স্বাস্থ্যকথা

ফুসফুস ও শ্বাসনালী

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
বিভিন্ন ধরনের এলার্জেন যেমন-ধূলা বালি-ধোঁয়া, ফুলের রেণু, কলকারখানার নির্গত বিষাক্ত গ্যাস, গাড়ীর ধোঁয়া, বিশেষ কিছু খাবার, ওষুধ ইত্যাদি এলার্জি ও এজমার সৃষ্টি করে। যে কোন সুস্থ ব্যক্তির এলার্জি হতে পারে। সামান্য উপসর্গ হতে শুরু করে মারাত্মক উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে, এমন কি হঠাৎ তীব্র আকারে আক্রমণ করতে পারে। নিউইয়র্কে গবেষকরা বলেছেন যে, যানবাহন রাজপথে হাঁচি উদ্রেককারী এলার্জেন সৃষ্টি করে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনষ্টিটিউট অব টেকনোলজির মতে, প্রস্তর ফলক, ইষ্টক প্রভৃতি দ্বারা আস্তর করার পথে বিভিন্ন উৎস হতে কমপক্ষে ২০টি এলার্জেন পাওয়া যায়। ফুটপাতের ধূলিকণাকে বর্ণনা করেন এভাবে যে, এগুলো হচ্ছে মৃত্তিকার ধূলা, গাড়ীর গচ্ছিত নিঃশোষিত পদার্থ, টায়ারের ধূলা, গাছ পাতার খন্ড এবং অন্যান্য যৌগিক পদার্থের জটিল সংমিশ্রণ। পথের ধূলা শহরবাসীদের এলার্জি/এজমাতে প্রবলভাবে গ্রহণ করে। কারণ রাজপথ দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন, লোকজন প্রভৃতির মাধ্যমে এগুলো দ্রুত বেগে বায়ু মন্ডলে মিশে যায়। তাদের মতে শতকরা ১২ ভাগ শহরবাসী নিঃশ্বাসের সঙ্গে এমন বায়ু বাহিত এলার্জেন সৃষ্টি করে।
মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন ব্যবহার করে শ্বসতন্ত্রের বৈকল্য বা রেসপিরেটরি ফেইল্যুর রোগীকে বাঁচানো হয়। মারাত্মক জটিল হাঁপানী, ক্রনিক ব্রংকাইটিস সহ ভয়ংকর ধরনের আঘাতজনিত কারণে এই শ্বাসতন্ত্রের বৈকল্য ঘটতে পারে। তখন জীবন বাঁচানোর সর্বশেষ প্রচেষ্টা নেয়া হয় মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনের সাহায্য নিয়ে। ভেন্টিলেটর কাজ করে দু’ভাবে; যেমন গ্যাসকে ফুসফুসের ভেতরে পাম্প নিয়ে (যাকে পজেটিভ প্রেসার মেশিন বলে) অথবা বুকের চারদিকে একটি ঋণাত্বক চাপ সৃষ্টিও করে যাতে শ্বাস নেয়া যায়।
তিন সপ্তাহের বেশি কাশি বা দু’সপ্তাহের বেশি জ্বর চলতে থাকলে যক্ষ্মার কথা সন্দেহ করা উচিত, যদি অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না দেয়। আর এই সন্দেহ খুবই প্রয়োজন; কারণ এই সন্দেহই চিকিত্সককে দেবে রোগ নির্ণয়ের সঠিক ঠিকানা। ফুসফুসে যক্ষ্মা হলে কাশির সঙ্গে রক্ত যায় এটা যেমন ঠিক, তেমনি আবার যক্ষ্মা ছাড়া ফুসফুসের অন্যান্য রোগেও কাশির সঙ্গে রক্ত যেতে পারে, যেমন— ব্রংকিএকেটসিস, ফুসফুসের ফোড়া, ফুসফুসের ক্যান্সার, নিউমোনিয়া ইত্যাদি।
শ্বাসনালীর হঠাৎ প্রদাহ অসুখ প্রায় সর্বক্ষেত্রেই ব্যাকটেরিয়া অথবা ভাইরাস জীবাণু আক্রমণের ফলে হয়ে যায়। শিশু ও বয়স্করা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। শ্বাসনালী ও তার শাখা-প্রশাখার ক্ষুদ্র ঝিল্লি আক্রান্ত হওয়াই এ রোগের কারণ। হঠাৎ শ্বাসনালীর প্রদাহ রোগ সাধারণ সর্দি লাগার ফলেই হতে থাকে। সর্দি কণ্ঠনালী হতে নিচের দিকে প্রসারিত হতে বায়ুনালীগুলোকে আক্রমণ করলেই তার নাম হয় হঠাৎ শ্বাসনালীর প্রদাহ। যে ঋতুতে আবহাওয়া ঘন ঘন পরিবর্তিত হয় অর্থাৎ শরৎকাল ও বসন্তকালের প্রারম্ভেই রোগটি সাধারণত প্রকাশ পায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্বল দেহ, উপযুক্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য হতে বঞ্চিত এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করতে বাধ্য হয় এ ধরনের ব্যক্তিকে এ রোগ আক্রমণ করে।
