স্বাস্থ্যকথা

ব্রণ

ব্রণ বয়ঃসন্ধিক্ষণে এমনকি যে কোনও বয়সীদের জন্য এক দুঃসহ যন্ত্রণা। প্রধানত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ব্রণ হয়। তবে খাদ্যাভ্যাস, ত্বক সঠিকভাবে পরিচর্যা না করা হলেও এ সমস্যা হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এর কার্যকর সমাধান দিয়েছে। কসমেটিক সার্জারি রেডিও ফালগারেশনের মাধ্যমে এর নিরাময় সম্ভব।
ত্বকের গঠন অত্যন্ত জটিল। এ জটিলতম ত্বকে একাধিক কারণেও বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দেয়, এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্রণের সমস্যা। ব্রণ মূলত টিনএজারদের সমস্যা। এ বয়সে যখন মুখের সৌন্দর্যের প্রতি সবাই আকর্ষণ বোধ করে ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ঠিক সে বয়সেই মুখে এই বিশ্রী গোটাগুলো দেখা দেয়, যা তাদের অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ একটু সচেতন থাকলেই এ সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব।
ব্রণ সাধারণত টিনএজ বা প্রাপ্ত বয়স্কদের সাধারণ ত্বকের সমস্যা, যা তরুণীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এ সমস্যা মুখে, ঘাড়ে, কাঁধে, বুকে ও পিঠে হতে পারে। ত্বকের নিচে অবস্হিত তেল গ্রন্হির নিঃসরণ বেড়ে গেলে তার চার পাশে অবস্হিত ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো কারণে তৈলাক্ত নালী বন্ধ হয়ে গেলে নালীর মধ্যে নিঃসৃত পদার্থ জমা হয়ে ব্রণ তৈরি করে, যা সাধারণত ব্লাক ও হোয়াইট হেড হিসেবে থাকে না, মাঝে-মধ্যে লাল আভাযুক্ত ফুসকুড়ি অনেকটা অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় পুঁজ জমে ও ব্যথাও হয়। মুখমন্ডলের ত্বকে এ জাতীয় ব্রণ সবচেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে।
সাধারণত ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে ব্রণ একটি সাধারণ অসুখ। তবে যে কোনো বয়সেই ব্রণ হতে পারে।
ব্রণ টিনএজারদের সচরাচর সমস্যা। ব্রণ বা একনে শতকরা ৮০ ভাগ টিনএজারদের সমস্যা। ত্বকের সৌন্দর্যহানির জন্য ব্রণ দায়ী। ছেলেদের ব্রণ তীব্রতার দিক থেকে বেশি হলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে সামাজিক কারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি এক প্রকার বিড়ম্বনা।
আধুনিক ফ্যাশন-সচেতন সুন্দরী নারীরা রুপচর্চা করেন। কারণ রূপই যেন যৌবনের রূপকার। আর যৌবনের সুরক্ষাই হলো প্রতিটি নারীর যেন তপস্যা। কিন্তু এ রূপচর্চায় যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা আসে, তবে তো দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। এ যেন এক দুঃসহ যাতনা। ব্রণ হলো সে রকম একটি প্রতিবন্ধক, যেটি আজকের কসমেটিক জগতে এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এটি মুখশ্রীকে দীর্ঘস্হায়ী বিকৃত করে তোলে।
যৌবনের একটি অবাঞ্ছিত সমস্যার নাম হচ্ছে ব্রণ। সুন্দর মুখশ্রীর উপর ব্রণ যদি জাপটে ধরে তাহলে ছেলে হোক বা মেয়েই-কারোই মনে যন্ত্রণার কমতি থাকে না। কোন বয়সে বেশি হয়ঃ ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সে এটি বেশি হয়। তবে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত এটি হতে দেখা যায়। তবে টিনএজদের মধ্যে শতকরা নব্বই ভাগ ক্ষেত্রেই কম অথবা বেশি পরিমাণে এটি হয়ে থাকে। ২০ বছর বয়সের পর থেকে এটি কমতে থাকে।
(ডা. ওয়ানাইজা) বয়ঃসন্ধির সময় হরমনের ক্ষরণ মাত্রার ভারসাম্যের অভাবে ত্বকের তেলগ্রন্থি ও সেবাম ক্ষরণ বেড়ে যায়। এতে রোমকুপগুলো বন্ধ হয়ে যায় ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়। এভাবে জীবাণুর বিষক্রিয়ায় ত্বকে ব্রণের সৃষ্টি হয়। ব্রণের জীবাণুর নাম প্রোপাইনো ‘ব্যাকটেরিয়াম অ্যাকনে’।
(ডা. দিদারুল আহসান) যৌবনের একটি অবাঞ্ছিত সমস্যার নাম হচ্ছে ব্রণ। সুন্দর মুখশ্রীর ওপর ব্রণ যদি দেখা দেয় তাহলে ছেলে বা মেয়েই হোক, কারোরই মনে স্বস্তি নেই। কোন বয়সে বেশি হয়ঃ ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সে এটি বেশি হয়।

Categories