স্বাস্থ্যকথা

অ্যাজমা

১. অ্যালার্জিকারক বস্তু এড়িয়ে চলা। যেমনঃ ধুলো, বালি, ঘরের ঝুল, ধোঁয়া, ঝাঁঝালো গন্ধ ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা।
নেবুলাইজার হলো এক ধরনের মেশিন, যা কোনো তরল ওষুধকে বাতাস বা অক্সিজেনের সাহায্যে এক প্রকার বাষ্পে পরিবর্তন করে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম নেবুলাইজার মেশিন পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু প্রায় সব মেশিনে ৪টি অংশ আছে।
সাইনোসাইটিস কিংবা ন্যাজাল কনজেসশন-এর জন্য ঠাণ্ডা ও ফুলের রেণুকে সবাই দায়ী করে থাকেন। কিন্তু একথা সবসময় সত্য নয়। ইতালিয়ান গবেষকদের মতে, সাধারণত ব্যবহৃত হয় এমন খাদ্য সংরক্ষক-এর কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ন্যাজাল কনজেসশন হতে পারে।
প্রথম বিশ্ব হাঁপানি দিবস পালিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, বিশ্বের ৩৫টি দেশে। সেই সঙ্গে প্রথম বিশ্ব হাঁপানি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্পেনের বার্সেলোনায়। এর পর থেকে এ দিবসটি আরও গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে পৃথিবীর নানা দেশে। একটি গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে হাঁপানি রোগ বিশ্বজুড়ে বিবেচিত হয়ে আসছে। বায়ুপথের এই ক্রনিক রোগটি বিশ্বের নানা দেশের সব বয়সের মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রোগটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে দৈনন্দিন জীবন যাপনে আসে সীমাবদ্ধতা, অনেক সময় ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে রোগী।
অ্যাজমা বা হাঁপানি হলো শ্বাসনালির দীর্ঘস্থায়ী ও প্রদাহজনিত একটি রোগ। এ রোগটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত। বিশ্বের প্রায় ২০ কোটি লোক এতে আক্রান্ত। প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ লোক এ রোগে মৃত্যুবরণ করে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমাদের দেশে ৭০ লাখ লোক এ রোগে ভুগছে। তাদের ৫০ শতাংশের বয়সই ১৫ বছরের নিচে।
অস্থিক্ষয় বা অস্টিও পোরেসিস হচ্ছে এমন একটি অসুখ যার ফলে অস্থি বা হাড়ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। হাড়ের শক্তি কমে যায়, ফলে প্রবণতা তৈরি হয় হাড় ভাঙ্গার। অস্টিও পোরোসিসের দ্বারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় যে হাড়গুলি তারা হচ্ছে মেরুদন্ডের ছোট ছোট হাড় (কশেরুকা), কবজি, বাহু এবং বস্থি প্রদেশের হাড়গুলি।
যাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় আমরা বলি অ্যাজমার রোগী। যাকে বাংলায় বলে হাপানি। অ্যাজমা হলে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। সে সময় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, শ্বাসের সঙ্গে একটা টান চলে আসে। এ টানকেই বলে হাপানি। যখন মানুষের লাংগস বা ফুসফুস যথেষ্ট পরিমাণ বাতাস টানতে পারে না তখন শরীরে বাতাসের অভাব দেখা দেয়। আর এটাকেই আমরা অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়া বুঝি। শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে বেশি। আর শীতকালে ঠান্ডাজনিত অ্যালার্জির কারণে অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি থাকে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সারা বিশ্বে অ্যাজমা বা হাপানি রোগটি বাড়ছেই।
ছয় বছর বা তার কাছাকাছি বয়সের সন্তানের পিতা মাতা তাদের শিশুদের অসুখ প্রসঙ্গে নিচের কথাগুলো প্রায়ই বলে থাকেন। আমার ছেলের ঘন ঘন সর্দি হয়। সারতে সময় লাগে কয়েক সপ্তাহ। এর বন্ধুদেরও সর্দি হয়। তবে ওরা খুব তাড়াতাড়ি সেরে ওঠে। আমার ছেলে সুস্থ হয় খুব ধীরে ধীরে। আর সর্দি সেরে যাওয়ার পরপরই ওর কানে ইনফেকশন হয়, কাশি থাকে এবং বুকে শন শন শব্দ হয় কয়েক সপ্তাহ ধরে।
(ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস) গত কয়েক দশক ধরে অ্যাজমা এবং দৈহিক স্খূলতার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে উচ্চবর্গের মানুষের মধ্যে। সে কারণেই বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণা ও সমীক্ষা চালানো হচ্ছে এই দু’টির মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক আছে কি না তা খুঁজে বের করার জন্য।
(ডাঃ মোহাম্মদ শফিকুর রহমান পাটওয়ারী) গ্রীক ভাষায় অ্যাজমা শব্দের অর্থ হল হাঁপ ধরা অথবা হ্যাঁ করে শ্বাস টানা। গ্রীক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস যে কোন ধরনের শ্বাসকষ্টকে হাঁপানি নাম দিয়েছিলেন। অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট এমন একটা রোগ যার নির্দিষ্ট কোন কারণ নেই।

Categories