স্বাস্থ্যকথা

শিশুর স্বাস্থ্য

(Page 1 of 10)   
« Prev
  
1
  2  3  4  5  Next »
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। ভবিষ্যত এই প্রজন্মের সুস্থতার উপর দেশ ও দশের এগিয়ে যাওয়া অনেকাংশে নির্ভরশীল। শারীরিক ও মানষিক সুস্থতার পাশাপাশি চোখের সুস্থতাও সমান গুরুত্ব বহন করে। গুরুত্বঃ দৃষ্টিহীন শিশুকে অন্যের উপর নির্ভর করে সারাজীবন কাটাতে হয়। এতে দেশ দুই জন মানুষের পূণর্াঙ্গ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়াও পর নির্ভরশীলতার কারণে শিশু মানষিকভাবেও বির্পযস্ত হয়ে পড়ে।
মা হওয়া কি চাট্টিখানি কথা। বাচ্চার নাওয়া-খাওয়া, ঘুম, চিকিৎসা, পোশাক-আশাক সব দিকেই যে মাকে নজর দিতে হয়। দশ হাতে দশ দিক সামলানোর মতো ব্যাপার। তবে নতুন মা-বাবা তাঁদের সন্তানের জন্য অনেকের কাছ থেকে বেশ কিছু পোশাক উপহার হিসেবে পেয়ে যান। এর কোনো কোনোটি মনোহর হলেও বদলিয়ে নিতে হয়। একেক বয়সের শিশুর পোশাক একেক ধরনের। ফলে মাকে বাচ্চার বয়সের উপযোগী কাপড়চোপড় সংগ্রহের দিকে মনোযোগী হতে দেখা যায়। আবার গরম, শীত, বর্ষা ঋতুভেদেও সন্তানের জন্য নির্দিষ্ট রকমের পোশাক পরানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
কেস স্টাডি আমরিনের বয়স দেড় বছর। খুব হাসি-খুশি ও চঞ্চল। গত দুই দিন ধরে তার শরীরটা ভালো নেই। সর্দি, কাশি ও জ্বরে কাবু হয়ে পড়েছে। বাব-মা ভাবলেন, ভাইরাসজনিত সাধারণ জ্বর, এমনিতেই সেরে উঠবে। আজ জ্বরের প্রকোপ আরও বেড়েছে। জ্বর ১০২০ ঋ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আমরিন যেন কেমন করতে লাগল, জ্ঞান হারিয়ে ফেলল, হঠাত্ শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, দাঁত-চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, হাত-পা বাঁকা হয়ে যেতে লাগল, সারা শরীর কাঁপতে লাগল। আমরিনের বাবা-মা এ অবস্থা দেখে অত্যন্ত ঘাবড়ে গেলেন। আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ডাক্তারের কাছে ছুটে গেলেন । আমরিনের এই লক্ষণটাই হলো ‘জ্বরের কারণে খিঁচুনি’। যাকে ঋবনত্রধষ ঈড়হাঁষংরড়হ বলা হয়ে থাকে।
শিশুর যত্ন নিতে হয়। সুস্থ, স্বাভাবিক শিশুর দৈহিক বাড়নে, মানসিক বিকাশে। তবু তার স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অনেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আছে। আর যে শিশু অসমর্থ শারীরিক বা মানসিক গঠনে, তার জন্য যত্নের প্রধান বিষয়গুলো তো থাকছেই। সঙ্গে আলাদা কিছু পরিচর্চার কথা মাথায় রাখতে হবে, যেমন বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ বা বিশেষ কোনো রকমের মেডিকেল চিকিৎসা।
শৈশবে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুর নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যা জরুরি গোটা বিশ্বে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্যানসার প্রতিরোধ ইউনিয়ন ২০০৪ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি শিশু- ক্যানসার সচেতনতা দিবস পালিত হয় প্রতিবছর।
সিসা শিশুদের কিডনির জন্য খুবই ক্ষতিকর। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টিনএজারদের রক্তে দেখা যায় এর সামান্য পরিমাণও তাদের কিডনির ক্ষতিসাধন করতে পারে। পরবর্তী জীবনে তারা কিডনি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন গবেষকরা একথা জানিয়েছেন। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, সামান্য পরিমাণ সিসাও স্বাস্থ্যবান শিশুদের কিডনি ফাংকশনে প্রভাব ফেলতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে ক্লান্তি এড়িয়ে সতেজ থাকতে কে না চান? ব্যস্ত নগর জীবনের অসহনীয় যানজট, ধুলোবালি, গুমোট আবহাওয়া, অতিরিক্ত কাজের চাপ—সব মিলিয়ে অসময়ে শরীরে ক্লান্তি এসে ভর করে। ফলে একদিকে যেমন প্রতিদিনের কর্মক্ষমতা কমতে থাকে, অন্যদিকে শরীরে নেমে আসে অযাচিত বার্ধক্যের ছায়া।
অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানী যাই বলা হোক না কেন, এটি শিশুদের মধ্যে সর্বাধিক দৃশ্যমান শ্বাস প্রশ্বাসজনিত সমস্যা। দুর্ভাগ্যবশত এর সঠিক রোগ নিরুপণ এবং চিকিৎসা হচ্ছে না। ১৯৯১ সালে অ্যাজমার উপর এক জাতীয় সমীক্ষায় দেখা গেছে বাংলাদেশে ৭ মিলিয়ন অর্থাৎ পুরো জনসংখ্যার ৫.২% ভাগ মানুষ অ্যাজমা রোগে ভুগছে। যার ৯০ ভাগেরও বেশি অ্যাজমা রোগী আধুনিক চিকিৎসা নিচ্ছে না। মোট অ্যাজমা রোগীর অর্ধেকেরও বেশি শিশু। অ্যাজমা একটি শিশুর জীবনের গুনগত মানের উপর প্রভাব বি-ার করে এবং শিশু প্রায়শই স্কুলে অনুপস্থিত ও খারাপ ফলাফলের জন্য অ্যাজমা অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি। যার ফলে শিশু এবং তার বাবা মাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তোলে।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল, লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এণ্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও স্কটল্যাণ্ডের ইউনিভার্সিটি অব আবেরদিন-এর একদল গবেষক ১৯৫০ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্য- সময়ে যেসব শিশু আবেরদিন জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে ১০৮০৩ জনের ওপর কোহর্ট পদ্ধতিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা চালিয়েছিলেন। গবেষণার বিষয় ছিল শিশুর জন্মকালীন ওজনের সাথে পরবর্তী জীবনে করোনারি হার্ট ডিজিজ ও স্ট্রোক-এ আক্রা- হওয়ার কোনও সম্পর্ক আছে কি না এবং সম্পর্ক থাকলে সেটি কি? গত ২৯ আগষ্ট ২০০৫-এ প্রকাশিত ‘সার্কুলেশন’ নামক একটি জার্নালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে-শিশুর জন্মওজনের সাথে করোনারি হার্ট ডিজিজ ও স্ট্রোক বিপরীতভাবে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ কম জন্মকালীন ওজনবিশিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে পরবর্তী জীবনে হৃদরোগ ও স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

