স্বাস্থ্যকথা

মানসিক স্বাস্থ্য

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
অসুখ বিসুখে ডাক্তাররা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে বলেন। টেনশন করলে সহজে রোগ সারে না। এজাতীয় কথা তাঁরা সব সময়ই বলে থাকেন। কেন বলেন জানেন ? টেনশন করলে শরীরের এ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে কার্টসেল নামের এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনের ফলে রক্ত থেকে ইন্টারলিউকিনস নামক এক ধরনের যৌগিক পদার্থের পরিমাণ কমে যায়। আর ইন্টারলিউকিনস হলো রক্তের সেই যৌগ বা রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। সুতরাং অসুখ বিসুখে টেনশন করা আর নিজের পায়ে নিজের কুড়াল মারা সমান কথা। তাই টেনশন ফ্রী থাকুন দ্রুত সুস্থতা ফিরিয়ে আনুন।

**************************
দৈনিক ইত্তেফাক, ৩১ মার্চ ২০১২।
‘ফবস’ গ্রিক শব্দ যার অর্থ ভয়। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা অনেক কিছু তা ব‘ বা পরিস্থিতি বা ব্যক্তিকে ভয় পাই যা একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কি‘ এই ভীতি বা ভয়ের কারণে জীবন যখন অচল হয়ে পড়ে তখনই কেবল এটা ডিসঅর্ডার বলা যাবে।
শিশুর মানসিক স্বাস্হ্য ও মনের বিকার নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে, শিশুদের অনেক আচরণগত ত্রুটিই মানসিক রোগের পথ ধরে আসে। বয়স্কদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, অনেক অসুখ ও আচরণের বিচ্যুতি একমাত্র শিশুদের মধ্যেই বিদ্যমান। তার মধ্যে অতিপরিচিত- আঙ্গুল চোষা, দাঁত দিয়ে নখ কাটা থেকে মানসিক ভারসাম্যহীনতা পর্যন্ত হতে পারে। অনেক বাবা-মা তাদের বাচ্চার আঙ্গুল চোষা বা দাঁতে নখ কাটা নিয়ে বেশ বিচলিত বোধ করেন। এই লক্ষণ বহু শিশুর মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু এগুলো যে মোটেই মারাত্মক বা দুরারোগ্য ব্যাধি নয়, এটাও অভিভাবকদের জানা দরকার।
অনেকেই আছেন যারা সামান্য দুঃচিন্তা, মানসিকচাপ বা অবসাদ, বিষণ্নতা অনিদ্রা ইত্যাদি মনোগত সমস্যায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত ঔষধ খেয়ে থাকেন। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ ধরনের ঔষুধ সেবনের প্রবণতা বেশী লক্ষ্য করা যায়। রিলাক্সেন, ডিএংজিট, রেংজিট, মুডন, ক্লোবাজাম ইত্যাদি হরেক নামের মনোগত ওষুধ সেবনে অনেকেই রীতিমত অভ্যস্ত হয়ে পড়েন।
মানসিক রোগ এমনই একটি রোগ যে রোগে জীবনের কোন না কোন সময়ে আমরা যে কেউ আক্রান্ত হতে পারি। তাই বিভিন্ন মানসিক রোগ সর্ম্পকে আমদের প্রত্যেকেরই ধারণা থাকা উচিত। মানসিক রোগ মূলত দুই প্রকার। যেমন (১) নিউরোসিস এবং (২) সাইকোসিস।
অটিজম কোন সাধারণ রোগ নয়। এটি শিশুদের একটি মনোবিকাশগত জটিলতা যার ফলে সাধারণত ৩টি সমস্যা দেখা দেয়া। যেগুলো হচ্ছে- প্রথমতঃ মৌখিক কিংবা অন্য কোনো প্রকার যোগাযোগ সমস্যা, দ্বিতীয়তঃ সমাজিক বিকাশগত সমস্যা, তৃতীয়তঃ খুব সীমাবদ্ধ ও গণ্ডিবদ্ধ জীবন-যাপন ও চিন্তা-ভাবনা এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ এছাড়া অতি চাঞ্চল্য (Hiper Activity), জেদী ও আক্রমণাত্মক আচরণ (Aggressiveness), অহেতুক ভয়ভীতি, খিচুনী ইত্যাদি ও থাকতে পারে।
এমন কিছু লোক আছেন যাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় সময় নেতিবাচক। ছোট কাজ করতে গিয়ে, ঘেমে নেয়ে একশত, গ্লাসের অর্ধেক পানি থাকলে সবসময় একে অর্ধেক খালি গ্লাস দেখতে অভ্যস্ত, বন্ধু বান্ধব নেই, বন্ধুর করতেও পরেননা লোকের সঙ্গে, মনের অনুভূতি সবসময় ভেতরেই পুষে রাখেন।
বিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের বেশির ভাগ মনের আবেগ আসে মাথা থেকে। ফলে কাব্যজগতে বুকের অবস্থান দুর্বল হয়ে গেছে। আগে ভাবা হতো, বুকের মাঝে হ্নদয় ওরফে হার্ট, এ হার্ট ওরফে হৃদয় হতে আসে সব আবেগ। ফলে কারো প্রেম ভেঙে গেলে আমরা বলি বুক ভেঙে খান খান। তার সঙ্গে হ্নদয়খানও। তবে বুকের ব্যথা (প্রেমঘটিত নয়) মোটেও হেলাফেলার জিনিস নয়। সেখান থেকেই হয় হার্ট অ্যাটাক।
(অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী) মনের চাপ কমান দীর্ঘজীবী হোন আমাদের ব্যস্ত জীবনের বুননের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে মানসিক চাপ, স্বাস্থ্যের ওপর আসে বড় বিপর্যয়-জীবনের ওপরও বটে। মানসিক চাপের প্রভাব চাপের ঝক্কিঝামেলার সময় মানুষ পলায়ন করে বা যুদ্ধ করে, বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে মানুষ স্বয়ং প্রবৃত্ত হয় এসব কাজে। তখন রক্তে বেরিয়ে আসে হরমোন ইপনেফ্রিন বা এড্রিনালিন।
(ডা· এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ) আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বায়নের যুগে মানসিক স্বাস্থ্যঃ সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যের প্রভাব’। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। আজকের স্বাস্থ্যকুশল-এর বিশেষ আয়োজন এ দিবসকে নিয়ে।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »

Categories