স্বাস্থ্যকথা

শারিরিক ও মানসিক ফিটনেস

(Page 2 of 5)   « Prev  1  
2
  3  4  5  Next »
এতো সবাই জানেন একটি সুখী, সুস্থ শরীর মনের জন্য কোন ও না কোন ধরনের শরীরর্চ্চা প্রয়োজন। ব্যায়াম সে সঙ্গে সুমিত পানাহার হলো দীর্ঘ জীবনের রহস্য, শরীর মন তর-তাজা রাখার রহস্য। আদর্শ ওজন বজায় রাখা সবচেয়ে বড় কাজ। এছাড়া আনন্দে কালক্ষেপনের একটি ভালো উপায় হলো ব্যায়াম করা। সহজ সরল একটি ব্যায়াম আছে। হাঁটা। কম পরিশ্রমে উপযুক্ত একটি ব্যায়াম সব বয়সের মানুষের জন্য। নিখরচায়, শরীরচর্চা। যেখানে সেখানে করা যায় এই শরীরচর্চা। লেকের পার ধরে যে পায়েচলা পথ সেই পথ ধরে হাঁটার মধ্যে কত আনন্দ। ঝিরি ঝিরি বাতাস, বন্ধুর সঙ্গে হাঁটতে বড় আনন্দ। এমনকি বাসার চারধারে যে ফুটপাত সেখানে দশমিনিট হাঁটলেও কম কি? ইদানীং গবেষকরা বলছেন হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীর সুস্থাস্থ্যের জন্য হাঁটা, জগিং ও দৌড়ানোর সমান সুফল আনে।

মহিলাদের ওজন বাড়লে স্তন ক্যান্সার হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের নিশ্চিত ঝুকি

আমেরিকান ক্যান্সার ইনস্টিটিউট মহিলাদের ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে স্তন ক্যান্সার, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের নিশ্চিত ঝুকি সম্পর্কে উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৭২ হাজার মহিলাদের ওপর দীর্ঘ গবেষণা চালিয়ে দেখেছে ২০ বছরের পর থেকে যেসব মহিলাদের ওজন বছরে ১ থেকে ২ পাউন্ড বাড়ে তাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্তন ক্যান্সারের ঝুকি সব চেয়ে বেশী। প্রতিষ্ঠানটি গবেষণায় দেখেছে যেসব মহিলাদের ওজন ৩০ পাউন্ড বেড়েছে তাদের মেনোপজের পর স্তন ক্যান্সারের ঝুকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী। গবেষণার সহযোগী মিস রেজিনা জেইগলার-এর মতে মহিলাদের ওজন বাড়ার সাথে সাথে এস্ট্রোজেন নামক এক ধরনের হরমোনের বৃদ্ধি ঘটে। আর এই হরমোনের বৃদ্ধির ফলে মহিলাদের মেনোপজের পর স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বেড়ে যায়। যেসব মহিলাদের ওজন বাড়ে তাদের অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুকিও বেশী। তাই রিপোর্টে বলা হয়, মহিলাদের ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি প্রথম থেকেই ভাবা উচিত।
 
**************************
ডাঃ মোড়ল নজরুল ইসলাম
চর্ম, এলার্জি ও যৌন সমস্যা বিশেষজ্ঞ এবং লেজার এন্ড কসমেটিক সার্জন।
সহকারী অধ্যাপক, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।
দৈনিক ইত্তেফাক, ২৪ এপ্রিল ২০১০।
কি অবাক হচ্ছেন, তাই না? গবেষণায় দেখা গেছে, বহু খাবার ্লিম হতে সাহায্য করে। প্রতিটি খাবারে নির্দিষ্ট ক্যালরি থাকে। সেই খাবার হজম করতে আমরা কিছু ক্যালরি ব্যয় করি। সাধারণত বেশির ভাগ খাবারে থাকা ক্যালরি কিছুটা খরচ হয় বটে কি‘ বাকি অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে মেদ হিসেবে যুক্ত হয়। তবে এমন কিছু খাবার আছে যা হজম করতেই ওই খাবারে যে ক্যালরি আছে তার থেকে বেশি ক্যালরি খরচ হয়। এসব খাবারকে ‘নেগেটিভ ক্যালরি খাবার’ বলা হয়। আমাদের প্রবণতা অতিরিক্ত ভাজাভুজি বা কষিয়ে খাওয়া, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে একদম ঠিক না। পানি খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে। যে সব সবজি ও ফলমূলে পানি বেশি থাকে এবং যেগুলো ফাইবারসমৃদ্ধ, সেসব সবজি-ফলমূল খেতে হবে বেশি বেশি। খাবারে গোশতের পরিমাণ কম রেখে তরকারি খেতে হবে বেশি পরিমাণে। খাওয়ার পর একটু হেঁটে আসতে পারলে তো খুব ভালো

