স্বাস্থ্যকথা

শিশুর স্বাস্থ্য

(Page 3 of 10)   « Prev  1  2  
3
  4  5  Next »
শিশুর ত্বকের যত্নের ব্যাপারে মায়ের ভূমিকাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। মায়েরা যদি কিছু কিছু বিষয়ে সচেতন হন তবে অনেক চর্মরোগই প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর নিুলিখিত কয়েকটি বিষয় শিশুর বিভিন্ন চর্মরোগ প্রতিরোধে নিঃসন্দেহে সহায়ক। একটি শিশুর পরিধেয় কাপড়-চোপড় অবশ্যই খসখসে, অমসৃণ হওয়া উচিত নয়, হতে হবে নরম ও মসৃণ। কাপড়টি সুতির হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ ত্বকের জন্য সুতির কাপড়ই সবচেয়ে নিরাপদ। কাপড়টি বেশি আঁটসাঁট হওয়া উচিত নয়। কারণ আলো-বাতাস প্রবেশ করতে না পারলে ঘাম আটকে থাকে এবং বিভিন্ন চর্মরোগ সৃষ্টি হয়। তাই পোশাক-পরিচ্ছদ যতটা সম্ভব ঢিলাঢালা হওয়াই ভালো। আর পোশাক-পরিচ্ছদ সব সময় শীত-গ্রীষ্মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
বিভিন্ন খাবার থেকে শিশুদের অ্যালার্জি হতে পারে। সব শিশুরই যে অ্যালার্জি হয় তা নয়, আবার আক্রান্তদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন শিশুর ভিন্ন ভিন্ন খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে। একটু সচেতন হলে সহজে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা যায়।
শিশুর যক্ষ্মা ‘যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব’-যক্ষ্মা সম্পর্কে এ কথাটি আমাদের সবার জানা থাকা দরকার। সারা পৃথিবীতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যক্ষ্মা এখনো অসংখ্য মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত। যক্ষ্মা বা টিবি রোগ শুধু বড়দের হয়, এ কথা মনে করা ঠিক নয়। এ দেশে অনেক শিশুই যক্ষ্মা রোগে ভোগে। প্রোটিন শক্তি অপুষ্টিতে ভোগে যেসব শিশু, তাদের যক্ষ্মা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কোনো শিশু হাম ও হুপিং কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার পর টিবি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়।
এ সময়টাতে বিশেষ করে শিশুদের জলবসন্ত বা চিকেন পক্স হয়ে থাকে। এটি ভয়াবহ রকমের ছোঁয়াচে। অসুখটি সাধারণভাবে নিরীহ মেজাজের। কিন্তু নবজাতক ও বয়স্ক লোকের ক্ষেত্রে জীবনসংহারী হয়ে উঠতে পারে। কেউ একবার এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রায় সারা জীবনের জন্য প্রাকৃতিকভাবে রোগপ্রতিরোধশক্তি লাভ করে। এটি ছড়ায় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ থেকে, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে গিয়ে, ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকে। সাধারণভাবে চিকেন পক্স দুই থেকে আট বছরের শিশুর রোগ। সাধারণ দুর্বলতা, জ্বর-এসবের পর র‌্যাশ দেখা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রোগের শুরু। কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে র‌্যাশ শুকিয়ে ঝরে যায়, যা সম্পূর্ণ সেরে উঠতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। র‌্যাশ ওঠে বুকে ও পিঠে বেশি। তবে মুখে, মাথায়, হাত ও পায়ের তালুতে, এমনকি মুখের ভেতর বা চোখেও উঠতে পারে।
প্রকৃতির রাজ্যে নানা বিচিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রতিনিয়তই চলছে। নিয়মের ব্যতিক্রম আমাদের মাঝেমধ্যে নিয়মের কথাই পুনরায় ্নরণ করিয়ে দেয়। নবজাতকের গঠনের সামান্য থেকে বড় ব্যতিক্রম বিভিন্ন লক্ষণ দেখে শনাক্ত করা যায়। নবজাতকের গঠনের কিছু বিচ্যুতি একটু সাবধান হলেই নির্ণয় করা সম্ভব। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ গঠনবিচ্যুতির কথা আজ তুলে ধরা হলো।
ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা দরকার। এতে শরীর সুস্থ ও শীতল থাকে। গরমের সময় শিশুদের বেশ কিছু সমস্যা দেখা যায়। যেমন-ডায়রিয়া, ঘামাচি, হাম, গরমজনিত সর্দি-কাশি, প্রস্রাবে সংক্রমণ ইত্যাদি।
শিশুবিকাশের ধারা শিশু বেড়ে ওঠে, শিশুর মন ফোটে। দেহ সৌষ্ঠবে বাড়ে। বিকশিত হয় তার মনোজগৎ। কুঁড়ি থেকে ধীরে ধীরে পাপড়ি সাজানো রং উজ্জ্বল ফোটা পুষ্পের সঙ্গে তুলনা চলে শিশুর মনোজগতের। তার জ্ঞানের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ে। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে সে, মানুষের সঙ্গে কথা বলা, মেলামেশা ও অন্যান্য বিষয়ে দক্ষতা অর্জিত হয় ধাপে ধাপে। তার চিন্তাচেতনায় আসে অগ্রগতি-এ হলো শিশুর বিকাশ।
কেস স্টাডি তিন বছর বয়স নাবিলের (কাল্পনিক নাম)। বাবা-মা নাবিলকে নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে ছুটছেন। কোনো কূলকিনারা পাচ্ছেন না। নাবিলের মৃগীরোগ। এ ছাড়া সে মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। কথা বলে না, বসতে পারে না, এমনকি চোখেও দেখে না।
যেসব শিশু প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি দেখে, তাদের অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সম্প্রতি প্যারিসে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তিন হাজারের বেশি শিশুর ওপর ব্রিটিশ চিকিৎসকেরা দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। গবেষকেরা অতিরিক্ত টিভি দেখে এমন সাড়ে তিন বছর থেকে সাড়ে ১১ বছরের শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা সৃষ্টি হতে দেখেছেন।

ভিটামিন বি-১২ জন্মগত ত্রুটি রোধ করে

সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের ১২০০ নারীর ওপর গর্ভধারণ শুরুর পর্যায়ে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি ঠেকাতে পারে ভিটামিন বি-১২। গবেষকেরা পেডিয়াট্রিকস চিকিৎসা-সাময়িকীতে এই তথ্য প্রকাশ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীর শরীরে ভিটামিন বি-১২ কম, তাদের শিশুদের নিউরাল টিউবে ত্রুটি নিয়ে জন্ম হওয়ার ঝুঁকি সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকে। বি-১২ ভিটামিনপুষ্টদের চেয়ে যা পাঁচ গুণ বেশি। গবেষকদের একজন ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের ড: জেমস মিলস বলেছেন, গর্ভবতী হওয়ার আগেই একজন নারীর উচিত পর্যাপ্ত ভিটামিন বি-১২ গ্রহণ করা। এতে শিশুর মস্তিষ্ক বা স্পাইনাল কর্ডে কোনো ত্রুটি থাকার ঝুঁকি থাকে না। সুস্থ স্মায়ুকোষ ও লোহিত রক্তকণিকার জন্য ভিটামিন বি-১২ অপরিহার্য। মাছ-মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য ও ডিমে এই ভিটামিন পাওয়া যায়। ************************** প্রথম আলো, ০১ এপ্রিল ২০০৯।
(Page 3 of 10)   « Prev  1  2  
3
  4  5  Next »

Categories