স্বাস্থ্যকথা

শিশুর স্বাস্থ্য

(Page 4 of 10)   « Prev  2  3  
4
  5  6  Next »
গরমে শিশুর বিশেষ যত্মের প্রয়োজন। এ সময় শিশুর খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে গোসল ও পোশাক নির্বাচনের সময় মায়েদের বিশেষ যত্মবান হতে হবে। গরমে শিশুরা বড়দের তুলনায় অনেক বেশি ঘেমে যায়। এ সময় মৌসুমজনিত নানা রকম ত্বকের সমস্যাও দেখা দেয়, তাই শিশুর প্রতি বিশেষ যত্মবান হলে ত্বকের অনেক সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব। প্রথমেই আসা যাক খাওয়া-দাওয়া প্রসঙ্গে। গরমে শিশুকে দিতে হবে প্রচুর পানীয় খাবার। ঘরে তৈরি নানারকম ফলের জুস, লেবুর সরবত ও ডাবের পানি শিশুর জন্য ভীষণ উপকারী। এতে করে ঘেমে গিয়ে যে পরিমাণ পানি শরীর থেকে বের হয়ে যায় তার ঘাটতি পুরণ হয়ে যায়, সেই সঙ্গে দিতে হবে শিশুর স্বাভাবিক খাবার।
শরীর ও মন উভয়ই শিশুর সামগ্রিক গঠনের অন্তর্ভুক্ত। প্রথম জীবন থেকেই শিশুর শরীরের হয় বৃদ্ধি আর মনের হয় বিকাশ। শরীরের বৃদ্ধি মানে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিবর্তন ও আকৃতি বৃদ্ধি পাওয়া। অন্যদিক মনের বিকাশ মানে শিশুর জ্ঞান, বুদ্ধি, মেধা, আবেগ ও অন্যের সঙ্গে মেলামেশা করার দক্ষতা অর্জন করা। শিশুকে পরিপুর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তার শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক বৃদ্ধি বা মনের বিকাশেরও সমানভাবে সুযোগ করে দিতে হবে। অত্যধিক জনসংখ্যা অধ্যুসিত বাংলাদেশের একেকটি শিশুকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে দেশের সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে এর বিকল্প নেই। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকাসক্তি তথা সব ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হলে শিশুর পরিপুর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে।
শিশুর মানসিক স্বাস্হ্য ও মনের বিকার নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে, শিশুদের অনেক আচরণগত ত্রুটিই মানসিক রোগের পথ ধরে আসে। বয়স্কদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, অনেক অসুখ ও আচরণের বিচ্যুতি একমাত্র শিশুদের মধ্যেই বিদ্যমান। তার মধ্যে অতিপরিচিত- আঙ্গুল চোষা, দাঁত দিয়ে নখ কাটা থেকে মানসিক ভারসাম্যহীনতা পর্যন্ত হতে পারে। অনেক বাবা-মা তাদের বাচ্চার আঙ্গুল চোষা বা দাঁতে নখ কাটা নিয়ে বেশ বিচলিত বোধ করেন। এই লক্ষণ বহু শিশুর মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু এগুলো যে মোটেই মারাত্মক বা দুরারোগ্য ব্যাধি নয়, এটাও অভিভাবকদের জানা দরকার।
আটটি কোম্পানির দুধ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার পর আমাদের অনেক মায়ের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। প্রচারের জোরে এমন একটা অবস্থা হয়েছিল, আমাদের আধুনিক মায়েরা নিজের শিশুর জন্য নিজের বুকের দুধের চেয়ে বাজারে নিষিদ্ধ হওয়া দুধগুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকতেন। এর আগে এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হলেও বা ডাক্তাররা এর বিপক্ষে সব সময় বললেও আমাদের জনগণ বুঝতে চায় না। বেবিফুডের ভয়াবহ ক্ষতি ও প্রতিক্রিয়ার ব্যাপার রফতানিকারক দেশগুলো ভালো করেই জানে। তার পরও নিজেদের রাষ্ট্রে কম ব্যবহার করে এগুলো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে রফতানি করে থাকে। বিজ্ঞাপনের ব্যাপার তো রয়েছে। ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করার জন্য অনেক কিছুই ওরা লিখে থাকে এসব দুধের গায়ে।
