স্বাস্থ্যকথা

হাড়

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
জোড়া শরীরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায় জোড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মানব শরীরে ২০৬ টি হাড়ের সমন্বয়ে ছোট বড় প্রায় ১৪৭ টি জোড়া তৈরী হয়। হাড়ের গঠন, জোড়ার আবরণ, লিগামেন্ট ও মাংসপেশীর সমন্বয়ে জোড়ার দৃঢ় অবস্থা বজায় থাকে। শরীরের বিভিন্ন জোড়ার মধ্যে হাত ও পায়ের আঙ্গুলের জোড়া, কটির (হিপ) জোড়া, কনুইর জোড়া এবং কাঁধের জোড়া বেশী ডিসপেস্নসমেন্ট বা স্থানচু্যতি হয়। আগাতে জোড়ার আবরণ ও লিগামেন্ট ইনজুরি হলে জোড়া স্থানচু্যতি হয়। কিছু জোড়া যেমন কাঁধের জোড়া স্থানচু্যতি হয়। জোড়ায় সরাসরি আঘাত, দূর্ঘটনা ও খেলাধূলার সময় পড়ে গিয়ে জোড়া ছুটে যায়।
ট্রিগার ফিংগার হাতের আঙুলের টেনডনের একটি রোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে "স্টেনোজিং টেনোসাইনোভাইটিস" বলে। নিম্নবাহুর পেশীগুলো টেনডনের মাধ্যমে আঙুলের হাড়ের সাথে যুক্ত হয়ে আঙুলের বিভিন্ন নড়াচড়া করায় । প্রদাহ বা স্ক্যার টিসুর জন্য টেনডন ফুলে যায় । ফলে এর আবরণের ভিতর ঠুকতে বা বের হতে বাধাঁ গ্রস্ত হয়। কোন কিছু ধরতে চেষ্টা করলে মসৃন ও অবিরাম আঙুলের মুষ্ঠি না হয়ে ফট ফট করে ভাঁজ হয়। আবার আঙুল সোজা করতে গেলে ফট ফট করে হয়। অনেকটা বন্ধুকের ট্রিগারের মত। এ জন্য একে ট্রিগার ফিংগার বলে । অনেক সময় আঙুল সোজা বা ভাঁজ অবস্থায় আটকিয়ে থাকে। আঙুলের গোড়া জমে থাকে, ব্যথা হয় এবং শক্ত ছোট পিন্ডের মত ফুলে থাকে। দীর্ঘদিন এভাবে থাকলে জোড়ায় আথর্্রাইটিস হয় এবং টেনডন ছিড়ে যায় ।
মানব শরীরে ২০৬টি হাড় আছে। স্বাভাবিক গঠনে হাড়ে আমিষ, কোলাজেন ও ক্যালসিয়াম থাকে বলে হাড় শক্তিশালী হয়। ৩০ বছর বয়সে হাড়ের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে এবং হাড় মজবুত থাকে। একে হাড়ের পিক (চবধশ) পরিমাণ বলে। প্রাকৃতিক নিয়মে ৩০ বছরের পর থেকে মানব শরীরে হাড়ের ঘনত্ব ও পরিমাণ কমতে থাকে, হাড় দুর্বল এবং ভঙ্গুর হতে থাকে। ফলে হাড় অতি সহজেই ভেঙে যায়।
পূর্ন বয়স্ক ব্যক্তির প্রতি পাঁচ জনের এক জন জীবনের যে কোন সময়ে কাঁধের ব্যথায় ভোগে। অল্প বয়স্কদের ব্যথার মূল কারণ হলো আঘাত এবং ব্যবহার জনিত ক্ষয় ও আঘাতের জন্য বয়স্কদের কাঁধে ব্যথা হয় । গঠনগতভাবে কাঁধ তিনটি হাড় দ্বারা গঠিত তিনটি জোড়ার সমন্বয়ে তৈরী এবং ত্রিশটি মাংসপেশী জোড়ায় বিভিন্ন ধরনের নড়াচড়া করায় ।
মানব শরীরের একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ জোড়া। অন্যান্য জোড়ার তুলনায় কাঁধের জোড়ায় সব চেয়ে বেশী মুভমেন্ট হয় বলেই এই জয়েন্ট অতি সহজেই ডিসপ্লেসমেন্ট বা ডিসলোকেশন হয়। কোন জোড়া একের অধিক ছুটে গেলে তাকে রিকারেন্ট ডিসলোকেশন (ডিসপ্লেসমেন্ট) বা রিকারেন্ট সাবল্যক্সাশন বলে। একবার জোড়া ডিসপ্লেসমেন্ট হলে পরবর্তীতে জয়েন্ট ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ৮৬.৬ ভাগ এবং ইহা প্রথম আঘাতের ২ বৎসরের মধ্যে শুরু হয়। স্ক্যাপুলার গ্লেনয়েড ক্যাভিটি ও হিউমেরাল হেড-এই দুই হাড়ের সমন্বয়ে কাঁধের জয়েন্ট গঠিত। ল্যাবরোক্যাপসুলার কমপ্লেক্স, লিগামেন্ট এবং রোটাটর কাফ মাংস বেশী দ্বারা কাঁধের জোড়ার স্ট্যাবিলিটি মেইনটেন হয়।
