স্বাস্থ্যকথা

হৃৎযন্ত্র, রক্ত ও রক্তসংবহনতন্ত্র

(Page 4 of 5)   « Prev  1  2  3  
4
  5  Next »
যাপিত জীবনে মানুষের অসুখের কথাই বেশি শোনা হয়। সুখের ঘটনা অবশ্য ঘটেও কম এবং আমার যে পেশা এতে মানুষ অসুখের কথা শোনানোই বেশি যৌক্তিক মনে করেন। কথাটি ঠিকও।
ডায়াবেটিস মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো হার্ট অ্যাটাক। ডায়াবেটিস মানব দেহের প্রাচীনতম রোগগুলির মধ্যে অন্যতম। আরোটিয়াস ১৫০ খৃৃষ্টাব্দে এ রোগের নাম দেন ডায়াবেটিস, যার অর্থ সাইফন। তার মতে এ রোগে রোগীর ওজন কমে যায় ও পচনশীল ঘা হয়। ১৯০৯ সালে ডি মেয়ার অগ্ন্যাশয়ের হরমোনকে ইনসুলিন নামকরণ করেন। ডায়াবেটিস হলে ইনসুলিন তৈরি করার ক্ষমতা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় অথবা পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন তৈরিতে ব্যর্থ হয় নতুবা পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি হলেও ইনসুলিন তার কাজ করতে পারে না। ১৯৮৬ সালে মার্কুনে ঈষ্ট থেকে জৈব সংশেস্নষণ করে হিউমেন ইনসুলিন তৈরী করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। চলতি শতাব্দীর গোড়ার দিক পর্যন্ত বহু লোক মৃত্যুবরণ করেছেন এই নীরব ঘাতক ব্যাধির আক্রমণে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে যথেষ্ট তথ্য ইতিমধ্যে আবিষ্কৃত হয়েছে, ফলে ডায়াবেটিসে মৃত্যুর হার অনেক কমে গিয়েছে।
একটি জ্নগত, বংশগত রক্তরোগ, যা মা-বাবার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে জিনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। জিন হচ্ছে এক ধরনের প্রোটিন। মানুষের গায়ের রং, চুল, সর্বোপরি পূর্ণতা প্রাপ্তিতে যা কিছু দরকার, সবই এই জিনের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত হয়ে থাকে। ৩০ শতাংশ হিমোফিলিয়া রোগীর ক্ষেত্রে মা-বাবার কাছ থেকে সঞ্চালিত হওয়ার কোনো কারণ থাকে না। সেসব ক্ষেত্রে রোগীর নিজের মধ্যে জিনের পরিবর্তনের ফলেই এ রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
হার্টের ভাল্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা পরিষ্কার নয়। অনেকে মনে করেন ভাল্ব হার্টের শক্তির উৎস, এটা হার্টকে শক্তি জোগায়। কাজেই ভাল্ব দুর্বল হলে তা পরিবর্তন করে নিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আসলে হার্টের ভাল্ব ব্যাটারি বা আলো জাতীয় কিছু নয়, এগুলো অনেকটা একমুখী দরজার মতো যা এক দিকে খোলে এবং বিপরীত দিকে বন্ধ হয়। আপনারা পানির লাইনে ভাল্ব দেখেছেন যা পানির চলার দিক নিয়ন্ত্রণ করে। এই ভাল্বগুলো পানি চলতে সাহায্য করে কিন্তু ফিরে আসতে বাধা দেয়। হার্টের ভাল্বগুলো ঠিক একইভাবে হার্টের ভেতরে রক্ত চলার দিক নিয়ন্ত্রণ করে।
যখন কোনো জীবাণু মানবদেহে প্রবশে করে তখন শরীরে যে অসুস্থতা দেখা দেয় তাকে রক্তদুষ্টি বলা হয়। রক্তদুষ্টির সাথে যদি কোনো অঙ্গের রক্ত চলাচল কমে যায় কিংবা তার কার্যকারিতাতে অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পায় তবে তাকে তীব্র রক্তদুষ্টি বলা হয়ে থাকে। যখন রক্তদুষ্টির সাথে শরীরে রক্তচাপ কমে যায় তখন তাকে রক্তদুষ্টিজনিত অবসাদ বলা হয়ে থাকে।
হার্ট অ্যাটাক এমন এক হৃদয় সমস্যা যা যেকোনো সময় এতটুকু পূর্বাভাস না দিয়ে, একটুও সময় না দিয়ে কেড়ে নিতে পারে যেকোনো মানুষের জীবন। বাংলাদেশে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের হার্টের সমস্যা আছে এবং প্রতি ১ হাজার জনের একজন হার্টের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট ১৮ মার্চ ঢাকায় এক বিবৃতিতে একথা জানায়। সাম্প্রতিক এক জরিপের উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, হার্টের সমস্যা ধীরে ধীরে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে। ফলে প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লোক উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যার অর্ধেকই মারা যায় হার্টের রোগে ও স্ট্রোকে।
কী কী পরীক্ষা করা উচিত হার্টঅ্যাটাকের পর রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী নিয়মিত ইসিজি ফলোআপ, ইকোকার্ডিওগ্রাফি এবং ইটিটি করানো উচিত। প্রয়োজনবোধে ক্টে এমপিআই বা থ্যালিয়াম স্টক্ষ্যানিং করানো যেতে পারে। উপরোক্ত পরীক্ষার আলোকে কখনো কখনো করোনারি অ্যানজিওগ্রামও করা হয়ে থাকে।
লিভার সিরোসিসের রোগীদের কি পাইলস বেশি হয়? লিভার সিরোসিসে সাধারণত রক্তবমি হয়। পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়ার সমস্যা কম। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের কারণে রোগীদের পাইলস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে না। অবশ্য এ ক্ষেত্রে পায়ুপথে অতিরিক্ত ফুলে ওঠা শিরার (জবপঃধষ াধৎরপবং) দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু এটিকে পাইলসের পর্যায়ে ফেলা যায় না।

