স্বাস্থ্যকথা

ভেষজ সম্পদ

লবঙ্গের অনেক গুণ

লবঙ্গ সাধারণত রান্নার সময় অনেকে ফোড়নে ব্যবহার করেন। গরম মসলার মধ্যেও লবঙ্গ থাকে। তা রান্নার স্বাদ বাড়ায়। এছাড়া লবঙ্গের আরও বিশেষ কিছু গুণ আছে, যা আমাদের শরীরের ক্ষেত্রে ভীষণ ফলদায়ী। চলুন সেগুলো জেনে নিই। — লবঙ্গ কফ-কাশি দূর করে। — পানির পিপাসা পেলে বা বুকে অস্বস্তি হলে লবঙ্গ খাওয়া দরকার। তাতে পিপাসা মেটে। শরীরে ফুর্তি নিয়ে আসে। — হজমে লবঙ্গ সহায়তা করে। — খিদে বাড়ায়। — পেটের কৃমি নাশ করে দেয়। — লবঙ্গ পিষে মিশ্রি বা মধুর সঙ্গে খাওয়া ভীষণ ভালো। এতে রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ায়। — এটা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কাজ করে। হাঁপানির মাত্রা কম করে। — চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে লবঙ্গ পিষে লাগালে ত্বকের যে কোনো সমস্যা দূর হয়ে যায়। — দাঁতের ক্ষেত্রে লবঙ্গ ভীষণ ভালো ওষুধ। দাঁতে ব্যথা হলে লবঙ্গ মুখে রাখুন কমে যাবে। — মুখে দুর্গন্ধ দূর করে লবঙ্গ। — মুখে ছালা হলে পানের মতো পেয়ারা পাতা চিবিয়ে খান, ছালা কমে যাবে।

**************************
দৈনিক আমার দেশ, ০২ র্মাচ ২০১০।

ভেষজ গুনাগুন : কাঁচামরিচের গুণের কথা

— ব্রণ উঠলে কাঁচামরিচ বেটে সেই লেপটা লাগান। উপকার পাবেন। — চুলকানি হলে তেলের মধ্যে কাঁচামরিচ গরম করে সেই তেলটা মালিশ করুন। জয়েন্টের ব্যথায়ও এটা ভালো কাজ করে। — কুকুর কামড়ালে কাঁচামরিচ পিষে সেই পেস্টটা লাগিয়ে দিন। বিষ ছড়াবে না। — মাকড়সা ত্বকের উপর দিয়ে গেলে মুখে ছোটো ছোটো দানা বের হয়। এতে কাঁচামরিচের পেস্ট লাগান, উপকার পাবেন।

**************************
দৈনিক আমার দেশ, ১৬ র্মাচ ২০১০।
রসুনের মধ্যস্থিত কেমিক্যাল ব্যবহার করে এবং দুই পর্যায়ের ডেলিভারি পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে ইঁদুরের ক্যান্সার ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ সংক্রান্ত গবেষণালব্ধ তথ্য ডিসেম্বর ২০০৩ সংখ্যা ‘মলিকিউলার ক্যান্সার থেরাপিউটিকস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
চায়ের উপকারিতা শুধু সকালের ভাঙা ঘুমের জড়তা কাটানোতেই সীমাবদ্ধ নয়। চায়ে আছে বহুমুখী গুণ যা আপনাকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে সহায়ক। চা খেলে গায়ের রং পরিবর্তন বা কালো হয় এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আবার কেউ কেউ মনে করেন চা খেলে ত্বক খসখসে হয়ে যাবে। অনেকে আবার বিশ্বাস করেন, চা খেলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চামড়ায় কালো ছাপ পড়ে এর কোনটিই ঠিক নয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত খেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে আদা

রান্নাবান্নার কাজে আদা ব্যবহারের কথা রাঁধুনীদের কাছে অজানা নয়। মূলত সুগন্ধযুক্ত বলে এটি মসলা হিসাবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এর পাশাপাশি বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণায় নানা রোগ প্রতিরোধে এর শক্তিশালী কার্যকর ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক পরিচালিত এক গবেষণায় জানা গেছে, আদা রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কার্যকরভাবে কমাতে সাহায্য করে। মূলত রক্তে অধিক মাত্রার কোলেস্টেরলের উপস্থিতি হৃদরোগ সৃষ্টির বিভিন্ন কারণের মধ্যে বিশেষ একটি। গবেষকদের মতে, আদায় রয়েছে রক্ত জমাটবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা রক্তনালীর ভিতরের রক্ত জমাটে বাধা দান করে। এ ছাড়াও আদা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগ প্রতিরোধ সহজ হয়। সুতরাং আদার গুণ ভোলার নয়। ************************** দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ এপ্রিল ২০০৯।

প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ খাবারের সঙ্গে ‘কালিজিরা’ গ্রহণ করে আসছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানতে পেরেছেন যে কালিজিরার সব গুণ লুকিয়ে আছে এর তেলে। সাধারণত আমরা খাবারের সঙ্গে মসলা হিসেবে অথবা ভর্তা করে ভাতের সঙ্গে কালিজিরা খেয়ে থাকি। কিন্তু এভাবে আমাদের স্বাস্থ্য কালিজিরার আসল গুণাবলি থেকে বঞ্চিত হয়। তাই কালিজিরা নয়, বরং কালিজিরার তেল আমাদের শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারী।

রসুন, পেঁয়াজ এবং অন্যান্য ঝাঁঝালো সবজি অনেক ক্ষেত্রেই বেশ উপকারী। ক্যাসার গবেষকদের মতে রসুন ও পেঁয়াজ নিয়মিত খেলে পুরুষরা প্রষ্টেট ক্যাসারের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে। চীন দেশের গবেষকরা এ ব্যাপারে আরো উচ্চকিত। তারা বলেন, যারা প্রত্যহ ১০ গ্রামের অধিক পরিমাণে রসুন, পেঁয়াজ বা অন্যান্য ঝাঁঝালো স্বাদের সবজি খেয়ে আসছেন, তাদের প্রষ্টেট ক্যাসার হওয়ার ঝুঁকি যারা প্রত্যহ ২.২ গ্রামের কম খাচ্ছেন তাদের অর্ধেক (৫০%)।
খুবই পরিচিত লতাগুল্ম। ত্রিফলা। এরই হিতকরী গুণ পরীক্ষা করে দেখেছিল পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের একটি গবেষক দল। তারা দেখেছিল, ইঁদুরের দেহে মানব-অগ্ন্যাশয় টিউমার গ্রাফ্‌ট করার পর সেগুলোকে ত্রিফলার রস খাওয়ানোয় সেই টিউমারের বাড়ন অনেক ধীর করে নিয়ে এল। ২০০৭ সালের এপ্রিলে আমেরিকার অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যান্সার রিসার্চের বার্ষিক সভায় এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে আশা প্রকাশ করা হলো যে একদিন এ দিয়ে একটি চিকিৎসা উদ্ভাবন সম্ভব হবে।
গ্রীন টি বা সবুজ চা উপকারী এ নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। তবে সবুজ চা পানের একটা নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে সবুজ চা ‘কমন কোল্ড’ বা শীতকালীন ঠান্ডাজনিত সমস্যা রোধ করতে সহায়ক।
(ডা. মোঃ সাদেকুর রহমান) প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রায় ১৪শ’ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছিলেন, ‘কালোজিরা রোগ নিরাময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তোমরা কালোজিরা ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই প্রায় সব রোগের নিরাময় ক্ষমতা এর মধ্যে নিহিত রয়েছে।’

Categories