অস্টিওপোরোসিস এমন একটি রোগ, যা হলে মানুষের শরীরের হাড়গুলো ক্ষয়ে গিয়ে হালকা-পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। অস্টিওপোরোসিস হলে সামান্য আঘাতেও পিঠ ও কোমরের এর হাড়গুলো ভেঙ্গে যেতে পারে। হিপ-এর হাড় ভেঙ্গে গেলে হাসপাতালে ভর্তি হওযার ঝামেলা পোহাতে হয়। আর মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙ্গে গেলে পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। আর যে কোনও হাড় ভাঙ্গা মানেই হল-এক ধরনের শারীরিক অক্ষমতা বা ডিজ-অ্যাবিলিটি, যা কারোরই কাম্য হতে পারে না। অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্ত হওয়া না- হওয়া কতগুলো ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। যেমন-আপনার শৈশবকালে দেহের হাড়গুলো তকটা মজবুত ও শক্ত ছিল, বয়সকালে আপনার স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ইত্যাদি।
মামুন সাহেব (ছদ্মনাম)। বয়স ৩৫ পেরিয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম করেন। নিজেই গাড়ি চালান। মাথায় রাজ্যের টেনশন নিয়ে কাটে দিন। আয়েশের জন্য ফোমের বিছানায় ঘুমান। হঠাত্ একদিন সকালে উঠে দেখলেন, ঘাড় ঘোরাতে পারছেন না। প্রচণ্ড ব্যথা। ব্যথায় হাত ঝিঁঝি করছে। পিঠের দিকেও যাচ্ছে ব্যথা। এ অবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা চিকিত্সকের পরামর্শ নেন না। নিজে নিজেই ব্যথার ওষুধ খান বা গরম সেঁক দিয়ে ব্যথা উপশমের চেষ্টা করেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, ঘাড়ের ব্যথা হাত বা পিঠের দিকে যাচ্ছে কি না। এ রকম হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ঘাড়ের একটি এক্স-রে করান। এতেই আপনার ঘাড় ব্যথার প্রকৃত কারণ বের হয়ে আসবে।
যক্ষ্মা রোগ এ দেশে মারাত্মক রোগ হিসেবে পরিগণিত ছিল। কথায় আছে, ‘যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা’। সময়ের ব্যবধানে মানুষ এই রোগ জয় করতে পেরেছে। যক্ষ্মা রোগ বলতে মানুষ সাধারণত ফুসফুসের রোগকেই বুঝে থাকে। কিন্তু যক্ষ্মা ফুসফুস ছাড়াও শরীরের অন্যান্য স্থানেও হতে পারে। তন্মধ্যে অস্থি ও অস্থিসন্ধি অন্যতম। অস্থির মধ্যে কশেরুকা ও অস্থিসন্ধিতে যক্ষ্মা বেশি দেখা যায়। লম্বা অস্থি কিংবা হাত ও পায়ের অস্থিতে যক্ষ্মা দেখা দিতে পারে। প্রথমে অস্থিসন্ধি আক্রান্ত হয়। তারপর অস্থিতে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং সেখান থেকে পুঁজ জাতীয় পদার্থ বের হতে পারে।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাবে অস্থির পুষ্টি ব্যাহত হয়। মেয়েদের মধ্যে অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। অস্টিওপোরোসিস রোগের অনেক কারণ রয়েছে। এ রোগে হাড়ের ক্ষয় একটু দ্রুতগতিতে ঘটতে থাকে।
অষ্টিও আর্থাইটিসে কষ্ট পান অনেকেই। অষ্টিও আর্থ্রাইটিস শব্দটির সঙ্গে ব্যথা-বেদনার একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিসের মধ্যে সবচেয়ে কমন হচ্ছে অষ্টিও আর্থ্রাইটিস। এটি হচ্ছে এক ধরনের ডিজেনারেটিভ আর্থ্রাইটিস। শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে হাড়ের শেষ প্রান্তে যে কার্টিলেজ থাকে তা একটা কুশনের মতো কাজ করে। ক্রমাগত মুভমেন্টের ফলে জয়েন্টের হাড়ের মধ্যে ঘর্ষণ হয়। এই ঘর্ষণের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে কার্টিলেজ। নানা কারণে ক্ষয় হতে হতে এই কার্টিলেজের টোটাল ক্ষতি হয়। এর ফলে অষ্টিও আর্থাইটিস হয়, জয়েন্টে ব্যথা হয় ও মবিলিটি কমতে থাকে। জয়েন্ট মার্জিনে নতুন হাড় তৈরি হয়।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »

Categories