৪টি অভ্যাস পরিত্যাগ করুন

বয়স ধরে রাখার জন্য কতনা চেষ্টা। ব্যায়াম, ডায়েট কন্ট্রোল, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, সাপ্লিমেন্টারী ফুড। অথচ মাত্র ৪টি খারাপ অভ্যাস সব চেষ্টা সত্বেও আপনার বয়স ১২ বছর বাড়িয়ে দিতে পারে। আর এই চারটি খারাপ অভ্যাস হচ্ছে ধূমপান, মদ্যপান, অলসজীবন যাপন এবং কম পুষ্টিকর খাদ্য। পরিচালিত গবেষণায় এই ৪টি খারাপ অভ্যাসের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ ধূমপান, পুরুষদের ক্ষেত্রে দিনে ৩ বারের বেশী মদ্যপান এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে দিনে ২বারের বেশী, সপ্তাহে দু’ঘন্টার কম শারীরিক পরিশ্রম এবং প্রতিদিন ৩ বারের কম সবজি ও ফলমূল আহারকে খারাপ অভ্যাসের পর্যায়ে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যারা ৪টি অভ্যাসের আওতায় পড়েছেন তাদের শুধু বয়সের ছাপ পড়বে তাই নয়, তারা নানা ব্যাধিতে আক্রান্তও হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী।