হার্টের উপরিভাগে লেপ্টে থাকে করোনারি আর্টারি বা ধমনী, যার মাধ্যমে হার্ট পুষ্টি এবং অক্সিজেন পায়। যখন করোনারি ধমনীতে চর্বি জমে এবং রক্ত জমাট বেঁধে (শতকরা ১০০ ভাগ) রক্তনালীর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখন উক্ত রক্তনালীর মাধ্যমে হার্টের যে অংশটুকু পুষ্টি এবং অক্সিজেন পেত সেই মাংসপেশিটুকুতে নানারকম পরিবর্তন সাধিত হয়, যাকে আমরা হার্টঅ্যাটাক বলি। মেডিকেল পরিভাষায় বলা হয় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। যদিও হার্টঅ্যাটাক হঠাৎ করেই হয় কিন্তু এটি দীর্ঘদিন ধরে করোনারি ধমনীতে অ্যাথেরোসক্লেরোটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি চলমান রোগ প্রক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ। তাই মারাত্মক এই রোগটিকে কখনো কখনো নিঃশব্দ আততায়ী বলা হয়। তবে সময়মত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসায় রোগী ফিরে পেতে পারে নতুন জীবন।

রসুন, পেঁয়াজ এবং অন্যান্য ঝাঁঝালো সবজি অনেক ক্ষেত্রেই বেশ উপকারী। ক্যাসার গবেষকদের মতে রসুন ও পেঁয়াজ নিয়মিত খেলে পুরুষরা প্রষ্টেট ক্যাসারের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে। চীন দেশের গবেষকরা এ ব্যাপারে আরো উচ্চকিত। তারা বলেন, যারা প্রত্যহ ১০ গ্রামের অধিক পরিমাণে রসুন, পেঁয়াজ বা অন্যান্য ঝাঁঝালো স্বাদের সবজি খেয়ে আসছেন, তাদের প্রষ্টেট ক্যাসার হওয়ার ঝুঁকি যারা প্রত্যহ ২.২ গ্রামের কম খাচ্ছেন তাদের অর্ধেক (৫০%)।
(Page 4 of 5)   « Prev  1  2  3  
4
  5  Next »

Categories