স্বাস্থ্যকথা

শিশুর স্বাস্থ্য

(Page 5 of 10)   « Prev  3  4  
5
  6  7  Next »
তোতলানো একটা কথা বলার সমস্যা, যেটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ভালো হয়ে যায়। সাধারণত ১৬ বছর বয়সের আগেই শতকরা ৮০ ভাগ ভালো হয়ে যায়।

মেলামাইন শিশুকে বুকের দুধ দিন

দেশব্যাপী মেলামাইন আতংক। কিছু কিছু গুঁড়া দুধে ক্ষতিকর টক্সিক পদার্থ মেলমাইন সনাক্ত হওয়ায় মায়েরা উদ্বিগ্ন। শিশুদের কি খাওয়াবেন। দেশের বরেণ্য শিশু বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম কিউ কে তালুকদার, আইসডিডি আরবির বিজ্ঞানী ও ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. এস কে রায়, জাতীয়, পুষ্টি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপিকা ফাতেমা পারভীন চৌধুরী ও শমরিতা হাসপাতালের পুষ্টিবিদ এস এন শম্পা সম্প্রতি ইত্তেফাক আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বলেছেন, শিশুকে পুর্ণ দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ দিতে হবে। মেলামাইনযুক্ত কোন গুঁড়া দুধ আর নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে মেলামাইনযুক্ত গুঁড়া দুধ শিশুকে খেতে দিলে শিশুর কিডনির সমস্যা এবং শিশুর গঠন ও বৃদ্ধিতে সমস্যা হতে পারে। তবে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য সম্পূরক খাবার দিন।

**************************
ডাঃ মোড়ল নজরুল ইসলাম
দৈনিক ইত্তেফাক, ০১ নভেম্বর ২০০৮
রাত তখন ১২টার কম হবে না। হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে উঠলো আপনার শিশু। একটি হাতে কান চেপে ধরে কেঁদে কেঁদে বললো, কানব্যথা। আপনি কী করবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। কানে টর্চলাইটের আলো ফেললেন। এতে কানের মধ্যে আপনি যা দেখলেন তা থেকে ব্যথা হওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনো ধারণা পেলেন না। কিংবা কানের মধ্যে খয়েরী বা কালচে রঙের কিছু দেখতে পেলেন। ভাবলেন ময়লা জমেছে। তাই ব্যথা কমানোর জন্য কানে তেল দিলেন, কিন্তু ব্যথা কমলো না। অগত্যা ব্যথা কমানোর ওষুধ প্যারাসিটামল দিয়ে শিশুকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলেন। একসময় কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেল শিশু। সকালে যখন ঘুম খেকে উঠল তখন আর ব্যথা নেই।
বড়দের ডায়াবেটিস হলে নিজেরাই এর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে মা-বাবাকে নিতে হয় মুখ্য ভূমিকা। এ ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধের চেষ্টা করা। পরিবারে কারও ডায়াবেটিস থাকলে তার সন্তানের হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে তাই সতর্ক থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় মায়ের ভাইরাস, বিশেষ করে রুবেলার সংক্রমণ পরে শিশুর ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়ায়। তাই মেয়েদের উচিত গর্ভধারণের আগেই রুবেলার টিকা এমএমআর নেওয়া।
শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টির ভূমিকা প্রধান। গর্ভকালীন মায়ের পুষ্টি অবস্থা, জীবনের প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ পান ও ছয় মাস বয়সের পর মায়ের দুধ পানের সঙ্গে অন্যান্য বাড়তি খাবার জোগানোর ওপর শিশুর বয়সের প্রথম বছরগুলোতে পুষ্টিমান নির্ভর করে।
আমাদের চোখ কোনো জিনিসের ছবি তুলে স্মায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠিয়ে দেয়। মস্তিষ্ক তখন বলে দেয় এটা কিসের বা কার ছবি বা এটির রং, আকৃতি কেমন। যদি এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে বুঝতে হবে, চোখে সমস্যা আছে। অলস চোখ বা এমব্লায়োওপিয়া চোখের একটি মারাত্মক রোগ, যা প্রধানত শিশুর চোখের ছবি গ্রহণের ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। ফলে শিশুটি ওই চোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পায় না। যদি নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে শিশুটির দৃষ্টিশক্তি আর কখনোই ফিরে আসে না।
সমস্যাঃ আমার সন্তানের বয়স ২৩ মাস। ওজন ১২-১৩ কেজি। বাচ্চার ৯-১০ মাস বয়সে প্রস্রাবে ইনফেকশন হওয়ার পর সাত-আট দিন হাসপাতালে চিকিৎসা করে সুস্থ হয়। এর আগে থেকেই সে খাবার খেতে চায় না।
রনির (কাল্পনিক নাম) এক বছর বয়স। তার জ্নের সময় কোনো সমস্যা ছিল না। অন্যান্য শিশুর মতোই সে বেড়ে উঠছিল। কিন্তু তার বয়স যখন আট মাস, তার মা লক্ষ করলেন, তার শরীর মাঝেমধ্যে হঠাৎ করেই এক-দুইবার ঝাঁকি দেয়। প্রথম দিকে অতটা গ্রাহ্য করেননি। কিন্তু দিন দিন তার ঝাঁকির পরিমাণ বাড়তে থাকে। ঝাঁকি দেয় সেজদা দেওয়ার মতো সামনের দিকে ঝুঁকে। পরমুহূর্তে আবার সোজা হয়ে যায়।
অটিজম শিশুদের আচরণ ও ভাষা বিকাশের সমস্যা; অন্যের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদানের গুণগতমানের সমস্যা। সাধারণত তিন বছর বয়সের মধ্যে এর লক্ষণগুলো দেখা যায়। যত দ্রুত সম্ভব অটিজম শনাক্ত করতে হবে। শিশুরা মা-বাবার চোখে চোখ রেখে হাসতে শেখে, ঘুরে ঘুরে দেখে, মা কী করছে। হাত বাড়ায় কোলে ওঠার জন্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুবিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে তাকে বুকের দুধের পাশাপাশি শক্ত খাবার দেওয়া উচিত। এর আগ পর্যন্ত শিশু তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি বিশেষ করে আয়রন মায়ের দুধ থেকেই পায়। ছয় মাস বয়সে শিশুদের পরিপাকতন্ত্র শক্ত খাবার হজমের উপযোগী হয়। এ সময় জিহ্বার পেছন দিকে খাবার ঠেলে গিলতে পারে শিশুরা।
(Page 5 of 10)   « Prev  3  4  
5
  6  7  Next »

Categories