স্বাস্থ্যকথা

উচ্চ রক্তচাপ

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ মানব জাতির অন্যতম ঘাতক রোগ এবং শতকরা ১০-১৫ ভাগ মৃৃত্যুই উচ্চ রক্তচাপের কারণে হয়ে থাকে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে শতকরা প্রায় ২০ জনই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। এই রোগ যথাসময়ে শনাক্ত ও সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে বিভিন্ন প্রকার জটিলতাসহ অকাল মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই এই রোগ সম্পর্কে কিছু ধারণা থাকা সবারই প্রয়োজন।
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর প্রভাব শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতি হতে পারে। তবে মস্তিস্ক, হার্ট ও কিডনি বেশি ক্ষতিগ্র- হয়। রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রণে থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি সাতগুণ বেড়ে যায়, হার্ট ফেইলরের ঝুঁকি ছয়গুণ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তিনগুণ বাড়ে। আমাদের দেশে ১৮ বছর বয়সের উর্ধ্বে শতকরা ১৫-২০ ভাগ লোক উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। যদি কোন লোকের ৫০ বছর বয়সেও স্বাভাবিক রক্তচাপ থাকে এবং সে যদি ৮০ বছর বাঁচে; তবে তার উচ্চ রক্তচাপে ভোগার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ। সাধারণত আমরা বলে থাকি ১১৫/৭৫ mm.Hg রক্তচাপ থাকা ভাল। তার ওপরে যদি রক্তচাপ থাকে তবে তাতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগীদের এই ঝুঁকি আরো বেশি। রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ mm.Hg এর ওপরে থাকে তবে তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসাবে ধরা হয়।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে পাঠকের সমস্যার বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
রক্তনালির মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালিত করে হৃৎপিণ্ড। হৃদযন্ত্র থেকে পাম্প হওয়া রক্ত দিয়ে ধমনির দেয়ালে যে বল প্রয়োগ হচ্ছে, সেই বলের পরিমাণ হলো রক্তের চাপ। ধমনির মধ্য দিয়ে রক্ত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বল প্রয়োগে যখন পাম্প হতে থাকে, তখনই হয় উচ্চ রক্তচাপ। ধমনির ওপর এই বাড়তি চাপের কারণে ধমনির দেয়ালে চর্বির স্তর পলির মতো পড়তে থাকে। এই প্রক্রিয়া হলো এথারোস্ক্লেরোসিস। এর পরিণতিতে হার্ট অ্যাটাক ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (স্ট্রোক) মতো সমস্যা হয়। এথারোস্ক্লেরোসিসের অন্যান্য ঝুঁকি হলো ধূমপান ও রক্তে উঁচুমান কোলেস্টেরল থাকা। উচ্চ রক্তচাপ হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের সচরাচর একটি সমস্যা। এ সমস্যা জগৎজোড়া। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা বাড়ে। প্রবীণদের ধমনির স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়ায় তাঁদের রক্তচাপ বাড়ে কিছুটা স্বাভাবিক নিয়মেই।
উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে খাদ্যের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই রক্তের চাপ কমাতে প্রথমেই খাবারের ব্যাপারে সজাগ হওয়া দরকার। দেখা গেছে, খাবারে সোডিয়াম, ক্যালরি, আমিষ ও চর্বি কমিয়ে ফেললে তা রক্তচাপ কমাতে বেশ কাজে দেয়। একটা ধারণা প্রচলিত আছে, রক্তচাপ বাড়া ও কমার সঙ্গে লবণের বেশ সম্পর্ক রয়েছে। যদি দৈনিক ৪ গ্রাম লবণ খাওয়া হয়, তাহলে রক্তচাপ একেবারে স্বাভাবিক থাকে। তবে এটি এখনো প্রমাণিত হয়নি যে উচ্চ রক্তচাপের কারণ অথবা উচ্চ রক্তচাপ সারানো একমাত্র লবণ গ্রহণ ও বর্জনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু লবণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই সুফল বয়ে আনে।
অধিক লবণ গ্রহণ স্বাস্থ্যের ওপর যথেষ্ট ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে আমাদের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক), হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ও হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশ্বের যেসব জনগোষ্ঠী লবণ কম খায় তাদের শতকরা ৮০ ভাগের উচ্চ রক্তচাপ থাকে না। পক্ষান্তরে যেসব জায়গায় মানুষ লবণ বেশি গ্রহণ করে, যেমন জাপানে উচ্চ রক্তচাপ মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করেছে; সেখানকার প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেকই উচ্চ রক্তচাপের শিকার। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও অস্টিওপোরোসিস, পাকস্থলির ক্যান্সার, শারীরিক স্থূলতা হতে পারে এবং অ্যাজমা থাকলে এর উপসর্গগুলো বৃদ্ধি পায়।
উন্নত বিশ্বে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হার্ট অ্যাটাকের রোগী উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন এবং মস্তিষ্কের স্ট্রোক রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনা থাকলেও স্ট্রোকের ফলে ৬০ ভাগ রোগী মৃত্যু বা পঙ্গুত্ববরণ করেন। হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেন স্ট্রোকের অন্যতম মূল কারণ হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ। ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি শারীরিক সমস্যা ও ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি উপাদান নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ কি? উচ্চ রক্তচাপ বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। সারা বিশ্বে ১৫০ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনী রোগের জন্য উচ্চ রক্তচাপ একটা গুরুত্বপূর্ণ রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান।
সারদিনের খাটুনির পর রাতের ঘুম দেয় প্রশান্তি। দূর করে সব ক্লান্তি। দেয় পরদিন নতুন উদ্যেমে কাজ করার শক্তি। কিন্তু ঘুমটি হওয়া চাই নির্বিঘ্ন ও অবশ্যই পর্যাপ্ত। ঘুম যদি পর্যাপ্ত না হয় তাহলে তা শরীরের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অপর্যাপ্ত ঘুম নিরবে শরীরের নানা ক্ষতি করে।
উচ্চ রক্তচাপের কারণে শরীরের যে কোনো ক্ষতস্হান থেকেই রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তেমনি দাঁত ও মুখের ক্ষতস্হান থেকেও ঘটতে পারে অঝোর ধারায় রক্তপাত। মুখ গহ্বরের ভেতরে মাঢ়ি অথবা দন্তমজ্জার প্রদাহের কারণে রক্তনালীর বাইরের আবরণ পাতলা হয়ে গেলে অথবা ছিঁড়ে গেলে উচ্চ রক্তপাতজনিত রক্তপাত হতে পারে।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »

Categories