স্বাস্থ্যকথা

হাত ও পা

ট্রিগার ফিংগার হাতের আঙুলের টেনডনের একটি রোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে "স্টেনোজিং টেনোসাইনোভাইটিস" বলে। নিম্নবাহুর পেশীগুলো টেনডনের মাধ্যমে আঙুলের হাড়ের সাথে যুক্ত হয়ে আঙুলের বিভিন্ন নড়াচড়া করায় । প্রদাহ বা স্ক্যার টিসুর জন্য টেনডন ফুলে যায় । ফলে এর আবরণের ভিতর ঠুকতে বা বের হতে বাধাঁ গ্রস্ত হয়। কোন কিছু ধরতে চেষ্টা করলে মসৃন ও অবিরাম আঙুলের মুষ্ঠি না হয়ে ফট ফট করে ভাঁজ হয়। আবার আঙুল সোজা করতে গেলে ফট ফট করে হয়। অনেকটা বন্ধুকের ট্রিগারের মত। এ জন্য একে ট্রিগার ফিংগার বলে । অনেক সময় আঙুল সোজা বা ভাঁজ অবস্থায় আটকিয়ে থাকে। আঙুলের গোড়া জমে থাকে, ব্যথা হয় এবং শক্ত ছোট পিন্ডের মত ফুলে থাকে। দীর্ঘদিন এভাবে থাকলে জোড়ায় আথর্্রাইটিস হয় এবং টেনডন ছিড়ে যায় ।
সব বয়সের লোকই জীবনের কোন না কোন সময়ে হাঁটুর ব্যথায় ভোগে। হাঁটু এমন একটি জটিল এবং গুরুত্বপূর্ন জোড়া যা বসতে, দাড়াঁতে, হাঁটতে, দৌড়াতে, উপরে উঠতে এবং নামতে একান্ত প্রয়োজন। শরীরের বিভিন্ন জোড়ায় বিভিন্ন সমস্যার কারণে ব্যথা হয় । হাঁটু শরীরের বড় একটি জোড়া এবং ওজন বহনকারী বিধায় হাঁটুতে বিভিন্ন সমস্যার কারণে ব্যথা বেশী হয় । গঠনগতভাবে হাঁটু ফিমার (উরুর হাড়), টিবিয়া (লেগের হাড়) ও প্যাটেলা (নী ক্যাপ) এই তিনটি হাড় এবং বিভিন্ন ধরনের লিগামেন্ট সমন্বয়ে গঠিত । জোড়ার মধ্যে হাড়ের প্রান্তে থাকা মসৃণ কার্টিলেজ বা তরুনাস্থি (মেনিসকাস) জোড়ার বিভিন্ন মুভমেন্টে সহায়তা করে এবং লিগামেন্ট জোড়ার স্ট্যাবিলিটি রক্ষা করে । কিছু সমস্যার ব্যথা হঠাৎ করে শুরু হয় ; আবার কিছু ব্যথা আস্তে আস্তে শুরু হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে । ব্যথার উৎপত্তির স্থান বিবেচনা করলে - অধিকাংশ ব্যথা হাঁটুর লোকাল বা স্হানীয় ব্যথা এবং কিছু ব্যথা রেফার্ড বা কোমর এবং কটির জয়েন্ট থেকে আসে ।
অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকের হাঁটুর নিচে দুই থেকে তিন ইঞ্চির মতো অংশ মাংসসহ হাড় থেঁতলে যায়। এ অবস্হায় হাসপাতালে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। মাসের পর মাস ড্রেসিং করা ও ওষুধ খাওয়ার ফলে তাদের পা রক্ষা পায়। ঘা শুকাতে ৩-৪ মাস সময় লাগে। ঘা শুকানোর পর দেখা যায় দুই-তিন ইঞ্চির মতো হাড় নেই। ভুক্তভোগী শত শত রোগীর জন্য সুখবর হচ্ছে, এতদিন থেতলে যাওয়া হাত বা পায়ের অংশ শরীর থেকে কেটে ফেলা হতো। কিন্তু বর্তমানে এলিজারোব নামক উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে এসব ভাঙা হাত-পা জোড়া লাগানোসহ প্রয়োজনমত বড় করা যায়। এলিজারোব পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থোপেডিক চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।
