো রয়েছে। ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করার জন্য অনেক কিছুই ওরা লিখে থাকে এসব দুধের গায়ে।
বমি বমি ভাব ও সকালে অসুস্থ বোধ করা ১) সকালে উঠার পর যদি বেশি অসুস্থ বোধ হয় তবে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে হালকা কিছু যেমনঃ শুষ্ক টোস্ট বা সাধারণ বিস্কুট খেতে পারেন। ২) প্রচুর বিশ্রাম নিন এবং দুশ্চিন্তা পরিত্যাগ করুন। ৩) খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করবেন না।
সন্তান প্রসব একজন নারীর জীবনে অতি কাঙ্ক্ষিত ব্যাপার। প্রসবের সাথে সাথে নারী দীর্ঘদিনের গর্ভধারণে পরিবারের সাথে গর্ভকালীন নানা দৈহিক হরমোনাল পরিবর্তনের পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রসব করার কাজটিও বেশ পরিশ্রমের। সন্তান প্রসবের পর পর মায়ের দেহে দ্রুত পরিবর্তন ঘটায় তার মধ্যে কিছু শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা দেখা দেয়।
একজন মহিলার ডায়াবেটিস রোগ থাকলে রোগী, রোগীর নিকটাত্মীয় ও সংশিস্নষ্ট চিকিৎসকের বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, ডায়াবেটিস নেই এমন মহিলা ইচ্ছা করলে যে কোন সময় গর্ভধারণ করতে পারেন, অথচ এ রোগ থাকলে অবশ্যই গর্ভধারণের পূর্বে একজন ‘এন্ডোক্রাইনোলোজিস্ট’-এর পরামর্শ প্রয়োজন। তা না হলে মা ও শিশুর জীবনের মারাত্মক কিছু ঝুঁকি দেখা দেয়।
গর্ভধারণ হচ্ছে শরীরের একটি বিশেষ পরিবর্তন। গর্ভকাল মহিলাদের জন্য একটি ঝুঁকিপুর্ণ সময়। অধিক সংখ্যায় গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্মদানের ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশসমুহের মহিলাগণ গর্ভকালীন এবং গর্ভ-পরবর্তী নানা জটিলতায় ভোগে থাকেন। আমাদের দেশে প্রতি বছর মাতৃজনিত কারণে ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মহিলা এবং বিভিন্ন ধরনের জটিলতায় ১ লাখ ৫০ হাজার নবজাতক মৃত্যুবরণ করে।
একটি শিশু জন্মের ২৮ দিন পর্যন্ত সময়কালকে নবজাতক হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লাখ ৫০ হাজার শিশু নবজাতক হিসেবে মৃত্যুবরণ করে। পাশাপাশি মায়ের গর্ভাবস্থার শেষে মায়ের পেটেই মারা যায় আরো লক্ষাধিক শিশু। জীবিত নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৪২ জন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও নবজাতকের মৃত্যুর হার কমানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

(ডাঃ মুহঃ আজহারুল ইসলাম) আপনার গর্ভের শিশুটিও আপনার জরায়ুর ভেতর থেকেই সবকিছু শুনতে পায় তাকি আপনি জানেন? কথাটা আশ্চর্য মনে হলেও কিন্তু সত্যি। ১৯৬৪ সালেই এই বিষয়টি বাস্তবে প্রমাণ করেছেন। তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে, ভ্রুণের বয়স যখন মাত্র ৫ মাস তখনই তার (শিশুর) কানে শোনার যন্ত্র পূর্ণ বয়ক্স মানুষের যন্ত্রের ন্যায় কাজ করে।

(ডা· এ এ এম তাহের) গর্ভধারণের ছয়-সাত মাসের মধ্যে গ্লুকোজ চ্যালেঞ্জ টেস্ট করানো উচিত। আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে রোগী বা গর্ভবতী মাকে এমনিতেই বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নানা প্রতিকূলতা থাকে। তাই এই টেস্ট বা পরীক্ষা করাতে রোগীকে খালি পেটে বা খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর আসতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
(ডা· রওশন আরা খানম) এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২০০ কোটি মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত। প্রতিবছর ২০ লাখ মানুষ যক্ষ্মার কারণে মারা যায় এবং আট মিলিয়নেরও বেশি প্রতিবছর নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে।
(Page 2 of 3)   « Prev  1  
2
  3  Next »

Categories