স্বাস্থ্যকথা

হৃদরোগ

(Page 2 of 2)   « Prev  1  
2
  
Next »
৪২ বছরের টগবগে যুবক রবিন। বহুজাতিক কোম্পানির বাংলাদেশের কর্ণধার। একদিন সকালে অফিসে আসার ঘণ্টা দেড়েক পর বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলেন। মনে হল বুকের মধ্যে কেউ যেন পাথর চাপা দিয়ে বসে আছে। আজ সকালে ব্যায়ামের সময়ও একই ধরনের ব্যথা অনুভূত হয়েছিল, সঙ্গে শ্বাসকষ্টও ছিল। তেমন আমলে নিলেন না তিনি। ভাবলেন, এসিডিটির জন্য এ সমস্যা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেলেন, কিন্তু ব্যথাটা কিছুতেই কমছে না।ঃ এর বেশ কয়েক ঘণ্টা পর তিনি নিজেকে আবিষ্কার করলেন হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট অর্থাৎ সিসিইউতে। ডাক্তাররা তার হার্টের এনজিওগ্রাম করার প্র‘তি নিচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, ব্যথার পরপর তিনি অনেকটা জ্ঞানশূন্য হয়ে মাটিতে পড়ে যান, সহকর্মীরা তাকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা জানালেন, রবিনের সেদিন হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল।
হার্ট এ্যাটাক নিয়ে উদ্বিগ্ন নন এমন চল্লিশোর্ধ ব্যক্তি পাওয়া যাবে না। হার্ট এ্যাটাকের প্রধান কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে হার্ট রক্তনালীতে চর্বি বা কোলষ্টেরল জমে ব্লক তৈরি হওয়া, রক্তনালী সরু হয়ে হার্টে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ইত্যাদি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে হার্ট এ্যাটাকের কোন কারণ সনাক্ত করা যায় না। এমনও দেখা যায় প্রত্যহ নিয়মমাফিক ব্যায়াম করেন, চর্বি জাতীয় খাবার কম খান, লবণ খান না, প্রচুর শাক-সবজি খান, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস নেই এবং মানসিকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত নন, তবুও হার্ট এ্যাটাক হয়। এ ধরনের হার্ট এ্যাটাক সাধারণতঃ পূর্ব উপসর্গ ছাড়াই ঘটে। তাই নিয়মিত বছরে অন্ততঃ একবার হার্টের রুটিন চেকআপ করানো উচিত। আজকে যে বিষয়টি আলোচনায় আনতে চাই তা হচ্ছে মানসিক চাপ থেকে হার্ট এ্যাটাক।
উন্নত বিশ্বে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হার্ট অ্যাটাকের রোগী উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন এবং মস্তিষ্কের স্ট্রোক রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনা থাকলেও স্ট্রোকের ফলে ৬০ ভাগ রোগী মৃত্যু বা পঙ্গুত্ববরণ করেন। হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেন স্ট্রোকের অন্যতম মূল কারণ হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ। ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি শারীরিক সমস্যা ও ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি উপাদান নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
বেঁটে মানুষের মানসিক যন্ত্রণার শেষ নেই। ছেলেমেয়ে উভয়েই এ যন্ত্রণার শিকার। বিশেষ সময়ে বন্ধু-বান্ধব যখন সবাই লম্বা হয়ে যায়, তখনই বেঁটে মানুষের যন্ত্রণাটা শুরু হয়। ঠাট্টা করে বন্ধুরাও বেঁটেদের নানা নামে ডাকে। আবার বিয়ের বয়স হলে পাত্রী দেখা নিয়ে বেঁটে পুরুষদের যন্ত্রণার তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। অথচ বেঁটে হওয়ার এমন কিছু কারণ আছে যেগুলো সময়মত চিকিৎসা করালে বেঁটে হওয়ার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া যেত। সেক্ষেত্রে মা-বাবারই করণীয় থাকে।
(Page 2 of 2)   « Prev  1  
2
  
Next »

Categories