স্বাস্থ্যকথা

ডায়াবেটিস

(Page 2 of 4)   « Prev  1  
2
  3  4  Next »
ডায়াবেটিস রোগের জন্য দাঁতের মাড়ি এবং হাড়ে (যা দাঁতকে যথাস্থানে রাখতে সাহায্য করে) ইনফেকশন হতে পারে। অন্যান্য ইনফেকশনের মত রক্তে গস্নুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে দাঁতের মাড়িও আক্রান্ত হতে পারে। এই সমস্যাকে প্রতিরোধ করার জন্য বছরে অন্তত দু’বার ডেন্টিস্ট-এর শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং অবশ্যই ডাক্তারকে আপনার ডায়াবেটিস সম্পর্কে অবহিত করা প্রয়োজন। দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ ও ডেন্টাল ফ্লস দ্বারা পরিষ্কার করা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন। ডায়াবেটিস রোগীদের দাঁতের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার এটাই প্রধান উপায়।
ইনসুলিন ডায়াবেটিস নিরাময় করে এমন একটি কথা, বলা যায় কল্পকথা চালু আছে। টাইপ ১ ডায়াবেটিস-এর জন্য ইনসুলিন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বটে, তবে ইনসুলিন দিয়ে ডায়াবেটিস নিরাময় করা যায় না, নিয়ন্ত্রণ করা যায় অবশ্যই। অগ্নাশয়ের বিটাকোষকে নিয়ে কাজ করে ইনসুলিন, যা গস্নুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে। রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন ইনসুলিন।
বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি অন্যতম রোগ এবং এর কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টি হয়। ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ এর মধ্যে অন্যতম। ডায়াবেটিসের প্রভাবে শারীরিক যে কোনো অঙ্গ বা সিস্টেম আক্রান্ত হতে পারে। কিডনি রোগের উপর প্রধানত ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি এবং কিডনি বা প্রসাব নালীতে সংক্রমণ (টঞও) অন্যতম।
প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। অগ্ন্যাশয়ের হরমোন ইনসুলিন ঘাটতি হলে হয় ডায়াবেটিস এবং ইনসুলিনের আবিষ্কৃতা ফ্রেডারিক বেন্টিং-এর জন্মতারিখ ছিলো ১৪ নভেম্বর, সেদিনকে স্মরণীয় রাখার জন্য ১৪ নভেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে এই দিবসটি পালনের থিম হলো ‘শিশু ও তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিস’।
ডায়াবেটিস রোগটি প্রাচীন। খ্রিষ্টপুর্ব ৪০০ বছর আগে ভারতবর্ষের চিকিৎসকরা ‘মধুমেহ’, ‘ইক্ষুমুত্রের’ উল্লেখ করেছেন। ক্যাপাডেসিয়ার এরোটিউস এ রোগের নাম দেন ডায়াবেটিস (গ্রিক শব্দ অর্থ নির্গত হওয়া)। ১০০০ খ্রি. মুসলমান চিকিৎসা বিজ্ঞানী আবিসিনা বহুমুত্র রোগের চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন তার গ্রন্হে। বহুমুত্র রোগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য মুত্রের মিষ্ট স্বাদ।
বছর ঘুরে ১৪ নভেম্বর আসে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এদিন জ্ন নিয়েছিলেন বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক বেনটিং, যিনি বিজ্ঞানী চার্লস বেস্টের সঙ্গে একত্রে আবিষ্কার করেছিলেন ইনসুলিন। এ দিবসটি তাই খুব তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় তাগিদ অনুভব করেছিল বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন এক সচেতনতা অভিযানের সূচনা করার, যা সারা বিশ্বে প্রতিপালিত হবে। ১৪ নভেম্বর ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে নির্বাচিত হলো ১৯৯১ সালে এবং তখন থেকে এ দিবস পালন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের ১৬০টি দেশে লাখ লাখ মানুষের মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির জোরালো তাগিদ সৃষ্টি হতে লাগল। শিশু ও বয়স্ক, যারাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, স্বাস্থ্য পরিচর্যার সঙ্গে যুক্ত সবাই, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যম সবাই এতে সম্পৃক্ত হলেন। এ দিনটি নানা অনুষ্ঠান, প্রবন্ধ প্রকাশ, গণমাধ্যমে প্রচার, খেলাধুলা, সব ধরনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়।
বড়দের ডায়াবেটিস হলে নিজেরাই এর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে মা-বাবাকে নিতে হয় মুখ্য ভূমিকা। এ ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধের চেষ্টা করা। পরিবারে কারও ডায়াবেটিস থাকলে তার সন্তানের হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে তাই সতর্ক থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় মায়ের ভাইরাস, বিশেষ করে রুবেলার সংক্রমণ পরে শিশুর ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়ায়। তাই মেয়েদের উচিত গর্ভধারণের আগেই রুবেলার টিকা এমএমআর নেওয়া।
‘তানিয়াকে আমি কীভাবে বলব এই সত্য কথাটা? ও যখন জানতে পারবে আমার ডায়াবেটিস, তখন ও কি আর আগের মতো ভালোবাসবে আমাকে? নাকি করুণা করবে? কিন্তু আমার এই ডায়াবেটিস রোগের জন্য তো আমি দায়ী নই। আর ওর বাবা-মা কি কখনো চাইবেন, একজন শারীরিক অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিতে? আমি কি বিষয়টি গোপন করব?
ডায়াবেটিসের সমস্যা কানের সমস্যা
মূলতঃ শর্করা জাতীয় খাবারের জন্যই খাদ্য হিসেবে আলু ও ভাত আমাদের কাছে সমাদৃত। ছোলাহ সহ ১০০ গ্রাম আলুতে থাকে ৮০ ক্যালরী। শর্করা ১৯ গ্রাম, পানির পরিমাণ ৭৫ গ্রাম, আমিষ ২ গ্রাম, চর্বি ১০ মি• গ্রাম• ফাইবার ২•২ গ্রাম। আলুতে ভিটামিন সি বেশী-২০ মি• গ্রাম/ ১০০ গ্রাম, থায়ামিন, রিবফ্লেভিন, নায়াসিন, বি-৬, যথাক্রমে-০•০৮, ০৩, ১•১ ও ২৫ মি• গ্রাম। ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস যথাক্রমে ১২, ১•৮, ২৩, ৫৭ মি• গ্রাম। পটাশিয়াম বেশী ৪২১ মি• গ্রাম, সোডিয়াম ৬ মি• গ্রাম। আলুর চোচায় খাদ্যের প্রয়োজনীয় আঁশের প্রায় অর্ধেক থাকে। ৫০% এর বেশী খাদ্য উপাদান মূল আলুতে থাকে। অধিকাংশ আলুর খাবারই গরম পরিবেশিত হয়, যা অধিকতর স্বাস্থ্যসম্মত।
(Page 2 of 4)   « Prev  1  
2
  3  4  Next »

Categories