স্বাস্থ্যকথা

হৃৎযন্ত্র, রক্ত ও রক্তসংবহনতন্ত্র

(Page 1 of 5)   
« Prev
  
1
  2  3  4  5  Next »
গবেষণায় বিশেষজ্ঞগণ দেখেছেন যারা কখনই ব্যায়াম করেননা অথবা যারা অনিয়মিত ভাবে অথবা কদাচিত এক্সারসাইজ করেন তাদের হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ দশমিক ৫ গুণ বেশী এবং শারীরিক সম্পর্ক (সেক্স) স্থাপনের সময় এদের হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৭ গুণ বেশী হয়।
হৃদযন্ত্রের রক্তনালীতে নানা রকম রোগ হতে পারে। তবে এই সব রোগের মধ্যে ধমনীগাত্রে চর্বি জমে রক্তনালী সরু হতে যাওয়াটাই প্রদান। একে বলে এথেরোসেস্নারেবসিস। এভাবে সরু হয়ে যাওয়া রক্তনালী হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করতে পারেনা। ফলে দেখা দেয় এস্কোমিক হার্ট ডিজিজ, মায়োকার্ডিয়াল ইনফেকশন। ফলশ্রুতিতে বুকে ব্যথা বা হার্ট এ্যাটাক হতে পারে। সমাধান হলো: শুরুতে ওষুধ। কাজ না হলে এনিজিওগ্রাম করে রিং পরানো, স্টেন্ট পরানো। আর সমস্যা বেশী হলে বাইপাস সার্জারী জরুরী। অনেক ঝক্কি। তাই পুরনো কথাটা আবার ঝালিয়ে নেওয়া দরকার। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভাল। তাই জেনে নিন কিছু রিস্ক ফ্যাক্টরের কথা-যেসব কারণে বেড়ে যায় এইসব সমস্যা।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল, লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এণ্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও স্কটল্যাণ্ডের ইউনিভার্সিটি অব আবেরদিন-এর একদল গবেষক ১৯৫০ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্য- সময়ে যেসব শিশু আবেরদিন জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে ১০৮০৩ জনের ওপর কোহর্ট পদ্ধতিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা চালিয়েছিলেন। গবেষণার বিষয় ছিল শিশুর জন্মকালীন ওজনের সাথে পরবর্তী জীবনে করোনারি হার্ট ডিজিজ ও স্ট্রোক-এ আক্রা- হওয়ার কোনও সম্পর্ক আছে কি না এবং সম্পর্ক থাকলে সেটি কি? গত ২৯ আগষ্ট ২০০৫-এ প্রকাশিত ‘সার্কুলেশন’ নামক একটি জার্নালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে-শিশুর জন্মওজনের সাথে করোনারি হার্ট ডিজিজ ও স্ট্রোক বিপরীতভাবে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ কম জন্মকালীন ওজনবিশিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে পরবর্তী জীবনে হৃদরোগ ও স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

**************************
দৈনিক ইত্তেফাক, ৬ মার্চ ২০১০।
হার্ট এটাকের যেসব উপসর্গ সেগুলো অনেকেই এখন জানেন, চিনতেও পারেন। ০ বুকব্যথা ০ শ্বাসকষ্ট ০ ঘাড়, পিঠ, চোয়াল ও হাত দিয়ে বেয়ে যাওয়া ব্যথা। এরপরও কথা আছে।
হৃদরোগ বলতে এখানে রক্তপ্রবাহ ব্যাঘাতজনিত হৃদরোগ বলা হচ্ছে। এ ধরনের রোগীদের আমরা চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। তার সাথে ধূমপানও বন্ধ করতে বলি। অনেক রোগী কি খাবেন, কি খাবেন না এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।
বেঁটে মানুষদের জন্য একটি দুঃসংবাদ জানিয়েছেন দুই গবেষক। তাদের মতে, লম্বাদের তুলনায় বেঁটে মানুষদের করোনারি হার্ট ডিজিজ (coronery heart disease) হওয়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশ বেশি থাকে। যে রক্তনালীর মাধ্যমে হৃৎপিন্ড পুষ্টি নেয় সেখানে চর্বির আধিক্যে হৃৎপিন্ডে অপেক্ষাকৃত কম রক্ত প্রবাহিত হয়। কানাডিয়ান একজন যার উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি তার হৃদরোগের আশঙ্কা একজন ৬ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট লোকের চেয়ে বেশি।
করোনারি হৃদরোগ বেশ কয়েকটি কারণে হতে পারে। সুতরাং এসব কারণের ভেতর থেকে মাত্র একটি কারণের চিকিৎসা করলে সফলতা লাভ করা সম্ভব নয়। যদি একটা কারণকে শেষ করে ভাল পরিণাম পেতে হয়, তাহলে সেই কারণের পেছনের লুকিয়ে থাকা সমস্যাকে পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সাধারণত রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ণয় করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা রক্তের তিনটি প্রোটিন পরীক্ষা বা পরিমাপের মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে হৃদরোগ নির্ণয় করা সম্ভব বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় গবেষক ডা: আর্থার জেমস একে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে স্বীকার করলেও হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন, প্রোটিন পরীক্ষার পরামর্শ দেয়ার আগে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। মোট ১৩টি হাসপাতালের ১ হাজার ৪৫ জন রোগীর রক্তের প্রোটিন এপো-এ, এপো-বি এবং ডি-ডিমার পেঁপে গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে এসেছেন।
রক্ত ধমনী বা রক্তনালীতে প্রবাহকালে রক্তনালীর গায়ে চাপ প্রয়োগ করে, এটাই রক্তচাপ। রক্তচাপ মাপার মেশিন দিয়ে এটা পরিমাপ করা হয়। হৃৎপিন্ড সঙ্কোচনের সময় সর্বোচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় সিসটোলিক ব্লাড প্রেসার এবং হৃৎপিন্ডের সম্প্রসারণের সময় সর্বনিম্ন রক্তচাপকে বলা হয় ডায়াসটোলিক ব্লাড প্রেসার। একজন সুস্হ মানুষের রক্তচাপ ১২০/৮০ এর কাছাকাছি থাকে। সিসটোলিক প্রেসার ১২১ থেকে ১৩৯ পর্যন্ত এবং ডায়াসটোলি ৮১ থেকে ৮৯ পর্যন্ত প্রি হাইপারটেনশন আসন্ন উচ্চ রক্তচাপ
বেঁটে মানুষের মানসিক যন্ত্রণার শেষ নেই। ছেলেমেয়ে উভয়েই এ যন্ত্রণার শিকার। বিশেষ সময়ে বন্ধু-বান্ধব যখন সবাই লম্বা হয়ে যায়, তখনই বেঁটে মানুষের যন্ত্রণাটা শুরু হয়। ঠাট্টা করে বন্ধুরাও বেঁটেদের নানা নামে ডাকে। আবার বিয়ের বয়স হলে পাত্রী দেখা নিয়ে বেঁটে পুরুষদের যন্ত্রণার তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। অথচ বেঁটে হওয়ার এমন কিছু কারণ আছে যেগুলো সময়মত চিকিৎসা করালে বেঁটে হওয়ার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া যেত। সেক্ষেত্রে মা-বাবারই করণীয় থাকে। অবশ্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বংশগত কারণে এমনটি হয়ে থাকে।
(Page 1 of 5)   
« Prev
  
1
  2  3  4  5  Next »

Categories