**************************
দৈনিক ইত্তেফাক, ৬ মার্চ ২০১০।
সমস্যাটি এখন আমেরিকায় বেশি। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বলেছেন সে দেশে তিন জনের মধ্যে একজন শিশুর ওজন বেশি বা স্থূল। এজন্য বেশি উদ্বিগ্ন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, শিশুদের স্থূলতার পেছনের কারণগুলো তিনি বলেছেন, “মা-বাবা অতিব্যস্ত”। ফাস্টফুড সস্তা, সহজলভ্য, শিশুদের প্রিয় হলো এসব খাবার। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বাচ্চারা বসে বসে দিন কাটাচ্ছে। শিশুদের টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে ফাস্টফুডের বিজ্ঞাপন। দুই তৃতীয়াংশ পূর্ণবয়স্ক হলো বেশি ওজনের। ওজন বেশি শিশু ও স্থূল শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুকি অনেক। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হবে তারা, যার চিকিৎসাও বেশ ব্যয়বহুল। টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ যা আগে ছিলো মধ্যবয়সী ও বুড়োদের রোগ তা ধীরে ধীরে বাড়ছে শিশু ও তরুণদের মধ্যেও। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ইদানীং দেখেছেন, দেহের ওজন বেশি এমন শিশুদের ২২% এবং স্থূল তরুণদের ৪৩% শতাংশের রক্তের চর্বিমান বেশি, বেশি ট্রাইগ্লিসারাইড মান ও কোলেস্টেরল, এগুলো হলো হৃদরোগের বড় ঝুকি।
(Page 1 of 10)   
« Prev
  
1
  2  3  4  5  Next »

Categories