স্বাস্থ্যকথা

হৃৎযন্ত্র, রক্ত ও রক্তসংবহনতন্ত্র

(Page 3 of 5)   « Prev  1  2  
3
  4  5  Next »
‘কের্সেটিন’ অন্ত্র ও যকৃতের কার্যকারিতায় খুব কম সময়ে শরীরে শোষিত হয়। যে কারণে এর উপস্থিতি মানব দেহের রক্তে পাওয়া যায়নি। এ ধরনের গবেষণার পর গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেন, রক্তপ্রবাহে কের্সেটিন প্রবেশ করার পরই এটি বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে শোষিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কম মাত্রায় এ ধরনের যৌগসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে এর প্রভাব বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধরনের খাবার গ্রহণের ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমে আসে।
হৃদরোগ আর কোলেস্টেরল এ দুটো শব্দের সাথে আমরা সবাই কমবেশী পরিচিত। বলা যায়, এ দুটো শব্দ একে অপরের পরিপূরক। একটি ছাড়া আরেকটি প্রায় অসম্পূর্ণ। হ্নদরোগ বা হার্টের যে কোন রোগের অন্যতম প্রধান কারণ দেহে কোলেস্টেরোলের আধিক্য, অত্যধিক দুশ্চিন্তা ও অতিমাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ। ডিমের কুসুম, যকৃত, মস্তিষ্ক, চর্বিযুক্ত মাংস, দুগ্ধ, চিংড়ি প্রভৃতিতে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরোল রয়েছে। সাধারণত মানবদেহে ১০০ মিঃলিঃ রক্তে ১৫০-২০০ মিঃলিঃ কোলেস্টেরল থাকে।
ধূমপায়ীদের শতকরা ৫০ ভাগ ধূমপানজনিত জটিলতায় মারা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, অধূমপায়ীর তুলনায় ধূমপায়ীর মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ৭০ ভাগ বেশি এবং ধূমপানজনিত কারণে কম বয়সীরা বয়স্কদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। যদিও ধূমপায়ী নারীর মৃত্যুহার পুরুষের তুলনায় কম, কিন্তু এই হার দিন দিনই বাড়ছে। আমেরিকায় মৃত্যুঝুঁকির সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে ধূমপান। আর ধূমপানজনিত কারণে প্রতিবছর সেখানে মারা যায় প্রায় পাঁচ লাখ লোক। প্রতি পাঁচজনে একটি মৃত্যুর কারণ হচ্ছে ধূমপান।
এইডস (একুয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েনসি সিনড্রোম) রোগের জীবাণুর নাম এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েনসি ভাইরাস)। এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি আনেক দিন সুস্থ থাকতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা হ্রাসের কারণে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যুই তার জীবনের সর্বশেষ পরিণতি হয়ে থাকে।
মানসিক চাপ হাইপারটেনশন রোগের কারণ হতে পারে। বার্মিংহাম এলাবামা স্কুল অব মেডিসিনের একদল বিশেষজ্ঞ এই মত প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞরা প্রায় একহাজার একশত তেইশ জন নারী-পুরুষের মধ্যে এক জরিপ চালিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
যেহেতু সিগারেট-এর তামাক পাতায় এমন সমস্ত বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে সেইহেতু যারা ধূমপান করেন তারা অধূমপায়ীদের তুলনায় নাকের ঘ্রাণ ও জিহবার স্বাদ কম অনুভব করেন। যতই তারা ধূমপানে আসক্ত হতে থাকেন ততই ধূমপায়ীদের ঘ্রাণ ও স্বাদ গ্রহণের স্বাভাবিক শক্তি হারাতে থাকেন এবং তিতে, নোন্‌তা ও মিষ্টি খাবারের স্বাদ কম অনুভব করেন। ফলশ্রুতিতে ধূমপায়ীরা অধিক লবণ খেতে শুরু করেন এবং উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন-এর শিকার হন।
বাড়িতে বসে রক্তচাপ জানুন ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগের উদ্যোগে ২০০৫ সাল থেকে প্রতিবছর ১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালিত হয়ে আসছে। এর লক্ষ্য হলো উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘বাড়িতে বসে আপনার রক্তচাপ জানুন’।
প্রতিবছর ৮ মে খুব প্রচার-প্রপাগান্ডার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। বড় বড় পোস্টার শোভা পায় দেয়ালে দেয়ালে। যার মধ্যে লেখা থাকে-বাংলাদেশে এক কোটিরও বেশি থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক আছে। শোভাযাত্রা হয় সুন্দর সুন্দর টুপি আর গেঞ্জি পরে। কিছু অঙ্গীকার করা হয় এই রোগ প্রতিকারের। ফিবছর আবার ঘুরে আসে ৮ মে আরও কিছু থ্যালাসেমিয়ার নতুন বাহক নিয়ে। এভাবেই চলছে থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ নিয়ে সামাজিক আন্দোলন।
হার্টের উপরিভাগে লেপ্টে থাকে করোনারি আর্টারি বা ধমনী, যার মাধ্যমে হার্ট পুষ্টি এবং অক্সিজেন পায়। যখন করোনারি ধমনীতে চর্বি জমে এবং রক্ত জমাট বেঁধে (শতকরা ১০০ ভাগ) রক্তনালীর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখন ওই রক্তনালীর মাধ্যমে হার্টের যে অংশটুকু পুষ্টি ও অক্সিজেন পেত সেই মাংসপেশিটুকুতে নানারকম পরিবর্তন সাধিত হয়। যাকে আমরা হার্টঅ্যাটাক বলি, মেডিকেল পরিভাষায় বলা হয় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। যদিও হার্টঅ্যাটাক হঠাৎ করেই হয় কিন্তু এটি দীর্ঘদিন ধরে করোনারি ধমনীতে অ্যাথেরোসক্লেরোটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি চলমান রোগ প্রক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ। তাই মারাত্মক এই রোগটিকে কখনো কখনো নিঃশব্দ আততায়ী বলা হয়। তবে সময়মত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসায় রোগী ফিরে পেতে পারে নতুন জীবন।
প্রতি বছর গরম আরও বেড়ে চলেছে। পৃথিবী উষ্ণতর হচ্ছে। কিন্তু মানবদেহে অভ্যন্তরীণভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে গেলেও শরীর চেষ্টা করে নিজের তাপমাত্রা বজায় রাখতে। তখন শরীর ঘামতে শুরু করে। ঘাম বাষ্পীভূত হয়ে উবে গিয়ে শরীরকে শীতল করে। কিন্তু শরীরে যথেষ্ট পানি সঞ্চিত না থাকলে সমস্যা হয়। আর্দ্রতা বাড়লে শরীর গরম হতে থাকে। আর ঘামের উবে যাওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে শরীর আরো গরম হয়, আর শরীর গরম হলেই হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা রয়েছে।
(Page 3 of 5)   « Prev  1  2  
3
  4  5  Next »

Categories