সব শিশুই কমবেশি জ্বরে ভুগে থাকে। কিন্তু জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে শিশুর বাবা-মার দুশ্চিন্তার মাত্রা বেড়ে যায়। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়ঃ -- শিশুর দাঁতে দাঁত লেগে যায়। -- মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে পারে। -- চোখ স্হির হয়ে থাকে। -- হাতে-পায়ে বার বার খিঁচুনি হতে থাকে। -- কখনো কখনো শিশু সংজ্ঞাহীন হয়ে যেতে পারে। -- সংজ্ঞাহীন অবস্হা ৫ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত স্হায়ী হতে পারে।
১৭ নভেম্বর পালিত হলো বিশ্ব খিঁচুনি দিবস। এ রোগ সম্পর্কে আমাদের নানা রকম ভুল ধারণা ভেঙে দেওয়াই হচ্ছে এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য। খিঁচুনি মস্তিষ্কের স্মায়ুতন্ত্রের জটিলতাজনিত একটি সাধারণ রোগ। সুস্থ ও স্বাভাবিক একজন লোক যদি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে কাঁপুনি অথবা খিঁচুনির শিকার হয়, চোখ-মুখ উল্টে ফেলে কিংবা কোনো শিশুর চোখের পাতা স্থির হয়ে যায়, একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে অথবা মানসিকভাবে সুস্থ কোনো লোক অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে-তবে তাকে খিঁচুনির রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এসব অস্বাভাবিকতা মস্তিষ্কের অতিসংবেদনশীল কোষের উদ্দীপনার ফল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর দুই মিলিয়ন মানুষ নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
প্রত্যেক মা-বাবাই চান তাঁদের ঘরের ফুটফুটে সন্তানটিকে আরেকটু নাদুসনুদুস বানাতে। তাই তাঁরা মায়ের দুধের পাশাপাশি একটু-আধটু গুঁড়ো দুধ দিতে শুরু করেন। অনেকে শুরু করেন শখের বশে, আবার কেউ অনেক সময় বাধ্য হয়ে। গুঁড়ো দুধে মেলামিন মেশানো নিয়ে সাম্প্রতিক তোলপাড়ের বেশ কিছুদিন আগে কিছু তরল দুধেও ফরমালিন পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের অসংখ্য পল্লীর অনেক পর্ণকুটিরে হেঁসেলে কাটিয়ে দেয় কত মা-বোন দিনের ও রাতের বেশির ভাগ সময়, এ কাহিনী তো জানা হয়নি পুরোপুরি। কিন্তু রাতে ঘুমের মধ্য থেকে কাশ-কফে অস্থির হয়ে ওঠে এই অসংখ্য মা-বোন, এ তো নতুন নয় এ দেশে। এসব দিনরাত্রির কাব্য লেখা হবে কবিদের কাজ। কিন্তু দিনের অর্ধেক সময় রান্নাঘরে, নয়তো উ্নুক্ত আকাশের নিচে একটুখানি ঘের দেওয়া ঘরে খড়ি, কাঠ, গোবর, শুকনো পাতা উনুনে জ্বালিয়ে রান্না করে পল্লীবালারা, আর এ জন্যই রাতে কাশতে কাশতে দম আটকে যায় তাদের মাঝেমধ্যে।
সরকারি সেবা বাড়ানো প্রয়োজন ‘আমি কোনো পাপ করি নাই, আল্লাহ আমার কপালে লিখছে, তাই দুই ছেলেই অন্ধ হইয়া জ্ন নিছে।’ এভাবেই নিজের মনকে শান্ত রাখেন জুবাইদা নাসরিন। পাবনার ভেলুপাড়া গ্রামের নাসরিন জানান, তাঁর দুই ছেলেরই জ্ন হয়েছে জ্নগত ছানি নিয়ে। বড় ছেলের বয়স ১২ ও ছোট ছেলের তিন। বড় ছেলের চোখের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে দৌড়াদৌড়ি করে লাভ হয়নি। শুধু নাসরিন নন, আরও হাজার হাজার মা সন্তানের অন্ধত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
আট বছর বয়সী মেয়ে আছমা (কাল্পনিক নাম)। তাকে নিয়ে তার মায়ের সারাক্ষণ কান্নাকাটি। একটিই মাত্র সন্তান। রোগ সারে না। বারবার গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে যায়। বারবার বুকে কফ বসে যাওয়ার সিরাপ খায়। ঘন ঘন শ্বাস নিলে হাঁপানির ওষুধ খায়।
(Page 4 of 10)   « Prev  2  3  
4
  5  6  Next »

Categories