নানা কারণে হাতের কব্জিতে ব্যথা হতে পারে, যেমন- আঘাত পাওয়া, দীর্ঘক্ষণ কব্জির মাধ্যমে কোন কাজ করা, ডিকোয়ারবেইনস ডিজিজ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাঁউট ও অন্যান্য বাতজাতীয় রোগ। এসব রোগে কব্জিতে ব্যথা ছাড়াও অন্য জোড়ায় ব্যথা হতে পারে। ডান হাতের কব্জিতে ব্যথা হলে লিখতে এমনকি খেতেও অসুবিধা হয়।
পা না থাকলে যেমন মানুষ হাঁটতে পারে না তেমনি পায়ে ব্যথা থাকলেও হাঁটতে খুবই অসুবিধা হয়। আর চলাফেরা যিনি করতে পারেন না তিনি পঙ্গু। মানবদেহের পা এর প্রধান দু’টি অংশ হলো গোড়ালি ও পায়ের পাতা। পায়ের গোড়ালিতে যেসব কারণে ব্যথা হয় তার মধ্যে ক্যালকেনিয়ান স্পার বা কাঁটাই বেশি দায়ী। তা ছাড়া পায়ে কোনো আঘাত লাগলে বা পায়ের হাড় ভেঙে গেলে ব্যথা হয়।
মানবদেহের পা একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পা না থাকলে মানুষ হাঁটতে পারে না, তেমনি পায়ে ব্যর্থ থাকলেও হাঁটতে খুবই অসুবিধা হয়। আর চলাফেরা যিনি করতে পারেন না, তিনি তো পঙ্গু বৈ আর কিছুই নয়। মানবদেহের পায়ের প্রধান দু’টি অংশ হলো গোড়ালি ও পায়ের পাতা। পায়ের গোড়ালিতে যেসব কারণে ব্যথা হয় তার মধ্যে ক্যালকেনিয়ান স্পারই বেশি দায়ী।
রাত বয়ে যায়, আসে না তো ঘুম... শুয়েছেন, কিন্তু ঘুম হবে কী করে? পা দুটো চঞ্চল। নিজের ইচ্ছাতেই অস্থির হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ক্লান্ত-শ্রান্ত শুয়ে পড়েছেন শয্যায়। চোখে ঘুম এলো বলে, কিন্তু হঠাৎ করে পা দুটোতে অদ্ভুত একটি অনুভূতি। পায়ের পেশিগুলোতে চুলকানি ভাব, ছমছমে অনুভূতি, কী যেন গুটি গুটি করে এগোচ্ছে পায়ের পেশি বরাবর... হামাগুড়ি দিয়ে চলছে কিছু পা দিয়ে... শিহরণ জাগছে মাঝে মাঝে...। আর যত শক্ত করে পা দুটো স্থির করতে চেষ্টা করা হলো, তত জোরালো করে সেই অনুভূতিগুলো ফিরে আসছে পায়ে।

রাতুলের বয়স তিন বছর। দুষ্টুমি, লাফালাফি কোনটাই বাদ নেই। বাবার হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে হঠাৎ একটা রিক্সা আসাতে বাবা রাতুলের হাত ধরে টান দিয়ে সরিয়ে নেয়। রাতুল কান্নায় চিৎকার দিয়ে ওঠে। বাবাকে বলে ব্যথা ব্যথা। বাবা মা অস্থির হয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে দেখা যায় রাতুলের ডান হাত নাড়াতে পাচ্ছে না, ধরলেই ব্যথা বলে চিৎকার দিচ্ছে,। এলবো জয়েন্ট কোন ভাবে কাজ করছে না। রাতুলের হাতের এই অবস্থাকে বলে পুলড্‌ এলবো (Pulled Elbow)

Categories