ক্রনিক সাইনুসাটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ বা প্রদাহ। নাকের চারপাশে অস্থি সমূহে বাতাসপূর্ণ কুঠুরি থাকে যাদেরকে সাইনাস বলা হয়। সাইনুসাইটিস হলো উক্ত সাইনাস সমূহের ব্যাকটেরিয়া জনিত ইনফেকশন।
যক্ষ্মা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম জনস্বাস্হ্য সমস্যা। এইচআইভি/এইডসের দ্রুত বিস্তারের ফলে যক্ষ্মা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশ্বের ৬০০ কোটি মানুষের এক-তৃতীয়াংশ ২০০ কোটি মানুষ যক্ষ্মা জীবাণু সংক্রমিত।
তিন সপ্তাহের বেশি কাশি বা দুই সপ্তাহের বেশি জ্বর চলতে থাকলে যক্ষ্মার কথা সন্দেহ করা উচিত, যদি অন্যান্য এন্টিবায়োটিক কাজ না দেয়। আর এই সন্দেহ খুবই প্রয়োজন; কারণ এ সন্দেহই চিকিৎসককে দেবে রোগ নির্ণয়ের সঠিক ঠিকানা। ফুসফুসে যক্ষ্মা হলে কাশির সঙ্গে রক্ত যায় এটা যেমন ঠিক, তেমনি আবার যক্ষ্মা ছাড়া ফুসফুসের অন্যান্য রোগেও কাশির সঙ্গে রক্ত যেতে পারে, যেমন- ব্রংকিএকটেসিস, ফুসফুসে ফোঁড়া, ফুসফুসের ক্যাসার, নিউমোনিয়া ইত্যাদি।
সাধারণত সর্দিজ্বর বা ঠান্ডা লাগলে সবারই কমবেশি কিছুটা কাশি হয়। কখনো শুকনো, কখনো বা সামান্য কফও বের হয়। ফ্লু-জনিত বা গলায় সামান্য প্রদাহের কারণে কাশি তেমন অসুবিধার সৃষ্টি করে না, দু-চার দিন পর উপশম হয় এবং কাশির জন্য খুব বেশি ওষুধের দরকারও হয় না। কিন্তু কিছু রোগে কাশি একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দেয় এবং বেশ কয়েক দিন কাশি থাকে। কাশি রোগ নয়, কিন্তু রোগের উপসর্গ। এ জন্য সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে ওষুধ খেলে দীর্ঘমেয়াদি কাশি ভালো হয়ে যায়।
সিওপিডি মূলত ধূমপায়ীদের রোগ। ইহা ফুসফুসের একটি দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত রোগ যাতে শ্বাসনালীর বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং এই বাধা পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। পূর্বে এটিকে ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও এমফাইসিমা হিসাবে দেখা হত। কিন্তু বর্তমানে এটিকে সামগ্রিকভাবে ফুসফুসের বাধাজনিত রোগ বলে।
ধূমপায়ীদের শতকরা ৫০ ভাগ ধূমপানজনিত জটিলতায় মারা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, অধূমপায়ীর তুলনায় ধূমপায়ীর মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ৭০ ভাগ বেশি এবং ধূমপানজনিত কারণে কম বয়সীরা বয়স্কদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। যদিও ধূমপায়ী নারীর মৃত্যুহার পুরুষের তুলনায় কম, কিন্তু এই হার দিন দিনই বাড়ছে। আমেরিকায় মৃত্যুঝুঁকির সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে ধূমপান। আর ধূমপানজনিত কারণে প্রতিবছর সেখানে মারা যায় প্রায় পাঁচ লাখ লোক। প্রতি পাঁচজনে একটি মৃত্যুর কারণ হচ্ছে ধূমপান।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »

Categories