স্বাস্থ্যকথা

ডায়রিয়া

ফার্স্ট ফুড নয়, প্রচুর তাজা ফল সবজি খান। দৈনন্দিন জীবনযাপনে এরকম ছোটখাট পরিবর্তন আয়ু যেমন বাড়াবে তেমনি ডায়াবেটিসের মত ক্রনিক রোগ ও এর জটিলতা থেকেও বাচাঁবে।
চার দিকে এখন ডায়রিয়া হচ্ছে। ডায়রিয়া এমন একটি রোগ যা থেকে কারও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অথচ খুব সহজেই ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং ডায়রিয়া হলে তা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের এহেন উন্নততর যুগেও অনেক মাকে বোঝানো যায় না, ‘ডায়রিয়ায় ওষুধ দিলে শিশুর উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।’ ক্ষেত্রবিশেষে ওষুধ লাগে সত্যি, তবে অধিকাংশ সময় দাস্ত মানেই খাবার স্যালাইন। অথচ ওষুধ না লিখলে অভিভাবকদের ডাক্তার পাল্টানোর প্রবণতা এক অর্থে শিশুরই ক্ষতি করে বৈকি। তাই ডায়রিয়ায় জরুরি সতর্কতা হলোঃ প্রতিবার দাস্তের পর শিশুকে ওরস্যালাইন খাওয়ানো। এর নিয়ম হচ্ছেঃ দু’বছরের কম বয়সে ১০ থেকে ২০ চামচ, দুই থেকে দশ বছর হলে ২০ থেকে ৪০ চামচ ও ১০ বছরের পর যত খুশি সম্ভব।
গরমের এই শুরুর সময়টায় ডায়রিয়া হওয়ার ঘটনা সাধারণত বেশি ঘটতে দেখা যায়। সাধারণত চিকিৎসা চলার পরও ডায়রিয়া না কমলে এবং তা যদি ১৪ দিনের বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন তাকে ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বলে।
১৪ কোটি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ লোক গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। যারা শহরে বাস করেন তাদেরও সিংহভাগ ভাসমান অবস্থায় চিলেকোঠায় কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকেন। শরীরের বিভিন্ন রোগ ব্যাধি লেগেই থাকে। এইসব রোগ ব্যাধির মধ্যে বেশিরভাগ লোক যে রোগটিতে ভুলে থাকেন তা হলো পেটের পীড়া। আপনি ধনী হন কিংবা গরীব হন, কখনও পেটের পীড়া হয়নি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
প্রতি বছরই এ সময়টায় ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এবারো তা-ই হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালের আঙ্গিনায় অস্হায়ী ক্যাম্প করে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত মতো নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য হাসপাতালেও রোগী ভর্তি হচ্ছে। এসব রোগীর অধিকাংশই দরিদ্র শ্রেণীর। তাদের পক্ষে সবসময় বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা সম্ভবও হয় না।

Categories