**************************
ডাঃ রুবায়েত সিলভা দৈনিক ইত্তেফাক, ১লা মে ২০১০।
খুব বেশি মোটা মানুষ যত চেষ্টাই করুন না কেন, ওজন তারা কমাতে পারেন না। একথা মনে করেন কিছুসংখ্যক গবেষক। আর তাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন স্থূলকায় বেশ কিছু মানুষ, যারা কিনা মেদ কমানোর নানারকম চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। জার্মানির ফার্মেসি মহল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত সাময়িকীর সাম্প্রতিক সংখ্যাতে লেখা হয়েছে, মানুষ বেশি খেলে বা খাবার উপভোগ করলেই মোটা হয় না। অন্যদিকে যিনি সব সময়ই কম খান তার ওজন কিন্তু সব সময় কমে না। শরীর তখন কম খাওয়াতেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। সে মানুষটিই যখন আবার বেশি খেতে শুরু করেন তখন সঙ্গে সঙ্গেই আবার ওজন বেড়ে যায় এমনকি আগের চেয়েও বেশি হতে পারে ওজন। ব্রিটিশ গবেষকরা বলেছেন, মানুষের শরীরে যা যা প্রয়োজন সে খাবার যদি পরিমাণে সামান্য বেশিও হয় তাতে অসুবিধা তো নেই-ই বরং পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীর-মন দুটোই ভালো থাকে।
অনিদ্রা হয় অনেকেরই। আর সুনিদ্রার জন্য মানুষের চেষ্টারও শেষ নেই। চোখ বুজে মেষের সারি দেখে দেখে মেষ গোনা... ১০০ থেকে উল্টোদিকে গুনে আসা—কত চেষ্টা যে চলে! কিন্তু তবু অনেকে কড়িকাঠ গুনে গুনে রাত পার করেন—ঘুম আসে না চোখে। ভুল হলো, আজকাল ছাদে কড়িকাঠ নেই; শুধু ছাদ দেখে দেখে বা টিকটিকি দেখে দেখে রাত কাটানো।
ব্যায়াম বা শরীর চর্চা প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক মানুষের করা বাঞ্জনীয়। ব্যায়াম শুধু শরীরকে সচল ও ফিট রাখে তাই নয়, ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের খারাপ চর্বি বা ব্যাড কোলেষ্টেরলের মাত্রা কমে এবং ভালো চর্বি বা গুড কোলেষ্টেরল এইচডিএল-এর মাত্রা বাড়ে। পাশাপাশি ব্যায়াম করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ত্বরাম্বিত হয় এবং দ্রুত রক্ত চলাচলের কারণে হার্টের রক্তনালীতে চর্বি জমতে পারেনা। ফলে হার্টে ব্লক তৈরীও হতে পারে না, পাশাপাশি যাদের হার্টের রক্তনালীতে ব্লক বা খানিকটা চর্বি জমেছে সেক্ষেত্রেও ব্যায়াম রক্তনালীতে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয়না। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর মুটিয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রক্ষা পায়।
হঠাৎ করে আমাদের যাপিত জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত চলে আসে, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। হুট করে ঘটে যায় এমন কিছু, যা আমাদের কল্পনারও বাইরে। ঠিক সেই সময় পরিবর্তিত প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে আমাদের মনোজগতে তৈরি হয় আলোড়ন। আমাদের আচরণ, চিন্তা সবকিছু হয়ে যায় এলোমেলো- হতবিহ্বলতার দিকে চলে যাই আমরা, হয়ে যাই কিংকর্তব্যবিমূঢ়। আসন্ন কোনো বিপদ বা হুমকি থেকে আমাদের মনে তৈরি হয় তীব্র উৎকণ্ঠা আর কোনো ক্ষতি হয়ে গেলে তৈরি হয় বিষণ্নতা। অনেক সময় এই উৎকণ্ঠা আর বিষণ্নতা একসঙ্গে থাকে, কারণ আসন্ন বিপদ আর ক্ষয়ক্ষতি প্রায়শই একসঙ্গে ঘটে। বড়সড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ, বড় দুর্ঘটনা ইত্যাদি। এসব মুহূর্তে কেবল হারানোর বেদনাই থাকে না, সঙ্গে থাকে আরো ক্ষতি হওয়ার ভয় বা হুমকি।
ওবেসিটি কথাটির অর্থ স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন। ‘আপা ওজন কমাতে চাই’। এই সিদ্ধান্ত ৩১ বছর বয়সী একজন স্কুল শিক্ষিকার।
এখনকার মা দিদিরা আর বলেন না, ‘পেট ভরে খাস, বাবা’। খেতে বসে খাওয়ার শেষে তৃপ্তির ঢেকুর না তুললে যেন খাওয়াই হলো না। আজকাল গুরুজনরা বলেন, পেট ভরার আগেই উঠে যাস। এতো খাসনে। পেট যেন একটু খালি থাকে। সবাই এখন কমবেশি স্বাস্থ্য সচেতন। সবাই জানেন, পেটভরে খাওয়া মানে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ হয়ে গেল। আর একটা কথা খুব বেশি বসে থাকলে বা দীর্ঘক্ষণ বসে বসে থাকলেও ক্যালোরি খরচ কমে যায়। তাই সাধারণ জ্ঞানে বলতে পারেন, আহার ও জীবনযাপনের এই দুটো অভ্যাস থাকলে শরীরের ওজন বাড়বেই। যাহোক সাম্প্রতিক দুটো গবেষণা থেকে দেখা গেছে, বসে থাকা ও আহার এ দুটো অভ্যাস আলাদাভাবে কিরকম প্রভাব ফেলে শরীরের ওজন বাড়ার উপর। এ দুটো গবেষণার একটি থেকে দেখা গেছে, বেশ অনেকক্ষণ বসে থাকলে ওজন বাড়তে পারে শরীরের, আর অন্য গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খুব তাড়াতাড়ি খেলেও কি করে ওজন বাড়ে।
(Page 2 of 5)   « Prev  1  
2
  3  4  5  Next »

Categories