স্বাস্থ্যকথা

মৃগী

অনেকে মনে করে মৃগী একটি আছরের ব্যাপার/আলগার দোষের ব্যাপার/বাতাস লেগেছে/জিন-ভূতের ব্যাপার। এ রোগের কোনো সঠিক চিকিৎসা নেই। এই রোগীর লেখাপড়া, বিয়েশাদি, সংসার কিছুই হবে না। অনেকে মনে করে মৃগী একটা প্রাকৃতিক অভিশাপ। ফলে রোগটি গোপন করে রাখে, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে। কারণ, তারা মনে করে রোগটি জানাজানি হলে পরিবারের জন্য ক্ষতি হবে, মেয়েটির বিয়ে দিতে অসুবিধা হবে। এ রকম ধারণার বশবর্তী হয়ে চিকিৎসা না করিয়ে আরো ক্ষতি করা হচ্ছে। বিয়ের পর মেয়েটি যখন শ্বশুরবাড়ি যায় এবং সেখানে এই রোগ আক্রমণ করে তখন মেয়েটির বিয়ে টিকিয়ে রাখাই দুষ্কর হয়ে পড়ে। সুতরাং রোগটি গোপন না করে চিকিৎসা করানোই উত্তম।
এপিলেপ্সি রোগের কথা কেউ শোনেননি বা এপিলেপ্সির রোগীকে কেউ দেখেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আমাদের সমাজের আশপাশের অনেক পরিবারেই রয়েছেন এপিলেপ্সি রোগী। এসব রোগীকে নিয়ে পরিবারের দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনার শেষ থাকে না। কারণ এসব রোগী নাজুক প্রকৃতির। তাদের যেকোনো সময় যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ঘটে যেতে পারে হৃদয়বিদারক করুণ পরিণতি, যা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। এপিলেপ্সি রোগীকে অনেকে জিনে বা পরীতে ধরেছে বলে মনে করেন। কেউ কেউ ভাবেন তার ‘হাওয়া’ (বাতাস) লেগেছে। আসলে এসবের বৈজ্ঞানিক কোনো কারণ নেই। এগুলো মূলত কুসংস্কার। আর আমাদের দেশে কী অশিক্ষিত, কী শিক্ষিত অনেকের মনেই নানা ধরনের অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কার বিস্তার লাভ করে রয়েছে। এসব অন্ধবিশ্বাসের মূলোৎপাটন করা প্রয়োজন। আর এর জন্য আপনাকে, আমাকে ও সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে আগ্রহসহকারে এগিয়ে আসতে হবে।
সব শিশুই কমবেশি জ্বরে ভুগে থাকে। কিন্তু জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে শিশুর বাবা-মার দুশ্চিন্তার মাত্রা বেড়ে যায়। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়ঃ -- শিশুর দাঁতে দাঁত লেগে যায়। -- মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে পারে। -- চোখ স্হির হয়ে থাকে। -- হাতে-পায়ে বার বার খিঁচুনি হতে থাকে। -- কখনো কখনো শিশু সংজ্ঞাহীন হয়ে যেতে পারে। -- সংজ্ঞাহীন অবস্হা ৫ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত স্হায়ী হতে পারে।
১৭ নভেম্বর পালিত হলো বিশ্ব খিঁচুনি দিবস। এ রোগ সম্পর্কে আমাদের নানা রকম ভুল ধারণা ভেঙে দেওয়াই হচ্ছে এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য। খিঁচুনি মস্তিষ্কের স্মায়ুতন্ত্রের জটিলতাজনিত একটি সাধারণ রোগ। সুস্থ ও স্বাভাবিক একজন লোক যদি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে কাঁপুনি অথবা খিঁচুনির শিকার হয়, চোখ-মুখ উল্টে ফেলে কিংবা কোনো শিশুর চোখের পাতা স্থির হয়ে যায়, একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে অথবা মানসিকভাবে সুস্থ কোনো লোক অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে-তবে তাকে খিঁচুনির রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এসব অস্বাভাবিকতা মস্তিষ্কের অতিসংবেদনশীল কোষের উদ্দীপনার ফল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর দুই মিলিয়ন মানুষ নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
মৃগীরোগ নিয়ে ভুল ধারণা বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নয়নশীল, এমনকি উন্নত দেশেও একসময় মৃগীরোগ বা এপিলেপসি সম্পর্কে ভুল ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধারণা ছিল। এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণা মৃগীরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা ও সেবায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

Categories