স্বাস্থ্যকথা

অ্যালার্জি

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
পৃথিবীর সর্বত্র অ্যালার্জি একটি বহুবিস্তৃত রোগ। প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন ব্যক্তিজীবনের কোনো না কোনো সময় অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়। অ্যালার্জির কারণ বহুবিধ। এর উপসর্গ অনেক রকম—মৃদু থেকে মারাত্মক এবং জীবন সংহারী হতে পারে। অ্যাজমা রোগের উত্পত্তি এবং বিস্তারের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে অ্যালার্জি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে, বেশিরভাগ অ্যালার্জির উপযুক্ত চিকিত্সা আবিষ্কৃত হয়েছে।
সচরাচর নির্দোষ বলে গণ্য কোনো জিনিস যদি শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তবে তাকে এলার্জি বলা হয়। যে সব দ্রব্য এলার্জি সৃষ্টি করে তাকে বলা হয় এলারজেন বা এন্টিজেন এবং এসব দ্রব্য দেহে প্রবেশের ফলে দেহের অভ্যন্তরে যে দ্রব্য সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় এন্টিবডি। এন্টিজেন ও এন্টিবডি পরস্পর মিলিত হলে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় এন্টিজেন-এন্টিবডি বিক্রিয়া।
ল্যাটেক্স হচ্ছে, রাবার গাছ থেকে উৎপন্ন দুধের মতো তরল একটি প্রাকৃতিক পদার্থ। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ল্যাটেক্স ব্যবহার করে বিভিন্ন জিনিস প্রস্তুত করা হয়। যেমন- গ্লাভস ও বেলুন। এসব প্রস্তুত করার সময় ল্যাটেক্সের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয় যাতে এগুলোর পিচ্ছিলতা বজায় থাকে এবং রাবারকে বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শ থেকে দুরে রাখা যায়।
নানা রকম জিনিস যা আমরা খেয়ে থাকি, আমাদের শরীরে লাগে বা ভেতরে ঢোকে এবং তার বিরুদ্ধে অতি বা পরিবর্তিত এবং বর্ধিত প্রতিক্রিয়া শরীরে হলে তবে তাকে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া বলে। গরুর দুধ, গরুর মাংস, ডিম, কলা, বেগুন, চিংড়ি, ইলিশ মাছ তো আমরা সবাই খাই। কেউ কেউ এসব খেয়ে পেট ব্যথা, হাঁপানি বা সর্দিতে ভোগেন। এগুলোই হলো খাদ্যের অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন। ৬ থেকে ৮ ভাগ শিশু এবং ১ থেকে ২ ভাগ বৃদ্ধ সচরাচর খাদ্য অ্যালার্জিতে ভুগে থাকেন। তবে জন্ম হওয়ার প্রথম বছরের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।
অ্যালার্জি কীঃ অ্যালার্জি হলো কোনো জিনিসের (অ্যান্টিজেন) প্রতি শরীরের রোগ-প্রতিরোধব্যবস্থার বাড়তি প্রতিক্রিয়া। যখন অ্যান্টিজেন শরীরে প্রবেশ করে, শরীর ভুল করে একে বিপজ্জনক মনে করে। যার অ্যালার্জি আছে তার শরীরের রোগ-প্রতিরোধব্যবস্থা ভুলক্রমে নিরীহ বস্তু, যেমন-ফুলের রেণু, প্রাণীর ত্বকের বা পালকের ঝরে যাওয়া ক্ষুদ্র অংশ, ডিম, দুধ ইত্যাদি বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে। এই আপাতদুষ্ট বস্তুগুলোকে অ্যালার্জেন বলে।
নানা রকম জিনিস যা আমরা খেয়ে থাকি, আমাদের শরীরে লাগে বা ভেতরে ঢোকে এবং তার বিরুদ্ধে অতি বা পরিবর্তিত এবং বর্ধিত প্রতিক্রিয়া শরীরে হলে তবে তাকে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া বলে। গরুর দুধ, গরুর মাংস, ডিম, কলা, বেগুন, চিংড়ি, ইলিশ আছে তো আমরা সবাই খাই। কেউ কেউ এসব খেয়ে পেট ব্যথা, হাঁপানি বা সর্দিতে ভোগেন। এগুলোই হলো খাদ্যের অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন। ৬ থেকে ৮ ভাগ শিশু এবং ১ থেকে ২ ভাগ বৃদ্ধ সচরাচর খাদ্যে অ্যালার্জিতে ভুগে থাকেন। তবে জন্ম হওয়ার প্রথম বছরের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।
পরিচ্ছন্ন বাড়িতেও ধুলো এলার্জি সাধারণ ঘটনাঃ বছরব্যাপী মানুষ ভোগে নাক থেকে পানি ঝড়ায়, চোখ চুলকানি, চোখ থেকে পানি ঝড়ায়। তার মূল কারণ ঘরের ধুলোর জীবাণু। ধুলোর কারণে এ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, নিঃশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে কাশি হয়।
সে দিন বিকেলে চেম্বারে গিয়ে যখন ঢুকি তখন আনুমানিক বিকেল ৫টা। আমি রোগী দেখা শুরু করার আগেই এক মধ্যবয়সী মহিলা মুখ ঢাকা অবস্থায় হন্তদন্ত হয়ে আমার রুমে ঢুকে বলেন­ স্যার, আমার খুব সমস্যা। আমাকে একটু আগে দেখে দেবেন কি? আমি বললাম­ আপনি কি সিরিয়াল নিয়েছেন? উত্তরে তিনি বললেন­ আমার সিরিয়াল ১৩। একটু পেছনে। আমার তো খুব কষ্ট হচ্ছে। যদি একটু দয়া করতেন, স্যার। আমি তার আবদার-অনুরোধ শুনে তাকে বসার জন্য বললাম এবং জানতে চাইলাম আপনার সমস্যাটা কী? তিনি তখন মুখের কাপড় খুলে বললেন­ স্যার, দেখুন আমার মুখের অবস্থাটা কী।
এলার্জি বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের কাছে এক অসহনীয় ব্যাধি। এলার্জি হাঁচি থেকে শুরু করে খাদ্য ও ওষুধের ভীষণ প্রতিক্রিয়া ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে এলার্জি সামান্যতম অসুবিধা করে, আবার কারো ক্ষেত্রে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।
আমাদের অনেকেরই ধারণা অ্যালার্জির কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ওষুধ দিয়ে উপসর্গ কিছু দিন দমিয়ে রাখা যায় এবং ওষুধ বন্ধ করলেই আবার শুরু হয় উপসর্গগুলো। এ কথা কিন্তু অমূলক কিছু নয়। প্রায় ক্ষেত্রেই তাই দেখা দেয়। এ জন্যই জনগণ তখন অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা বাদ দিয়ে অন্য চিকিৎসা যথা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করে থাকেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে তাবিজ-কবজ, ঝাঁড়ফুক নিয়ে থাকেন, কিন্তু তার পরও যখন কোনো সমাধান পান না তখনই হতাশ হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »

Categories