স্বাস্থ্যকথা

প্রোস্টেট গ্লান্ড

হারনিয়া অতি কমন একটি রোগ। জন্ম থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত যে কারো এই রোগ হতে পারে। আসলে হারনিয়া একটি সার্জিক্যাল রোগ অর্থাৎ অপারেশন ছাড়া এ রোগ ভালো হবার নয়। সাধারণভাবে হারনিয়া হলো পেটের মধ্যস্থ খাদ্যনালী বা অন্য যেকোনো অঙ্গ পেটের দুর্বল স্থান দিয়ে বাহিরে চলে আসাকে বুঝায়।
সাধারণত যে স্বাস্থ্য সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন, সেটা প্রোস্টেট গ্রন্থির সমস্যা। হঠাৎ করে প্রস্রাব আটকে যাওয়া, জ্বালাপোড়া করা, ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব হওয়া কিংবা সম্পূর্ণ ক্লিয়ার না হওয়া প্রভূতি উপসর্গ নিয়ে কেউ যখন চিকিৎসকের কাছে যান, চিকিৎসক পরীক্ষা করেই বলে দেন যে সমস্যাটা প্রোস্টেটের। কিন্তু রোগী জানেন না প্রোস্টেট আসলে কী জিনিস। অনেক সময় রোগীর অপারেশনের প্রয়োজন হয়। রোগী ভয় পান এ ধরনের অপারেশনে যৌন সংক্রা- সমস্যা দেখা দিতে পারে ভেবে। পাঠক যাতে প্রোস্টেট সম্পর্কে জানতে পারেন তাই বিষয়গুলো সহজভাবে প্রশ্নোত্তর আকারে সাজানো হলোঃ
প্রোস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধির ফলে প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়। একে বলে প্রোস্টাটিজম। আর এ ধরনের প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিকে বলে বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপার প্লাসিয়া বা বিপিএইচ। বিপিএইচ হচ্ছে পুরুষদের সবচেয়ে সাধারণ বিনাইন (বিপজ্জনক নয় এমন) টিউমার। এটি ৫০ বছরের বেশি বয়সী বেশির ভাগ পুরুষের প্রস্রাবসংক্রান্ত কিছু উপসর্গের জন্য দায়ী। ধারণা করা হয় যে ৮০ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই ২০-৩০ শতাংশ পুরুষের বিপিএইচ’র জন্য মেডিক্যাল অথবা সার্জিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ঃ শিশু জন্মের সময় সাধারণত আনডিসেনডেড টেসটিস নির্ণয় করা হয়। চিকিৎসক আপনার শিশুর কুঁচকি এলাকা কটি থেকে অণ্ডথলি পরীক্ষা করেন। যদি অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকে, তাহলে রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসক এবার কুঁচকিতে কিংবা কুঁচকি এলাকার আশপাশে অণ্ডকোষ খুঁজে দেখতে পারেন। অণ্ডকোষ পেটের মধ্যে অবস্থান করলে তা আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নিরূপণ করা যেতে পারে। রোগ নির্ণয়ে এক্স-রে কিংবা আলট্রাসাউন্ড বেশ সহায়ক। চিকিৎসক আপনার শিশুকে একজন পেডিয়াট্রিক ইউরোলজিস্টের কাছে পাঠাতে পারেন পুনরায় পরীক্ষা করে দেখার জন্য।
টেসটিস বা অণ্ডকোষ পুরুষ হরমোন ও শুক্রাণু তৈরির জন্য দায়ী। পুরুষ ভ্রূণের বৃদ্ধির সময় পেটের মধ্যে এই অণ্ডকোষ বড় হতে থাকে এবং গর্ভাবস্থা প্রক্রিয়ার মধ্যে অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে নেমে আসে। সাধারণ গর্ভাবস্থার সাত থেকে নয় মাসের সময় অণ্ডকোষদ্বয় অণ্ডথলিতে নেমে আসে।
হারনিয়া অতি কমন একটি রোগ। জন্ম থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত যে কারো এই রোগ হতে পারে। আসলে হারনিয়া একটি সার্জিক্যাল রোগ অর্থাৎ অপারেশন ছাড়া এ রোগ ভালো হবার নয়। সাধারণভাবে হারনিয়া হলো পেটের মধ্যস্থ খাদ্যনালী বা অন্য যে কোনো অঙ্গ পেটের দুর্বল স্থান দিয়ে বাইরে চলে আসাকে বুঝায়।
প্রোস্টেট হচ্ছে একটা ছোট গ্রন্থি যা পুরুষদের থাকে। এটি অবস্থিত মূত্রথলির ঠিক নিচে। প্রোস্টেট ঘিরে রাখে প্রস্রাবের পথ বা মূত্রনালিকে। সাধারণত এটির আকৃতি প্রায় একটা আখরোটের মতো। যদিও সব পুরুষেরই প্রোস্টেট থাকে, তবে মধ্য বয়সে এটা সাধারণত বড় হতে শুরু করে।
প্রোস্টেটাইটিসের অর্থ হলো প্রোস্টেটগ্রন্থির প্রদাহ। এটি একমাত্র পুরুষদেরই থাকে, যার কাজ হলো প্রোস্টেট রস নিঃসৃত করা। কোনো অবস্থায় যদি এ রসের উপাদানে পরিবর্তন ঘটে কিংবা এর ক্ষরণ প্রতিহত হয় তাহলে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে।

Categories