স্বাস্থ্যকথা

সতর্কতা

সম্প্রতি আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরিগুলো থেকে অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে। ভস্ম ছড়িয়ে পড়ছে আকাশে। ইউরোপের আকাশে ছাই ছড়িয়ে পড়ছে। সে অঞ্চলে বেশির ভাগ বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেক বিমানবন্দরে যাত্রীরা আটকা পড়েছেন, দুঃসহ সময় কাটছে তাঁদের। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এ নিয়ে চিন্তিত।
এ গরমে মৌসুমী ফল আপনার শরীর ও মনে এনে দিতে পারে প্রশান্তি সারা দেশে এখন গ্রীষ্মের দাবদাহে জীবন ওষ্ঠাগত। প্রচণ্ড গরম, তার ওপর বিদ্যুত্-বিভ্রাট—যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। এই গরমে শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাই প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো স্বাস্থ্য-সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। একটু সতর্ক হলেই অস্বাভাবিক এ স্বাস্থ্য-সমস্যাগুলোকে প্রতিহত করা যায়।
ধূমপানের নানা অপকারিতা সম্পর্কে জানেন মোটামুটি সকল ধূমপায়ী। তারপরও ধূমপান ত্যাগ করতে দেখা যায় অনেক কমসংখ্যক ধূমপায়ীকে। ধূমপান থেকে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালী সরু হয়ে হার্ট এ্যাটাকের মত বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটতে পারে। কমে যায় গড় আয়ু, কর্ম ক্ষমতা তার পরও ধূমপায়ীদের তেমন কোন উদ্বেগ নেই। অনেকের ধারনা বহু বছর ধরে ধূমপান করছি, দাদা ধূমপায়ী ছিলেন, বাবা ধূমপায়ী ছিলেন কোন সমস্যা তো দেখিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বিপদ যাদের আসে তারাই বোঝেন।
সাধারণত কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কয়েকটি কারণ বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। নেফ্রোটিক সিন্ড্রম এ রোগ প্রসারের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিন বা এলবুমিন বেরিয়ে যায়, তখন শরীরে পানি জমে। প্রচলিত চিকিত্সার পাশাপাশি এ রোগের রোগীদের খাবারে পানির পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হয়। কাজেই রোগীর কিডনির কার্যকারিতা ভালো রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রতি সপ্তাহে শরীরের ওজন ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
দূর ছাই! কিচ্ছু মনে থাকে না। স্মৃতিশক্তিটা কি কমে গেল? নিজেদের প্রতি এ জাতীয় অভিযোগ আমরা হরহামেশাই করে থাকি। আর বয়স হলে আরও বেশি করি। আবার অনেকেই আছেন যারা সুস্থ তীক্ষষ্ট মস্তিষ্ক নিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন। শেষ দিনটি পর্যন্ত মেধা আর অটুট স্মৃতিশক্তি বলে কাজ করে যান মানুষের জন্য। কী করে সম্ভব হয়? তীক্ষষ্ট মেধা, অটুট স্মরণশক্তি মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য হলেও এগুলো অক্ষুণ্ন রাখাও মানুষেরই কাজ।
অতিরিক্ত চিনি শুধু মানুষের শরীরকে মুটিয়েই দেয় না, এর ফলে মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকিটাও বেড়ে যায় বহুগুণে। অতিরিক্ত চিনি খেলে মুটিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আরও বেশ কিছু রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে শরীরে। এর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিটাই থাকে সবচেয়ে বেশি। মিষ্টি কোমল পানীয়তেও চিনি থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ডায়াবেটিস রোগের জন্যও কিন্তু অনেকাংশেই দায়ী এই অতিরিক্ত মিষ্টি। আমেরিকার একদল গবেষক মানব শরীরে চিনির প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করে সম্প্রতি এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে। গবেষণায় বলা হয়, বিশেষ করে মহিলাদের দিনে চিনিযুক্ত খাবার ১০০ ক্যালোরি অথবা ছয় চা চমচের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়। পুরুষের বেলায় এই পরিমাণটা ১৫০ ক্যালোরি বা নয় চা চামচ। এই অতিরিক্ত চিনি হৃদযন্ত্রের রোগ তৈরিসহ উচ্চ রক্তচাপ এমনকি স্ট্রোকও ঘটাতে পারে।
কটনবাড ব্যবহার করে মৃত্যুবরণ করা বিরল ঘটনা। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে কানাডার মন্ট্রিলে। ঘটনা তদ-কারী কর্মকর্তা ডাঃ জেসক রামসে কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগকে বলেছেন যে, কটন বাডের প্যাকেটের ওপর সতর্কবাণী লিখে দিতে। মন্ট্রিল নিবাসী ৪০ বছর বয়স্ক মি. ডেনিয়েল সেন্ট পিয়ে গত বছর মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুর কারণ হলো বহিঃকর্ণের ইনফেকশন, যা কানের পর্দা ছিদ্র করে মেনিনজাইটিস করেছে। মি. সেন্ট পিয়ে একজন কানে মাত্রাতিরিক্ত কটনবাড ব্যবহারকারী। যে কারণে প্রতিদিন বারবার ব্যবহারের ফলে তার বহিঃকর্ণে ইনফেকশন হয় এবং পরে তিনি আরো বেশি কটনবাড ব্যবহার করাতে তার বহিঃকর্ণের ইনফেকশন মধ্যকর্ণ থেকে অন্তঃকর্ণে বিস্তৃতি লাভ করে। অন্তঃকর্ণ থেকে মস্তিস্ক এবং মস্তিস্কের আবরণ মাত্র কয়েক মিলিমিটার দূরে। যার ফলে ইনফেকশন অতি সহজেই মস্তিস্ক এবং তার আবরণে সংক্রমিত হয়ে হতে পারে মেনিনজাইটিস বা স্পাইনাল কর্ডের চার পাশের প্রদাহ, যা কানের ইনফেকশনের জটিলতা হিসেবে দেখা দেয়।
আজকাল তরুণ থেকে বয়স্ক লোক পর্যন্ত কারণে-অকারণে উত্তেজক ওষুধ সেবন করেন। এমনকি উত্তেজক ওষুধ সেবনকারীদের একটি বড় অংশ অবিবাহিত তরুণ, ছাত্র, যুবক। ওষুধের দোকানে চাইলেই এসব মারাত্মক ক্ষতিকর ওষুধ পাওয়া যায়। কোন প্রকার ব্যবস্থাপত্র লাগে না। ফলে হাজার হাজার পুরুষ অযথা এসব ওষুধের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হচ্ছেন। কেবলমাত্র যাদের শারীরিক সমস্যা আছে তারাই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ ধরনের ওষুধ সেবন করতে পারেন। উত্তেজক ওষুধের সহজপ্রাপ্যতার কারণে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধের মারাত্মক অপব্যবহার হচ্ছে। ফলে তরুণদের স্বাভাবিক শারীরিক ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। এসব কারণে একেবারে নবাগতদের দাম্পত্য জীবনও হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। তরুণদের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে বিবাহ-ভীতি। তাই কোন অবস্থাতেই তরুণদের কোন ধরণের উত্তেজক ওষুধ সেবন বাঞ্ছনীয় হতে পারে না।

Categories