স্বাস্থ্যকথা

কফ-সর্দি-কাশি

সর্দি-জ্বর কমন কোল্ড বাংলাদেশের অত্যন্ত পরিচিত রোগ। আমাদের দেশে সম্ভবত এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না যার বছরে অন্তত দু’একবার সর্দি-জ্বর হয়নি। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ কিংবা অফিসপাড়ায় প্রায়ই হাঁচি দিতে থাকা অথবা নাকের পানি মুছতে থাকা লোকজন নজরে পড়ে। ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, চিকিত্সক-প্রকৌশলী আমরা কেউ এ রোগ থেকে মুক্ত নই। একবিংশ শতকেও এ বিরক্তিকর রোগটি থেকে আমরা রেহাই পাইনি।
ফ্লু ভাইরাস প্রধানত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে ছড়ায়। অর্থাৎ ফ্লু আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি যদি উন্মুক্ত স্থানে হাঁচি-কাশি দেয় তাহলে এক মিটার বা এক হাতের মধ্যে থাকা সুস্থ ব্যক্তিটিও আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি বাতাসে হাঁচি-কাশি না দেয় তাহলে তার থেকে ভাইরাস ছড়ানোর কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। এ ভাইরাস সুস্থ মানুষের নাক দিয়ে ঢুকে শ্বাসনালীর উপরের অংশে অবস্থান করে এবং এক-পাঁচদিন কোনওরকম উপসর্গ ছাড়াই এখানে অবস্থান করে। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে এটি শ্বসনতন্ত্রের নিচের অংশে গিয়ে মারাত্মক লক্ষণ যেমন নিউমোনিয়া প্রকাশ করে।
অ্যালার্জি সর্দি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সমস্যা। শতকরা ১০-২৫ ভাগ জনসমষ্টি এ রোগের শিকার। শিশুদের স্কুলের শিক্ষায় বাধা এবং চাকরিজীবীদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার এটি অন্যতম কারণ।
সাধারণত সর্দিজ্বর বা ঠান্ডা লাগলে সবারই কমবেশি কিছুটা কাশি হয়। কখনো শুকনো, কখনো বা সামান্য কফও বের হয়। ফ্লু-জনিত বা গলায় সামান্য প্রদাহের কারণে কাশি তেমন অসুবিধার সৃষ্টি করে না, দু-চার দিন পর উপশম হয় এবং কাশির জন্য খুব বেশি ওষুধের দরকারও হয় না। কিন্তু কিছু রোগে কাশি একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দেয় এবং বেশ কয়েক দিন কাশি থাকে। কাশি রোগ নয়, কিন্তু রোগের উপসর্গ। এ জন্য সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে ওষুধ খেলে দীর্ঘমেয়াদি কাশি ভালো হয়ে যায়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে একটু সতর্কতা অবলম্বন করে সাধারণ সর্দি ঠাণ্ডা কাশি থেকে খুব সহজেই মুক্ত থাকা সম্ভব। সাধারণ ঠাণ্ডা-সর্দি (Common Colds) এড়াতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কয়েকটি পরামর্শঃ- একঃ সর্দি কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তির বা কাশি বা হাঁচি থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে অবস্থান করুন। মিচিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি কলেজ অব ইউম্যান মেডিসিনের ডাক্তার ডেনিস ম্যুরের মতে সর্দি-কাশির জীবাণু খুব সহজেই আপনার চোখ অথবা নাকের ভেতর দিয়ে সংক্রমিত হতে পারে।
কফ-কাশিতে আমরা সাধারণত এক্সপেক্টোরেন্ট জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকি। এক্সপেক্টোরেন্টের কাজ হলো গলা থেকে কফ বের করে দেয়া। কিন্তু এর একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। এসব ওষুধ খেলে ঘুম ঘুম ভাব হয়। তাই এর বিকল্প হিসেবে আপনি পুদিনা পাতার সাহায্য নিতে পারেন। গরম পানিতে সামান্য পরিমাণ পুদিনা পাতা সেদ্ধ করে পান করুন। পুদিনা পাতা এক্সপেক্টোরেন্টের কাজ করবে। বোনাস হিসেবে আপনি পেতে পারেন আরো একটি বড় ধরনের উপকার। আর তা হলো পুদিনা পাতা আপনার উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করবে।
ময়মনসিংহ, ত্রিশাল থেকে লিখেছেন রিজিয়া (২৫)। আপনার একমাত্র মেয়ের বয়স ৫ বছর। প্রত্যেক শীতে মেয়ে ডালিয়ার ঠান্ডা লাগে, গলায় ব্যথা হয়, কাশি হয়। উত্তরঃ শীতকালে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে ঠান্ডা থেকে শিশুদের গলায় ব্যথা, ঠান্ডা, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি ইত্যাদি হতে পারে।
নবজাতক বলতে জ্নের পর থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত বয়সী শিশুকে বোঝায়। এই শিশুদের শীতের সময় সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা হয় তা হচ্ছে ঠান্ডা লাগা। শিশু ঘনঘন হাঁচি দেয়, নাক বন্ধ থাকে, শব্দ হয়, মাঝেমধ্যে কাশিও হয়।
প্রায় সব বক্ষব্যাধিতেই কফ-কাশি দেখা দেয়। কিছু হৃদরোগেও কফ-কাশি লেগে থাকে। প্রত্যেকের জীবনেই কফ-কাশির কিছু না কিছু অভিজ্ঞতা থাকবেই। এখন প্রশ্ন হলো, কফ-কাশি কেন হয়?

Categories