স্বাস্থ্যকথা

মাদকাসক্তি ও প্রতিকার

ধূমপানের নানা অপকারিতা সম্পর্কে জানেন মোটামুটি সকল ধূমপায়ী। তারপরও ধূমপান ত্যাগ করতে দেখা যায় অনেক কমসংখ্যক ধূমপায়ীকে। ধূমপান থেকে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালী সরু হয়ে হার্ট এ্যাটাকের মত বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটতে পারে। কমে যায় গড় আয়ু, কর্ম ক্ষমতা তার পরও ধূমপায়ীদের তেমন কোন উদ্বেগ নেই। অনেকের ধারনা বহু বছর ধরে ধূমপান করছি, দাদা ধূমপায়ী ছিলেন, বাবা ধূমপায়ী ছিলেন কোন সমস্যা তো দেখিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বিপদ যাদের আসে তারাই বোঝেন।
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ধূমপানের কুফল হিসেবে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালী সরু হয়ে হার্ট এ্যাটাকের ঝুকি বৃদ্ধি, মস্তিস্কে রক্ত চলাচলে বাধা, যৌন ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা ক্ষতিকর দিক রয়েছে ধূমপানের। অনেকেই ধূমপান নামক এই ঘাতককে চিরতরে নির্বাসনে দিতে চান কি‘ নানা কারণে ধূমপান আর ছাড়া হয় না। বিশেষজ্ঞগণ ধূমপানের আসক্তি থেকে নিজেকে রক্ষার ১৩টি উপায় বলে দিয়েছেন। এসব অনুসরণ করলে অবশ্যই ধূমপান ছাড়া সম্ভব।
অতীতের বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল বিচার করে সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ বলেছেন, ধূমপায়ীগণ অধূমপায়ীর, চেয়ে দ্বিগুণ বিষণ্নতার শিকার হন। গবেষণাটি মূলত মহিলাদের উপর করা। একটি জরিপে দেখা গেছে ডাক্তারদের চেয়ে নার্সগণ বেশি ধূমপান করেন, পরিসংখ্যানটি লন্ডনের। এই জন্যই হয়ত গবেষণাটিতে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তিকরণ। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত সময়কালে ১৪৯৪ জন মহিলার উপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
যেসব ছেলেমেয়ে নিয়মিত অ্যালকোহলের নেশা করে তাদের মধ্যে আচার-আচরণের অস্বাভাবিকতা বা অসংলগ্নতা দেখা যায়। তারা কিন্তু অ্যালকোহলের জন্য এই আচার ব্যবহারের অস্বাভাবিকতাকে ‘অস্বীকার’ করে থাকে। অস্বীকার করাটাই একটা বিশেষ মানসিকতা, যা নেশা করার জন্য ধীরে ধীরে গভীরে তৈরি হয়।

ধূমপান পরিহারের ওষুধ!

বিশ্বে প্রতিবছর ধূমপানজনিত ক্যান্সারের জন্য ১ মিলিয়ন মানুষ অপরিণত বয়সে মৃত্যুবরণ করে। আর এই ধূমপান ত্যাগ করতে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের মেডিসিন কন্ট্রোল এজেন্সি ‘বিউপ্রপিয়ন’ নামক একটি ওষুধকে অনুমোদন দিয়েছে। ধূমপান পরিহারের মূলত এটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র ওষুধ। এটি মূলত এন্টি ডিপ্রেশেন্ট হলেও রাসায়নিকভাবে অন্য এন্টি ডিপ্রেশেন্ট থেকে আলাদা। ধূমপান বন্ধ করতে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানা না গেলেও ধারণা করা হয় যে, এটা ডোপামিনের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়, যা ধূমপান আসক্তিতে হয়ে থাকে। ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের একদল গবেষকের নেতৃত্বে গবেষণায় দেখা যায় যে, দৈনিক ৩শ’ মিলিয়ন বিউপ্রপিয়ন সেবনে ধূমপায়ীর সংখ্যা ২৩.১% হ্রাস পেয়েছে। ৬১৫ ধূমপায়ীর ওপর সাত সপ্তাহব্যাপী এ গবেষণা চালানো হয়। ধূমপান পরিহারে এটিই অদ্যাবধি অর্জিত সবচেয়ে বড় সাফল্য। তদুপরি কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন অনিদ্রা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কিছুটা অবসন্ন লাগা ইত্যাদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বহুলাংশে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। সুতরাং ধূমপান ত্যাগ করুন আর সেই সঙ্গে ফুসফুসের ক্যান্সারসহ মারাত্মক ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি এড়ান এবং ভাল থাকুন। ************************** ডাঃ কাজী মাহবুবা আক্তার দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ এপ্রিল ২০০৯।
(অধ্যাপক আর কে খন্দকার) জেনে-শুনে নিশ্চয়ই আপনি বিষপান করবেন না। কিন্তু জানেন কি প্রতিনিয়ত ধূমপানের মাধ্যমে আপনি তামাকের বিষাক্ত নিকোটিন ও কার্বন মনোক্সাইড গ্রহণ করছেন। শুনলে অবাক হবেন একটি সিগারেট চার হাজারেরও বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যা থেকে ২৫টি জটিল রোগ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিবছর বিশ্বে ৪ মিলিয়ন লোক মৃত্যুবরণ করছে এই তামাক সেবনের ফলে।

(সামীমা সেকান্দার)

দৈহিক অসুস্থতা দিয়ে শুরু হয় এবং শেষ হয় মানসিক রোগ ও মৃত্যু দিয়ে। মাদকাসক্তির কুফল ও মাদকাসক্তি সম্পর্কে ভুলধারণাসমূহ জেনে নিয়ে মনোবল শক্ত না করে চিকিৎসা করলে নেশার জীবন আবার ব্যক্তিকে আকর্ষণ করবে।

(আবুল খায়ের) ইয়াবা ট্যাবলেটে আসক্ত শিড়্গিত তরম্নণ-তরম্নণীরাই বেশি। তাও তারা সাধারণ কিংবা মধ্যবিত্ত নয়, অভিজাত এলাকার ধনীর দুলাল-দুলালী। পিতা-মাতারা কোটি কোটি টাকার দিকে ছুটছে আর বিলাস বহুল জীবনযাপন করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের আদরের দুলাল-দুলালীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার ফাঁকে মরণ নেশায় আসক্ত। সেইদিকে অভিভাবক হিসেবে তাদের দৃষ্টি নেই। সন্তানরা চাওয়া-মাত্র দুই হাতে টাকার বান্ডিল ঐ সকল পিতা-মাতা তুলে দিচ্ছেন।
(প্রথম আলো) ইয়াবা’ নিয়ে অনেক আলোচনা চারদিকে| এটি আসলে কী? আমি প্রথম আলো মাদকবিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য ও উপদেষ্টা | প্রায়ই ভাবি, আমাদের একটা বই থাকা দরকার বা একটা ওয়েবসাইট, যেখানে সব ধরনের মাদকের কুফল সম্পর্কে তথ্য থাকবে|
(তারানা নাশিদ) মানুষের জীবন একটাই, তাই যতোটা ভালোভাবে পারা যায় সেই জীবনকে যাপন করা উচিত। সাধারণভাবে প্রতিটি মানুষই এ কথাটির সঙ্গে একমত হবেন। কিন্তু সিগারেটপ্রেমীদের ক্ষেত্রে এ কথাটি প্রযোজ্য নয়।

Categories